আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
২৭. সুন্দর ব্যবহার ও আত্নীয়তার সম্পর্ক রক্ষার অধ্যায়
হাদীস নং: ১৯৩৪
আন্তর্জাতিক নং: ১৯৩৪
সুন্দর ব্যবহার ও আত্নীয়তার সম্পর্ক রক্ষার অধ্যায়
পরনিন্দা।
১৯৪০। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বলা হল ইয়া রাসূলাল্লাহ, গীবত কি? তিনি বললেন, তোমার কোন ভাইয়ের এমন আলোচনা করা যা তার কাছে অপছন্দনীয়। সে বলল, আপনি বলুন তো আমি যা বলছি সেই দোষ যদি তার মধ্যে বাস্তবিকই থাকে। তিনি বললেনঃ তুমি যা বলছ সে দোষ যদি তার মধ্যে থাকে তবেই তো তুমি তার গীবত করলে আর যদি সে দোষ তার মধ্যে না থাকে তবে তো তুমি তাকে অপবাদ দিলে।
أبواب البر والصلة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مَا جَاءَ فِي الْغِيبَةِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الْغِيبَةُ قَالَ " ذِكْرُكَ أَخَاكَ بِمَا يَكْرَهُ " . قَالَ أَرَأَيْتَ إِنْ كَانَ فِيهِ مَا أَقُولُ قَالَ " إِنْ كَانَ فِيهِ مَا تَقُولُ فَقَدِ اغْتَبْتَهُ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِيهِ مَا تَقُولُ فَقَدْ بَهَتَّهُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي بَرْزَةَ وَابْنِ عُمَرَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
এ বিষয়ে আবু বারযা, ইবনে উমর ও আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
হাদীসের ব্যাখ্যা:
মানুষের অসাক্ষাতে তার দোষ বর্ণনা করা গীবত। গীবতের দ্বারা সমাজের শান্তি বিঘ্নিত হয়, পারস্পরিক ভালবাসা ও সম্মান বিলুপ্ত হয় এবং অসাক্ষাতে দোষ বর্ণনা করার কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তি আত্মপক্ষ সমর্থন করা বা তার প্রতিবাদ করার সুযোগ লাভ থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে তা এক জঘন্য ধরনের বে-ইনসাফী। গীবত মারাত্মক সামাজিক ব্যধি হওয়ার কারণে আল্লাহ কিয়ামতের দিন গীবতকারীকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত করবেন।
বুহতান গীবতের চেয়েও মারাত্মক। তাই ভুলক্রমেও কোন আল্লাহর বান্দার বিরুদ্ধে বুহতান বা অপবাদ আরোপ করা ঠিক নয়।
হাকিমের কাছে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দোষ বর্ণনা করা, পেশাদার চোর, বদমায়েশ, গুন্ডা বা মারাত্মক দুষ্কৃতকারী ব্যক্তির অপরাধ সম্পর্কে সমাজের মানুষকে হুঁশিয়ার করা, সংশোধন করার উদ্দেশ্যে শাসক ব্যক্তি বা সরকারী আমলাদের দোষ বর্ণনা করা, বিবাহ-শাদীর ব্যাপারে পাত্র-পাত্রীর দোষ-গুণ সম্পর্কে সঠিক রায় দান করা, পদস্থ ব্যক্তির কাছে অধীনস্থ ব্যক্তির দোষ-ত্রুটির উল্লেখ করা ইত্যাদি গীবতের অন্তর্ভুক্ত নয়।
বুহতান গীবতের চেয়েও মারাত্মক। তাই ভুলক্রমেও কোন আল্লাহর বান্দার বিরুদ্ধে বুহতান বা অপবাদ আরোপ করা ঠিক নয়।
হাকিমের কাছে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দোষ বর্ণনা করা, পেশাদার চোর, বদমায়েশ, গুন্ডা বা মারাত্মক দুষ্কৃতকারী ব্যক্তির অপরাধ সম্পর্কে সমাজের মানুষকে হুঁশিয়ার করা, সংশোধন করার উদ্দেশ্যে শাসক ব্যক্তি বা সরকারী আমলাদের দোষ বর্ণনা করা, বিবাহ-শাদীর ব্যাপারে পাত্র-পাত্রীর দোষ-গুণ সম্পর্কে সঠিক রায় দান করা, পদস্থ ব্যক্তির কাছে অধীনস্থ ব্যক্তির দোষ-ত্রুটির উল্লেখ করা ইত্যাদি গীবতের অন্তর্ভুক্ত নয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)