আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
১৪. ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যাবসা-বাণিজ্যের অধ্যায়
হাদীস নং: ১২৬৫
আন্তর্জাতিক নং: ১২৬৫
ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যাবসা-বাণিজ্যের অধ্যায়
আরিয়া বা ব্যবহারের উদ্দেশ্যে গৃহীত বস্তু অবশ্যই ফিরিয়ে দিতে হবে।
১২৬৮. হান্নাদ ও আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) .... আবু উমামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিদায় হজ্জের বছরে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে তাঁর খুতবায় বলতে শুনেছি যে, আরিয়া তার মালিকের নিকট ফিরিয়ে দিতে হবে, যামিনদার প্রাপ্য পরিশোধের যিম্মাদার হবে, আর ঋণ অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। - ইবনে মাজাহ
এই বিষয়ে সামূরা, সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া ও আনাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু উমামা (রাযিঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান-গারীব। এ সূত্র ছাড়াও আবু উমামা (রাযিঃ)-এর বরাতে নবী থেকে এ হাদীসটি বর্ণিত আছে।
এই বিষয়ে সামূরা, সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া ও আনাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু উমামা (রাযিঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান-গারীব। এ সূত্র ছাড়াও আবু উমামা (রাযিঃ)-এর বরাতে নবী থেকে এ হাদীসটি বর্ণিত আছে।
أبواب البيوع عن رسول الله ﷺ
باب مَا جَاءَ فِي أَنَّ الْعَارِيَةَ مُؤَدَّاةٌ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، وَعَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ شُرَحْبِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ الْخَوْلاَنِيِّ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي خُطْبَتِهِ عَامَ حَجَّةِ الْوَدَاعِ " الْعَارِيَةُ مُؤَدَّاةٌ وَالزَّعِيمُ غَارِمٌ وَالدَّيْنُ مَقْضِيٌّ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ سَمُرَةَ وَصَفْوَانَ بْنِ أُمَيَّةَ وَأَنَسٍ . قَالَ وَحَدِيثُ أَبِي أُمَامَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَيْضًا مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আলোচ্য হাদীসে শরী'আতের চারটি নির্দেশ বর্ণনা করা হয়েছে।
১. যদি নিজের প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য কারো কোন জিনিস কর্জ হিসাবে গ্রহণ করা হয় তবে তা ফেরত প্রদান অবশ্যম্ভাবী। এতে আলস্য না করা উচিত।
২. দ্বিতীয় নির্দেশ এই যে, ‘মিনহা’ ফেরত প্রদান আবশ্যক। আরবে প্রচলন ছিল যে, সম্পদশালী প্রশান্ত হৃদয়ের অধিকারী লোকজন নিজের কর্তৃত্বাধীন কোন জিনিস উপকৃত হওয়ার জন্য অন্য কোন ব্যক্তিকে দিত। যেমন আরোহণের জন্য উট অথবা দুধ পানের জন্য উটনী ও ছাগী এ শর্তে দিত যে, এটা নিজের নিকট রেখে একে পানাহার করায়ে উপকৃত হও। কিম্বা ফল খাওয়ার জন্য নিজের বাগান বা কৃষি কাজের জন্য জমি বিনিময় ছাড়াই দিত। এটাকে 'মিনহা' বলা হত। এ বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাকে 'মিনহা' হিসাবে কোন জিনিস দেওয়া হয় সে তা নিজের মনে করবে না, বরং প্রচলিত পদ্ধতি অনুযায়ী উপকৃত হওয়ার পর প্রকৃত মালিককে ফেরত প্রদান করবে। নিঃসন্দেহে এ প্রচলন খুবই কল্যাণকর ছিল। কিছুদিন পূর্বে আমাদের অঞ্চলেও এ প্রথা ছিল। বর্তমানে এ জাতীয় সব বৈশিষ্ট্য ও উত্তম প্রথা বিলীন হতে চলছে। এখন ব্যক্তিস্বার্থ ও নিজে বাঁচ যুগ চলেছে। অভিযোগ কেবল আল্লাহর নিকটই।
