আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
১৫. শাসনকার্য পরিচালনা ও আদালত-বিচার অধ্যায়
হাদীস নং: ১৩৭৫
আন্তর্জাতিক নং: ১৩৭৫
শাসনকার্য পরিচালনা ও আদালত-বিচার অধ্যায়
ওয়াক্ফ প্রসঙ্গে।
১৩৭৯. আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খায়বরে উমর (রাযিঃ) এর এক খণ্ড জমি লাভ হয়। তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি খায়বরে কিছু মাল লাভ করেছি। এর চেয়ে উত্তম মাল আমি কখনো পাইনি। আপনি এই বিষয়ে আমাকে কি নির্দেশ দেন? তিনি বললেন, ইচ্ছে করলে, মূলটি ওয়াক্ফ করে এর উৎপাদিত ফল-ফসল সাদ্কা করে দিতে পার। অনন্তর উমর (রাযিঃ) এই মর্মে তা ওয়াক্ফ করে দেন যে, মূল ভূমি বিক্রি করা যাবে না। তিনি তা দরিদ্র, নিকট আত্মীয়, গোলাম আযাদ করা, মুসাফির, মেহমান ও আল্লাহ পথে সাদ্কা করে দেন। ন্যায়ভাবে তা থেকে খেতে বা বন্ধুদের খাওয়াতে এর মুতাওয়াল্লীর জন্য কোন পাপ হবে না। তবে শর্ত হলো এ থেকে যেন সম্পদশালী হওয়ার প্রয়াস না পায়। - ইবনে মাজাহ ২৩৯৬, নাসাঈ
ইবনে আওন (রাহঃ) বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন (রাহঃ) এর কাছে হাদীসটির আলোচনা করতে তিনিغَيْرَ مُتَمَوِّلٍ فِيهِ এর স্থলেغَيْرَ مُتَأَثِّلٍ مَالاً রিওয়ায়াত করেছেন। ইবনে আওফন বলেন, অন্য একজনও এটিকে আমার নিকট রিওয়ায়াত করেছেন। তিনি লাল চামড়ায় লেখা পড়েছেন যে,غَيْرَ مُتَأَثِّلٍ مَالاً ইসমাঈল (রাহঃ) বলেন, আমি এটিকে ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর-এর নিকটغَيْرَ مُتَأَثِّلٍ مَالاً রূপে পাঠ করেছি।
ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, হাদীসটি হাসান-সহীহ। সাহাবী ও অপরাপর আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন। ভূমি ইত্যাদি ওয়াক্ফ করার অনুমতির বিষয়ে মুতাকাদ্দিমীন বা পূর্বসূরী আলিমগণের মাঝে কোন মতবিরোধ আছে বলে আমার জানা নেই।
ইবনে আওন (রাহঃ) বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন (রাহঃ) এর কাছে হাদীসটির আলোচনা করতে তিনিغَيْرَ مُتَمَوِّلٍ فِيهِ এর স্থলেغَيْرَ مُتَأَثِّلٍ مَالاً রিওয়ায়াত করেছেন। ইবনে আওফন বলেন, অন্য একজনও এটিকে আমার নিকট রিওয়ায়াত করেছেন। তিনি লাল চামড়ায় লেখা পড়েছেন যে,غَيْرَ مُتَأَثِّلٍ مَالاً ইসমাঈল (রাহঃ) বলেন, আমি এটিকে ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর-এর নিকটغَيْرَ مُتَأَثِّلٍ مَالاً রূপে পাঠ করেছি।
ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, হাদীসটি হাসান-সহীহ। সাহাবী ও অপরাপর আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন। ভূমি ইত্যাদি ওয়াক্ফ করার অনুমতির বিষয়ে মুতাকাদ্দিমীন বা পূর্বসূরী আলিমগণের মাঝে কোন মতবিরোধ আছে বলে আমার জানা নেই।
كتاب الأحكام عن رسول الله ﷺ
باب فِي الْوَقْفِ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَنْبَأَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ أَصَابَ عُمَرُ أَرْضًا بِخَيْبَرَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَصَبْتُ مَالاً بِخَيْبَرَ لَمْ أُصِبْ مَالاً قَطُّ أَنْفَسَ عِنْدِي مِنْهُ فَمَا تَأْمُرُنِي قَالَ " إِنْ شِئْتَ حَبَسْتَ أَصْلَهَا وَتَصَدَّقْتَ بِهَا " . فَتَصَدَّقَ بِهَا عُمَرُ أَنَّهَا لاَ يُبَاعُ أَصْلُهَا وَلاَ يُوهَبُ وَلاَ يُورَثُ تَصَدَّقَ بِهَا فِي الْفُقَرَاءِ وَالْقُرْبَى وَفِي الرِّقَابِ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَالضَّيْفِ لاَ جُنَاحَ عَلَى مَنْ وَلِيَهَا أَنْ يَأْكُلَ مِنْهَا بِالْمَعْرُوفِ أَوْ يُطْعِمَ صَدِيقًا غَيْرَ مُتَمَوِّلٍ فِيهِ . قَالَ فَذَكَرْتُهُ لِمُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ فَقَالَ غَيْرَ مُتَأَثِّلٍ مَالاً . قَالَ ابْنُ عَوْنٍ فَحَدَّثَنِي بِهِ رَجُلٌ آخَرُ أَنَّهُ قَرَأَهَا فِي قِطْعَةِ أَدِيمٍ أَحْمَرَ غَيْرَ مُتَأَثِّلٍ مَالاً . قَالَ إِسْمَاعِيلُ وَأَنَا قَرَأْتُهَا عِنْدَ ابْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَكَانَ فِيهِ غَيْرَ مُتَأَثِّلٍ مَالاً . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ لاَ نَعْلَمُ بَيْنَ الْمُتَقَدِّمِينَ مِنْهُمْ فِي ذَلِكَ اخْتِلاَفًا فِي إِجَازَةِ وَقْفِ الأَرَضِينَ وَغَيْرِ ذَلِكَ .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
ওয়াকফ বিষয়ে আলোচ্য হাদীস মূল ভিত্তির মতো গুরুত্ব রাখে। সপ্তম হিজরীতে যুদ্ধের ফলে খায়বর বিজিত হয়েছিল। সাধারণভাবে তথাকার জমি স্বর্ণ ফসলী ছিল। মক্কা বিজয়ের পর খায়বরের প্রায় অর্ধেক অংশ রাসুলুল্লাহ ﷺ মুজাহিদগণের মধ্যে বণ্টন করে দেন। হযরত উমর (রা)-এর অংশে জমির যে টুকরা এল, তিনি ধারণা করলেন আমার যাবতীয় সম্পদের মধ্যে এটা খুবই মূল্যবান ও দুষ্প্রাপ্য। আর কুরআন মজীদে বলা হয়েছে-
لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ .
(তোমরা যা ভালবাস তা হতে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো পূণ্য লাভ করবে না)।
এ ভিত্তিতে হযরত উমর (রা)-এর অন্তরে এ কথা উদয় হল যে, খায়বরে আমার অংশ থেকে মূল্যবান কোন জিনিস আমার নিকট নেই। আমি এটা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি ও সৌভাগ্য লাভ করব। কিন্তু তিনি নিজে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি যে, এটা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করার আমার নিকট উত্তম পন্থা কি? তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে নির্দেশ চাইলেন। তিনি তাঁকে ওয়াকফ করার পরামর্শ দিলেন, যা সাদকায়ে জারিয়া। সুতরাং হযরত উমর তা ওয়াকফ করে দিলেন। আর এর ব্যয়ের খাতও নির্দিষ্ট করে দিলেন। এ খাত প্রায় তাই যা যাকাতের বর্ণনায় কুরআন মজীদে বলা হয়েছে। (যেমন-কুরআন মজীদে সূরা তাওবায় বলা হয়েছে- সাদকা (যাকাত) তো কেবল নিঃস্ব, অভাবগ্রস্ত ও তৎসংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য, যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা হয় তাদের জন্য, দাস মুক্তির জন্য, ঋণ গ্রস্তদের, আল্লাহর পথে জিহাদকারী ও মুসাফিরদের জন্য। (আয়াত: ৬০)
পরিশেষে ওয়াকফ-এর মুতাওয়াল্লী ও এর ব্যবস্থাপকগণ সম্পর্কে বলেন, নিজের সম্পদ বৃদ্ধির জন্য তা থেকে কিছু গ্রহণ করবে না। তবে খাওয়া-দাওয়া, পরিজন ও মেহমানবৃন্দের জন্য এ থেকে সঙ্গতভাবে নিতে পারে।
(শরী'আতের অন্যান্য অধ্যায়ের ন্যায় ওয়াকফ-এর মাসআলাও ফিকহর কিতাবসমূহে দেখা যেতে পারে)
لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ .
(তোমরা যা ভালবাস তা হতে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো পূণ্য লাভ করবে না)।
এ ভিত্তিতে হযরত উমর (রা)-এর অন্তরে এ কথা উদয় হল যে, খায়বরে আমার অংশ থেকে মূল্যবান কোন জিনিস আমার নিকট নেই। আমি এটা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি ও সৌভাগ্য লাভ করব। কিন্তু তিনি নিজে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি যে, এটা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করার আমার নিকট উত্তম পন্থা কি? তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে নির্দেশ চাইলেন। তিনি তাঁকে ওয়াকফ করার পরামর্শ দিলেন, যা সাদকায়ে জারিয়া। সুতরাং হযরত উমর তা ওয়াকফ করে দিলেন। আর এর ব্যয়ের খাতও নির্দিষ্ট করে দিলেন। এ খাত প্রায় তাই যা যাকাতের বর্ণনায় কুরআন মজীদে বলা হয়েছে। (যেমন-কুরআন মজীদে সূরা তাওবায় বলা হয়েছে- সাদকা (যাকাত) তো কেবল নিঃস্ব, অভাবগ্রস্ত ও তৎসংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য, যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা হয় তাদের জন্য, দাস মুক্তির জন্য, ঋণ গ্রস্তদের, আল্লাহর পথে জিহাদকারী ও মুসাফিরদের জন্য। (আয়াত: ৬০)
পরিশেষে ওয়াকফ-এর মুতাওয়াল্লী ও এর ব্যবস্থাপকগণ সম্পর্কে বলেন, নিজের সম্পদ বৃদ্ধির জন্য তা থেকে কিছু গ্রহণ করবে না। তবে খাওয়া-দাওয়া, পরিজন ও মেহমানবৃন্দের জন্য এ থেকে সঙ্গতভাবে নিতে পারে।
(শরী'আতের অন্যান্য অধ্যায়ের ন্যায় ওয়াকফ-এর মাসআলাও ফিকহর কিতাবসমূহে দেখা যেতে পারে)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)