আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৩. তালাক - লি'আনের অধ্যায়

হাদীস নং: ১১৯১
আন্তর্জাতিক নং: ১১৯১
তালাক - লি'আনের অধ্যায়
বুদ্ধিভ্রষ্ট ব্যক্তির তালাক।
১১৯৩. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ....... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, সকলের তালাকই প্রযোজ্য কিন্তু মাতুহ অর্থাৎ যে ব্যক্তি বুদ্ধি ভ্রষ্ট তার তালাক প্রযোজ্য নয়।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আতা ইবনে আজলান-এর সনদ ছাড়া এই হাদীসটি মারফূ’রূপে বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নাই। আর আতা ইবনে আজলান হলেন যঈফ। হাদীস বিস্মৃতির শিকার। সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণের এই হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে। তাঁরা বলেন, মা’তূহের অর্থাৎ বুদ্ধিভ্রষ্ট লোকের তালাক কার্যকর নয়। কিন্তু যদি মা’তূহ এমন হয় যে, মাঝে মাঝে তার বুদ্ধি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, তবে তার সুস্থতার সময়ের তালাক কার্যকর হবে।
أبواب الطلاق واللعان عن رسول الله ﷺ
باب مَا جَاءَ فِي طَلاَقِ الْمَعْتُوهِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ، أَنْبَأَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْفَزَارِيُّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ خَالِدٍ الْمَخْزُومِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كُلُّ طَلاَقٍ جَائِزٌ إِلاَّ طَلاَقَ الْمَعْتُوهِ الْمَغْلُوبِ عَلَى عَقْلِهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ لاَ نَعْرِفُهُ مَرْفُوعًا إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عَطَاءِ بْنِ عَجْلاَنَ . وَعَطَاءُ بْنُ عَجْلاَنَ ضَعِيفٌ ذَاهِبُ الْحَدِيثِ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ أَنَّ طَلاَقَ الْمَعْتُوهِ الْمَغْلُوبِ عَلَى عَقْلِهِ لاَ يَجُوزُ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ مَعْتُوهًا يُفِيقُ الأَحْيَانَ فَيُطَلِّقُ فِي حَالِ إِفَاقَتِهِ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এখনো এরূপ হয়ে থাকে যে, কোন রোগ-ব্যাধি বা দুর্বিপাকের কারণে মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি ভারসাম্যহীন ও লোপ পেয়ে যায়। আর সে এমন সব কথা বলতে থাকে যা সঠিক জ্ঞান-বুদ্ধির সময়ে বলে না। অথচ নিজের কথা সম্বন্ধে তার পূর্ণ অনুভূতিও থাকে না। এরূপ ব্যক্তিকে معتوه তথা বুদ্ধি লোপপ্রাপ্ত বলা হয়। সুতরাং এরূপ ব্যক্তি যদি এ অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দেয় তবে তা পতিত হবে না। যেভাবে পাগলের তালাক পতিত বলে গৃহীত নয়।

অন্য এক হাদীসে বলা হয়েছে, শরীয়তে তিন ব্যক্তি مرفوع العقل (বুদ্ধি বর্জিত) হিসাবে গণ্য। অর্থাৎ তাদের কোন কথা ও কাজ ধর্তব্য হিসাবে গণ্য করা হবে না এবং তাদের ওপর শরীয়তের নির্দেশ প্রযোজ্য হবে না। ১. নিদ্রিত ব্যক্তি, ২. অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশু ও ৩. জ্ঞান লুপ্ত ব্যক্তি। এতে বুঝা গেল যে, কোন ব্যক্তি যদি নিদ্রিতাবস্থায় কথা বলে এবং সে সময় স্ত্রীকে তালাক দেয় তবে এ তালাক পতিত হবে না। এভাবে ছোট শিশু ও জ্ঞান লুপ্ত ব্যক্তির তালাকও পতিত হবে না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান