আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
১৪. ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যাবসা-বাণিজ্যের অধ্যায়
হাদীস নং: ১২৪৭
আন্তর্জাতিক নং: ১২৪৭
ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যাবসা-বাণিজ্যের অধ্যায়
ক্রেতা ও বিক্রেতা পৃথক না হওয়া পর্যন্ত উভয়েরই (বিক্রি সম্পাদন করা না করার) ইখতিয়ার থাকে।
১২৫০. কুতায়বা (রাহঃ) ..... আমর ইবনে শুআয়ব তাঁর পিতা তার পিতামহ আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েরই ইখতিয়ার আছে যতক্ষণ না তারা পৃথক হয়েছে। কিন্তু খিয়ার চুক্তি থাকলে ভিন্ন কথা। সুতরাং ক্রয় বা বিক্রি চুক্তি প্রত্যাহার করে ফেলবে এই আশঙ্কায় এক পক্ষের জন্য তার সঙ্গী থেকে পৃথক হওয়া হালাল নয়।
ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান। এটির মর্ম হলো, বিক্রি বা ক্রয় প্রত্যাহার করে ফেলতে পারে এ আশঙ্কায় পৃথক হওয়া বৈধ নয়। পূথক হওয়ার অর্থ যদি বাচনিক পৃথক হওয়া হয়, তবে বিক্রির পর ইখতিয়ার থাকার বিষয় থাকত না এবং এই হাদীসটিরও কোন অর্থ হত না- যেখানে এ কথা হয়েছে যে, প্রত্যাহার আশঙ্কায় পৃথক হওয়া বৈধ নয়।
ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান। এটির মর্ম হলো, বিক্রি বা ক্রয় প্রত্যাহার করে ফেলতে পারে এ আশঙ্কায় পৃথক হওয়া বৈধ নয়। পূথক হওয়ার অর্থ যদি বাচনিক পৃথক হওয়া হয়, তবে বিক্রির পর ইখতিয়ার থাকার বিষয় থাকত না এবং এই হাদীসটিরও কোন অর্থ হত না- যেখানে এ কথা হয়েছে যে, প্রত্যাহার আশঙ্কায় পৃথক হওয়া বৈধ নয়।
أبواب البيوع عن رسول الله ﷺ
باب مَا جَاءَ فِي الْبَيِّعَيْنِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا
أَخْبَرَنَا بِذَلِكَ، قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا إِلاَّ أَنْ تَكُونَ صَفْقَةَ خِيَارٍ وَلاَ يَحِلُّ لَهُ أَنْ يُفَارِقَ صَاحِبَهُ خَشْيَةَ أَنْ يَسْتَقِيلَهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَمَعْنَى هَذَا أَنْ يُفَارِقَهُ بَعْدَ الْبَيْعِ خَشْيَةَ أَنْ يَسْتَقِيلَهُ وَلَوْ كَانَتِ الْفُرْقَةُ بِالْكَلاَمِ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ خِيَارٌ بَعْدَ الْبَيْعِ لَمْ يَكُنْ لِهَذَا الْحَدِيثِ مَعْنًى حَيْثُ قَالَ صلى الله عليه وسلم " وَلاَ يَحِلُّ لَهُ أَنْ يُفَارِقَهُ خَشْيَةَ أَنْ يَسْتَقِيلَهُ " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
উদ্দেশ্য এই যে, যদি কোন পক্ষ হতেই ক্রয়-বিক্রয় বাতিল করার শর্তযুক্ত না করা হয় তবে ক্রয়-বিক্রয় বাতিল করার ক্ষমতা কেবল তখন পর্যন্ত থাকে যতক্ষণ উভয় পক্ষ পৃথক না হয়।
ইমাম শাফিঈ ও তাঁর সাথে ঐকমত্য পোষণকারী উলামা আলোচ্য হাদীসের শব্দ مَا لَمْ يَتَفَرَّقا দ্বারা খিয়ারে মজলিস বুঝেছেন। আর ইমাম আবু হানীফা (র) প্রমুখের নিকট এর অর্থ হচ্ছে- যতক্ষণ পর্যন্ত কথাবার্তা সম্পূর্ণ শেষ না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত প্রত্যেক পক্ষের ক্ষমতা রয়েছে অগ্রিম ফিরিয়ে নেবে। এরপর বাতিল করার কারো ক্ষমতা থাকবে না। তিনি «يَتَفَرَّقًا» শব্দ দ্বারা বিক্রয়স্থল থেকে পৃথক হওয়া নয় বরং লেনদেন ও কথাবার্তা থেকে পৃথক হওয়া ও সরে যাওয়া বুঝেছেন। যেমন কুরআন মজীদে এ শব্দই অনুরূপ অর্থে وَإِنْ يَتَفَرَّقَا يُغْنِ اللَّهُ كُلًّا مِنْ سَعَتِهِ তালাকের বিষয়ে ব্যবহৃত করা হয়েছে।
ইমাম শাফিঈ ও তাঁর সাথে ঐকমত্য পোষণকারী উলামা আলোচ্য হাদীসের শব্দ مَا لَمْ يَتَفَرَّقا দ্বারা খিয়ারে মজলিস বুঝেছেন। আর ইমাম আবু হানীফা (র) প্রমুখের নিকট এর অর্থ হচ্ছে- যতক্ষণ পর্যন্ত কথাবার্তা সম্পূর্ণ শেষ না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত প্রত্যেক পক্ষের ক্ষমতা রয়েছে অগ্রিম ফিরিয়ে নেবে। এরপর বাতিল করার কারো ক্ষমতা থাকবে না। তিনি «يَتَفَرَّقًا» শব্দ দ্বারা বিক্রয়স্থল থেকে পৃথক হওয়া নয় বরং লেনদেন ও কথাবার্তা থেকে পৃথক হওয়া ও সরে যাওয়া বুঝেছেন। যেমন কুরআন মজীদে এ শব্দই অনুরূপ অর্থে وَإِنْ يَتَفَرَّقَا يُغْنِ اللَّهُ كُلًّا مِنْ سَعَتِهِ তালাকের বিষয়ে ব্যবহৃত করা হয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)