আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৫. শাসনকার্য পরিচালনা ও আদালত-বিচার অধ্যায়

হাদীস নং: ১৩২৬
আন্তর্জাতিক নং: ১৩২৬
শাসনকার্য পরিচালনা ও আদালত-বিচার অধ্যায়
কাযী বা বিচারক ঠিকও করতে পারেন ভুলও করতে পারেন।
১৩৩০. হুসাইন ইবনে মাহদী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কোন বিচারক যখন বিচার কার্য করে এবং এই বিষয়ে সে চূড়ান্ত প্রয়াস পায় আর এতে যদি তার রায় সঠিক হয় তবে তার জন্য হল দুইটি সাওয়াব। আর যদি সে বিচারে ভুল করে তবে তার জন্য হল একটি সাওয়াব। - ইবনে মাজাহ ২৩১৪, নাসাঈ,

এই বিষয়ে আমর ইবনুল আস, উকবা ইবনে আমির (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি এই সূত্রে হাসান-গারীব। আব্দুর রাযযাক মা‘মার (রাহঃ) সূত্র ছাড়া সুফিয়ান ছাওরী ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ)- এর রিওয়ায়াত হিসাবে আমরা এটি সম্পর্কে পরিচিত নই।
كتاب الأحكام عن رسول الله ﷺ
باب مَا جَاءَ فِي الْقَاضِي يُصِيبُ وَيُخْطِئُ
حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مَهْدِيٍّ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا حَكَمَ الْحَاكِمُ فَاجْتَهَدَ فَأَصَابَ فَلَهُ أَجْرَانِ وَإِذَا حَكَمَ فَأَخْطَأَ فَلَهُ أَجْرٌ وَاحِدٌ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِي وَعُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . لاَ نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الرَّزَّاقِ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীস থেকে একটি বড় মূলনীতি এই জানা গেল যে, যদি হাকিম ও মুজতাহিদ কোন বিষয় ও মাসআলায় সত্যকে জানার যথাসাধ্য চেষ্টা করে, তখন সে যদি সঠিক পরিণতিতে পৌঁছতে সক্ষম না হয় তবু সে আল্লাহর নিকট প্রতিদান ও পুরস্কারের যোগ্য হবে। কেননা, সত্য ও সঠিক বিষয় জানার তার নিয়ত ছিল। আর এ জন্য যে চিন্তা-ভাবনা, পরিশ্রম ও চেষ্টা করেছে। এজন্য সে আদিষ্ট ছিল। তবে একথা সুস্পষ্ট যে, এর সম্পর্ক এ বিষয়ে যোগ্য লোকদের সাথে রয়েছে। অযোগ্য লোকদের ইজতিহাদ করার কেউই অনুমতি দিতে পারে না।

যে ব্যক্তি প্রাচীন বা আধুনিক চিকিৎসা বিদ্যা অর্জন করেনি, সে যদি চিকিৎসালয় খুলে বসে যায় এবং রোগীদের চিকিৎসা করে তবে সে অপরাধী ও জেলখানার যোগ্য হবে। আমাদের ভাষায় যথার্থ উপমা হচ্ছে- "অর্ধ চিকিৎসক প্রাণের শংকা আর অর্ধ মোল্লা ঈমানের শংকা।" অন্য হাদীসে বিশদভাবে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও যোগ্যতা ছাড়া ফায়সালা করে, সে দোযখের যোগ্য।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান