আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
৪৮- নবীগণের আঃ আলোচনা
হাদীস নং: ৩১০২
আন্তর্জাতিক নং: ৩৩৩৮
- নবীগণের আঃ আলোচনা
২০০২. মহান আল্লাহর বাণীঃ আর আমি নূহকে তার জাতির নিকট প্রেরণ করেছিলাম’-(হূদ : ১১:২৫) ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, بَادِئَ الرَّأْيِ এর অর্থ যা আমাদের সামনে প্রকাশ পেয়েছে। أَقْلِعِي তুমি থেমে যাও। وَفَارَ التَّنُّورُ পানি সবেগে উৎসারিত হল। আর ইকরিমা (রাহঃ) বলেন, تنور অর্থ ভূপৃষ্ঠ। আর মুজাহিদ (রাহঃ) বলেন, الْجُودِيُّ জাযিরাতুল আরবের একটি পাহাড়। دَأْبٌ অবস্থা। মহান আল্লাহর বাণীঃ আমি নূহকে তার জাতির কাছে প্রেরণ করেছিলাম’ .… সূরার শেষ পর্যন্ত-(নুহঃ ১)
৩১০২। আবু নুআঈম (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমি কি তোমাদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে এমন একটি কথা বলে দেব না, যা কোন নবীই তাঁর সম্প্রদায়কে বলেন নি? তা হল, নিশ্চয়ই সে হবে কানা, সে সাথে করে জান্নাত এবং জাহান্নামের দু’টি কৃত্রিম ছবি নিয়ে আসবে। অতএব যাকে সে বলবে যে এটি জান্নাত প্রকৃতপক্ষে সেটি হবে জাহান্নাম। আর আমি তার সম্পর্কে তোমাদের ঠিক তেমনি সতর্ক করছি, যেমনি নূহ (আলাইহিস সালাম) তার সম্প্রদায়কে সে সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।
كتاب الأنبياء
بَابُ قَوْلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ: {وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ} قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: {بَادِئَ الرَّأْيِ} مَا ظَهَرَ لَنَا {أَقْلِعِي} أَمْسِكِي. {وَفَارَ التَّنُّورُ} نَبَعَ الْمَاءُ. وَقَالَ عِكْرِمَةُ وَجْهُ الأَرْضِ. وَقَالَ مُجَاهِدٌ الْجُودِيُّ جَبَلٌ بِالْجَزِيرَةِ. دَأْبٌ مِثْلُ حَالٌ. قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {إِنَّا أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ أَنْ أَنْذِرْ قَوْمَكَ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} إِلَى آخِرِ السُّورَةِ
3338 - حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أَلاَ أُحَدِّثُكُمْ حَدِيثًا عَنِ الدَّجَّالِ، مَا حَدَّثَ بِهِ نَبِيٌّ قَوْمَهُ: إِنَّهُ أَعْوَرُ، وَإِنَّهُ يَجِيءُ مَعَهُ بِمِثَالِ الجَنَّةِ وَالنَّارِ، فَالَّتِي يَقُولُ إِنَّهَا الجَنَّةُ هِيَ النَّارُ، وَإِنِّي أُنْذِرُكُمْ كَمَا أَنْذَرَ بِهِ نُوحٌ قَوْمَهُ "
হাদীসের ব্যাখ্যা:
দাজ্জাল সম্বন্ধে বিভিন্ন সাহাবা কিরাম হতে হাদীস ভাণ্ডারে এত বেশি হাদীস বর্ণিত হয়েছে, যেগুলো থেকে সামগ্রিকভাবে এ কথা নিশ্চিতরূপে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিয়ামতের সন্নিকটে দাজ্জাল প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তার ফিতনা আল্লাহর বান্দাদের জন্য বিরাট ও কঠিনতম ফিতনা হবে। সে আল্লাহ্ বলে দাবি করবে এবং এর প্রমাণ স্বরূপ আশ্চর্য ও অপরিচিত কারিশমাসমূহ দেখাবে। তার কারিশমা সমূহের মধ্যে একটি এই হবে, তার সাথে জান্নাতের ন্যায় এক কৃত্রিম জান্নাত ও জাহান্নামের ন্যায় এক কৃত্রিম জাহান্নাম থাকবে। প্রকৃতপক্ষে যেটিকে সে জান্নাত বলবে, তা জাহান্নাম হবে। এভাবে যেটিকে সে জাহান্নাম বলবে, প্রকৃতপক্ষে তা জান্নাত হবে।
এটা হতে পারে যে, সাথে নিয়ে আসা দাজ্জালের এই জাহান্নাম ও জান্নাত কেবল তার প্রতারণা ও দৃষ্টি বিভ্রান্ত করার ফলস্বরূপ হবে। আর এটাও সম্ভব যে, যেভাবে আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় বিশেষ হিকমতে আমাদের পরীক্ষার জন্যে শয়তান সৃষ্টি করেছেন, অনুরূপভাবে পরীক্ষার জন্য দাজ্জালও পয়দা করবেন। এভাবে দাজ্জালের সাথে আনীত জান্নাত ও জাহান্নামও আল্লাহ্ তা'আলা পয়দা করবেন। মিথ্যুক দাজ্জালের এক প্রকাশ্য আলামত হবে, সে চোখে কানা হবে।
সহীহ্ বর্ণনায় এসেছে আঙ্গুরের দানার ন্যায় তার চোখ ফোলা হবে যা সবাই দেখতে পাবে। এতদসত্ত্বেও আল্লাহ্ সম্পর্কে পরিচয়হীন বহুলোক যারা ঈমান থেকে বঞ্চিত হবে অথবা যারা খুবই দুর্বল ঈমানের লোক হবে দাজ্জালের প্রতারণা ও অস্বাভাবিক চমৎকারিত্বসমূহে প্রভাবান্বিত হয়ে তার আল্লাহ্ হওয়ার দাবিকে মেনে নেবে। আর যাদের প্রকৃত ঈমানের সৌভাগ্য হবে দাজ্জালের প্রকাশ ও তার অস্বাবাবিক চমৎকারিত্ব তাদের ঈমান ও ইয়াকীনের অধিক উন্নতি ও বৃদ্ধির কারণ হবে। তারা তাকে দেখে বলবে, এই সে দাজ্জাল যার সংবাদ আমাদের সত্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিয়েছিলেন। এভাবে দাজ্জালের প্রকাশ তার (মু'মিনের) জন্যে উন্নতির ওসীলা হবে।
দাজ্জালের হাতে প্রকাশিতব্য অপ্রাকৃতিক ঘটনাবলি
যেরূপ উপরে উল্লেখ করা হয়েছে, কিয়ামতের পূর্বে দাজ্জালের প্রকাশ সম্পর্কিত হাদীস, হাদীস ভাণ্ডারে এত অধিক বর্ণনা রয়েছে যেগুলোর পর এতে কোন সন্দেহের অবকাশ থাকে না যে, কিয়ামতের পূর্বে দাজ্জাল প্রকাশ পাবে। এভাবে সেই বর্ণনাগুলোর আলোকে এতেও কোন সন্দেহ থাকে না যে, সে ইলাহ্ হওয়ার দাবি করবে। তার হাতে বিরাট অস্বাভাবিক ও বুদ্ধি হতভম্বকারী অপ্রাকৃতিক ঘটনাবলি প্রকাশ পাবে। যা কোন মানুষ ও কোন সৃষ্টির শক্তির বাইরে ও ঊর্ধ্বে হবে। যেমন, তার হাতে জান্নাত ও জাহান্নাম থাকবে। উল্লিখিত হাদীসেও এ বর্ণনা রয়েছে। আর যেমন, সে মেঘকে বৃষ্টি বর্ষণের নির্দেশ করবে, এবং তার নির্দেশ মুতাবিক তখন বৃষ্টি বর্ষিত হবে। আর যেমন, সে যমীনকে নির্দেশ দেবে ফসল উৎপন্ন হতে, তখনই ফসল উৎপন্ন হতে দেখা যাবে। আর যেমন, আল্লাহর সম্পর্কে পরিচয়হীন ও বাহ্যিক দৃষ্টিসম্পন্ন যে ব্যক্তি এরূপ অপ্রাকৃতিক বিষয়াবলি দেখে তাকে আল্লাহ্ মেনে নেবে, তার পার্থিব অবস্থা বাহ্যত অতি ভাল হবে এবং তাকে খুবই সুখী স্বাচ্ছন্দপূর্ণ মনে হবে। পক্ষান্তরে যে সব মু'মিন ও সত্যবাদীগণ তার ইলাহ্ দাবিকে প্রত্যাখ্যান করবে ও তাকে দাজ্জাল বলে নির্ধারণ করবে, বাহ্যত তাদের পার্থিব অবস্থা অতিশয় মন্দ হবে। তাদেরকে হত দরিদ্র ও বিভিন্ন প্রকার কষ্টে জড়িত করা হবে। আর যেমন, সে একটি শক্তিশালী যুবককে হত্যা করে তাকে দু'টুকরা করে ফেলবে। পুনরায় সে তাকে স্বীয় নির্দেশে জীবিত করে দেখাবে। সবাই দেখতে পাবে, যেরূপ স্বাস্থ্যবান যুবক ছিল সেরূপই হয়ে গেছে।
বস্তুত হাদীসের কিতাবসমূহে দাজ্জালের হাতে প্রকাশিতব্য এরূপ বুদ্ধি হতভম্বকারী অপ্রাকৃতিক ঘটনাবলির বর্ণনা এত অধিক রয়েছে যে, এ ব্যাপারেও কোন সন্দেহের অবকাশ থাকে না যে, তার হাতে এ জাতীয় অপ্রাকৃতিক বিষয় প্রকাশ পাবে আর এটাই মানুষের পরীক্ষার কারণ হবে।
এ জাতীয় অপ্রাকৃতিক ঘটনা যদি নবী (আ) গণের হাতে প্রকাশ পায়, তাকে মু'জিযা বলা হয়। যেমন- হযরত মূসা (আ) ও হযরত ঈসা (আ) প্রমুখ নবীগণের সেই সব মু'জিযা যেগুলোর উল্লেখ কুরআন মজীদে বার বার এসেছে। অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চন্দ্র বিদীর্ণ মু'জিযা ও অন্যান্য মু'জিযাসমূহ যা হাদীসসমূহে বর্ণিত হয়েছে। আর যদি এরূপ অপ্রাকৃতিক ঘটনা নবী (আ) গণের অনুসারী উত্তম মু'মিনগণের হাতে প্রকাশ পায়, তবে তাকে কারামত বলা হয়। যেমন, কুরআন মজীদে আসহাব কাহফের ঘটনা বর্ণনা রয়েছে। আর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মতের আওলিয়া কিরামের শত শত হাজার ঘটনাবলি প্রসিদ্ধ আছে। আর যদি এজাতীয় অপ্রাকৃতিক ঘটনা কোন কাফির-মুশরিক কিংবা ফাসিক ফাজির ও গোমরাহ্ পথ আহ্বানকারীর হাতে প্রকাশ পায়, তবে তা ইস্তিদ্রাজের অন্তর্গত।
আল্লাহ্ তা'আলা এ জগতকে পরীক্ষাগার বানিয়েছেন। মানুষের মধ্যে ভাল ও মন্দ উভয় প্রকারের যোগ্যতা ঢেলে দিয়েছেন। হিদায়াত ও উত্তম কাজের দাওআতের জন্য নবীগণকে প্রেরণ করেছেন। তাঁদের পর তাঁদের প্রতিনিধিগণ কিয়ামত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে যাবেন। পক্ষান্তরে গোমরাহী ও মন্দের প্রতি আহ্বানের জন্য শয়তান এবং মানুষ ও জিন থেকে তার চেলা-চামন্ডাও পয়দা করা হয়েছে, যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাদের কাজ করে যাবে।
আদম-সন্তানের মধ্যে খাতিমুন্নাবিয়্যীন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর হিদায়াত ও উত্তম কাজের প্রতি আহ্বানের পূর্ণতা শেষ করেছেন। এখন তাঁরই প্রতিনিধিদের মাধ্যমে কিয়ামত পর্যন্ত হিদায়াতের ধারাবাহিকতা চালু থাকবে। আর গোমরাহী ও মন্দকাজের পূর্ণতা দাজ্জালের ওপর শেষ হবে। এ জন্যই আল্লাহ্ তা'আলার নিকট হতে ইস্তিদ্রাজস্বরূপ এরূপ অস্বাভাবিক ও বুদ্ধি-বিবেচনা বহির্ভূত ঘটনাবলি তাকে দেওয়া হবে যা পূর্বে গোমরাহীর প্রতি আহ্বানকারী কাউকে দেওয়া হয়নি।
এটা যেন মানুষের শেষ পরীক্ষা হবে। আর আল্লাহ্ তা'আলা এর মাধ্যমে প্রকাশ্যে বলবেন যে, নবুওতের ধারাবাহিকতা বিশেষ করে খাতিমুন্নাবিয়্যীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর প্রতিনিধিদের হিদায়াত, ওয়াজ, উত্তম কাজের প্রতি আহ্বানের ঐকান্তিক চেষ্টার ফলস্বরূপ সেই দৃঢ়পদ বান্দাগণও দাজ্জালী জগতে মজুদ রয়েছেন, এজাতীয় বুদ্ধি হতভম্বকারী ঘটনাবলি দেখার পরও যাদের ঈমান ও ইয়াকীনে কোন পার্থক্য আসেনি। বরং তাদের ঈমানে সেই বিশ্বাসের স্থান অর্জিত হয়েছে যা এই পরীক্ষা ছাড়া অর্জিত হত না।
এটা হতে পারে যে, সাথে নিয়ে আসা দাজ্জালের এই জাহান্নাম ও জান্নাত কেবল তার প্রতারণা ও দৃষ্টি বিভ্রান্ত করার ফলস্বরূপ হবে। আর এটাও সম্ভব যে, যেভাবে আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় বিশেষ হিকমতে আমাদের পরীক্ষার জন্যে শয়তান সৃষ্টি করেছেন, অনুরূপভাবে পরীক্ষার জন্য দাজ্জালও পয়দা করবেন। এভাবে দাজ্জালের সাথে আনীত জান্নাত ও জাহান্নামও আল্লাহ্ তা'আলা পয়দা করবেন। মিথ্যুক দাজ্জালের এক প্রকাশ্য আলামত হবে, সে চোখে কানা হবে।
সহীহ্ বর্ণনায় এসেছে আঙ্গুরের দানার ন্যায় তার চোখ ফোলা হবে যা সবাই দেখতে পাবে। এতদসত্ত্বেও আল্লাহ্ সম্পর্কে পরিচয়হীন বহুলোক যারা ঈমান থেকে বঞ্চিত হবে অথবা যারা খুবই দুর্বল ঈমানের লোক হবে দাজ্জালের প্রতারণা ও অস্বাভাবিক চমৎকারিত্বসমূহে প্রভাবান্বিত হয়ে তার আল্লাহ্ হওয়ার দাবিকে মেনে নেবে। আর যাদের প্রকৃত ঈমানের সৌভাগ্য হবে দাজ্জালের প্রকাশ ও তার অস্বাবাবিক চমৎকারিত্ব তাদের ঈমান ও ইয়াকীনের অধিক উন্নতি ও বৃদ্ধির কারণ হবে। তারা তাকে দেখে বলবে, এই সে দাজ্জাল যার সংবাদ আমাদের সত্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিয়েছিলেন। এভাবে দাজ্জালের প্রকাশ তার (মু'মিনের) জন্যে উন্নতির ওসীলা হবে।
দাজ্জালের হাতে প্রকাশিতব্য অপ্রাকৃতিক ঘটনাবলি
যেরূপ উপরে উল্লেখ করা হয়েছে, কিয়ামতের পূর্বে দাজ্জালের প্রকাশ সম্পর্কিত হাদীস, হাদীস ভাণ্ডারে এত অধিক বর্ণনা রয়েছে যেগুলোর পর এতে কোন সন্দেহের অবকাশ থাকে না যে, কিয়ামতের পূর্বে দাজ্জাল প্রকাশ পাবে। এভাবে সেই বর্ণনাগুলোর আলোকে এতেও কোন সন্দেহ থাকে না যে, সে ইলাহ্ হওয়ার দাবি করবে। তার হাতে বিরাট অস্বাভাবিক ও বুদ্ধি হতভম্বকারী অপ্রাকৃতিক ঘটনাবলি প্রকাশ পাবে। যা কোন মানুষ ও কোন সৃষ্টির শক্তির বাইরে ও ঊর্ধ্বে হবে। যেমন, তার হাতে জান্নাত ও জাহান্নাম থাকবে। উল্লিখিত হাদীসেও এ বর্ণনা রয়েছে। আর যেমন, সে মেঘকে বৃষ্টি বর্ষণের নির্দেশ করবে, এবং তার নির্দেশ মুতাবিক তখন বৃষ্টি বর্ষিত হবে। আর যেমন, সে যমীনকে নির্দেশ দেবে ফসল উৎপন্ন হতে, তখনই ফসল উৎপন্ন হতে দেখা যাবে। আর যেমন, আল্লাহর সম্পর্কে পরিচয়হীন ও বাহ্যিক দৃষ্টিসম্পন্ন যে ব্যক্তি এরূপ অপ্রাকৃতিক বিষয়াবলি দেখে তাকে আল্লাহ্ মেনে নেবে, তার পার্থিব অবস্থা বাহ্যত অতি ভাল হবে এবং তাকে খুবই সুখী স্বাচ্ছন্দপূর্ণ মনে হবে। পক্ষান্তরে যে সব মু'মিন ও সত্যবাদীগণ তার ইলাহ্ দাবিকে প্রত্যাখ্যান করবে ও তাকে দাজ্জাল বলে নির্ধারণ করবে, বাহ্যত তাদের পার্থিব অবস্থা অতিশয় মন্দ হবে। তাদেরকে হত দরিদ্র ও বিভিন্ন প্রকার কষ্টে জড়িত করা হবে। আর যেমন, সে একটি শক্তিশালী যুবককে হত্যা করে তাকে দু'টুকরা করে ফেলবে। পুনরায় সে তাকে স্বীয় নির্দেশে জীবিত করে দেখাবে। সবাই দেখতে পাবে, যেরূপ স্বাস্থ্যবান যুবক ছিল সেরূপই হয়ে গেছে।
বস্তুত হাদীসের কিতাবসমূহে দাজ্জালের হাতে প্রকাশিতব্য এরূপ বুদ্ধি হতভম্বকারী অপ্রাকৃতিক ঘটনাবলির বর্ণনা এত অধিক রয়েছে যে, এ ব্যাপারেও কোন সন্দেহের অবকাশ থাকে না যে, তার হাতে এ জাতীয় অপ্রাকৃতিক বিষয় প্রকাশ পাবে আর এটাই মানুষের পরীক্ষার কারণ হবে।
এ জাতীয় অপ্রাকৃতিক ঘটনা যদি নবী (আ) গণের হাতে প্রকাশ পায়, তাকে মু'জিযা বলা হয়। যেমন- হযরত মূসা (আ) ও হযরত ঈসা (আ) প্রমুখ নবীগণের সেই সব মু'জিযা যেগুলোর উল্লেখ কুরআন মজীদে বার বার এসেছে। অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চন্দ্র বিদীর্ণ মু'জিযা ও অন্যান্য মু'জিযাসমূহ যা হাদীসসমূহে বর্ণিত হয়েছে। আর যদি এরূপ অপ্রাকৃতিক ঘটনা নবী (আ) গণের অনুসারী উত্তম মু'মিনগণের হাতে প্রকাশ পায়, তবে তাকে কারামত বলা হয়। যেমন, কুরআন মজীদে আসহাব কাহফের ঘটনা বর্ণনা রয়েছে। আর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মতের আওলিয়া কিরামের শত শত হাজার ঘটনাবলি প্রসিদ্ধ আছে। আর যদি এজাতীয় অপ্রাকৃতিক ঘটনা কোন কাফির-মুশরিক কিংবা ফাসিক ফাজির ও গোমরাহ্ পথ আহ্বানকারীর হাতে প্রকাশ পায়, তবে তা ইস্তিদ্রাজের অন্তর্গত।
আল্লাহ্ তা'আলা এ জগতকে পরীক্ষাগার বানিয়েছেন। মানুষের মধ্যে ভাল ও মন্দ উভয় প্রকারের যোগ্যতা ঢেলে দিয়েছেন। হিদায়াত ও উত্তম কাজের দাওআতের জন্য নবীগণকে প্রেরণ করেছেন। তাঁদের পর তাঁদের প্রতিনিধিগণ কিয়ামত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে যাবেন। পক্ষান্তরে গোমরাহী ও মন্দের প্রতি আহ্বানের জন্য শয়তান এবং মানুষ ও জিন থেকে তার চেলা-চামন্ডাও পয়দা করা হয়েছে, যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাদের কাজ করে যাবে।
আদম-সন্তানের মধ্যে খাতিমুন্নাবিয়্যীন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর হিদায়াত ও উত্তম কাজের প্রতি আহ্বানের পূর্ণতা শেষ করেছেন। এখন তাঁরই প্রতিনিধিদের মাধ্যমে কিয়ামত পর্যন্ত হিদায়াতের ধারাবাহিকতা চালু থাকবে। আর গোমরাহী ও মন্দকাজের পূর্ণতা দাজ্জালের ওপর শেষ হবে। এ জন্যই আল্লাহ্ তা'আলার নিকট হতে ইস্তিদ্রাজস্বরূপ এরূপ অস্বাভাবিক ও বুদ্ধি-বিবেচনা বহির্ভূত ঘটনাবলি তাকে দেওয়া হবে যা পূর্বে গোমরাহীর প্রতি আহ্বানকারী কাউকে দেওয়া হয়নি।
এটা যেন মানুষের শেষ পরীক্ষা হবে। আর আল্লাহ্ তা'আলা এর মাধ্যমে প্রকাশ্যে বলবেন যে, নবুওতের ধারাবাহিকতা বিশেষ করে খাতিমুন্নাবিয়্যীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর প্রতিনিধিদের হিদায়াত, ওয়াজ, উত্তম কাজের প্রতি আহ্বানের ঐকান্তিক চেষ্টার ফলস্বরূপ সেই দৃঢ়পদ বান্দাগণও দাজ্জালী জগতে মজুদ রয়েছেন, এজাতীয় বুদ্ধি হতভম্বকারী ঘটনাবলি দেখার পরও যাদের ঈমান ও ইয়াকীনে কোন পার্থক্য আসেনি। বরং তাদের ঈমানে সেই বিশ্বাসের স্থান অর্জিত হয়েছে যা এই পরীক্ষা ছাড়া অর্জিত হত না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)