(১৯৮০ সালেও অনুবাদকের এলাকায় দুধ খাওয়ার জন্য গাভী এবং হাল চাষের জন্য বলদ গরীব আত্মীয়স্বজনকে ফেরত প্রদানের শর্তে দেওয়া হত)।
৩. এ হাদীসে তৃতীয় নির্দেশ এই করা হয়েছে যে, কেউ যদি কারো নিকট থেকে কর্জ গ্রহণ করে তা পরিশোধে সে সচেষ্ট হবে। (কর্জ পরিশোধের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর শক্ত তাকিদ ও ভীতিপূর্ণ বাণী এ মা'আরিফুল হাদীসেরই কর্জ অধ্যায়ের অধীনে পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে)।
৪. চতুর্থ নির্দেশ এই বর্ণনা করা হয়েছে, কারো জিম্মায় যদি অন্য কারো কর্জ অথবা কোন প্রকার আর্থিক দাবি থাকে এবং কেউ এর যামিনদার হয় তবে আদায়ের ব্যাপারে সে জিম্মাদার। অর্থাৎ যদি প্রকৃত কর্জ গ্রহীতা পরিশোধ না করে তবে যামিনদারকে পরিশোধ করতে হবে।
১. যদি নিজের প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য কারো কোন জিনিস কর্জ হিসাবে গ্রহণ করা হয় তবে তা ফেরত প্রদান অবশ্যম্ভাবী। এতে আলস্য না করা উচিত।
২. দ্বিতীয় নির্দেশ এই যে, ‘মিনহা’ ফেরত প্রদান আবশ্যক। আরবে প্রচলন ছিল যে, সম্পদশালী প্রশান্ত হৃদয়ের অধিকারী লোকজন নিজের কর্তৃত্বাধীন কোন জিনিস উপকৃত হওয়ার জন্য অন্য কোন ব্যক্তিকে দিত। যেমন আরোহণের জন্য উট অথবা দুধ পানের জন্য উটনী ও ছাগী এ শর্তে দিত যে, এটা নিজের নিকট রেখে একে পানাহার করায়ে উপকৃত হও। কিম্বা ফল খাওয়ার জন্য নিজের বাগান বা কৃষি কাজের জন্য জমি বিনিময় ছাড়াই দিত। এটাকে 'মিনহা' বলা হত। এ বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাকে 'মিনহা' হিসাবে কোন জিনিস দেওয়া হয় সে তা নিজের মনে করবে না, বরং প্রচলিত পদ্ধতি অনুযায়ী উপকৃত হওয়ার পর প্রকৃত মালিককে ফেরত প্রদান করবে। নিঃসন্দেহে এ প্রচলন খুবই কল্যাণকর ছিল। কিছুদিন পূর্বে আমাদের অঞ্চলেও এ প্রথা ছিল। বর্তমানে এ জাতীয় সব বৈশিষ্ট্য ও উত্তম প্রথা বিলীন হতে চলছে। এখন ব্যক্তিস্বার্থ ও নিজে বাঁচ যুগ চলেছে। অভিযোগ কেবল আল্লাহর নিকটই।
(১৯৮০ সালেও অনুবাদকের এলাকায় দুধ খাওয়ার জন্য গাভী এবং হাল চাষের জন্য বলদ গরীব আত্মীয়স্বজনকে ফেরত প্রদানের শর্তে দেওয়া হত)।
৩. এ হাদীসে তৃতীয় নির্দেশ এই করা হয়েছে যে, কেউ যদি কারো নিকট থেকে কর্জ গ্রহণ করে তা পরিশোধে সে সচেষ্ট হবে। (কর্জ পরিশোধের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর শক্ত তাকিদ ও ভীতিপূর্ণ বাণী এ মা'আরিফুল হাদীসেরই কর্জ অধ্যায়ের অধীনে পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে)।
৪. চতুর্থ নির্দেশ এই বর্ণনা করা হয়েছে, কারো জিম্মায় যদি অন্য কারো কর্জ অথবা কোন প্রকার আর্থিক দাবি থাকে এবং কেউ এর যামিনদার হয় তবে আদায়ের ব্যাপারে সে জিম্মাদার। অর্থাৎ যদি প্রকৃত কর্জ গ্রহীতা পরিশোধ না করে তবে যামিনদারকে পরিশোধ করতে হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: