আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩০. অছিয়াত সম্পর্কিত বিধানাবলী

হাদীস নং: ২১২১
আন্তর্জাতিক নং: ২১২১
অছিয়াত সম্পর্কিত বিধানাবলী
ওয়ারিছানের জন্য ওয়াসীয়ত নাই।
২১২৪. কুতায়বা (রাহঃ) ...... আমর ইবনে খারিজা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) তাঁর উটের উপর আরোহী অবস্থায় ভাষণ দিয়েছিলেন। আমি একটির গলার নীচে দাঁড়ানো ছিলাম। এটি জাবর কাটছিলো আর এর লালা বেয়ে পড়ছিলো আমার কাঁধের মাঝ দিয়ে তাকে তখন বলতে শুনেছিলামঃ আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক হকওয়ালার হক দিয়ে দিয়েছেন সুতরাং ওয়ারিছের জন্য ওয়াসীয়ত নেই, সন্তান হল বৈধ শয্যার আর ব্যভিচারীর জন্য পাথর। কেউ যদি অনীহাবশত পিতা ছাড়া অন্য ব্যক্তিকে পিতা বলে পরিচয় দেয় বা প্রকৃত মাওলা ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তির প্রতি মাওলা বলে নিসবত করে তবে তার প্রতি আল্লাহর লা‘নত পড়বে। আল্লাহ তার ফরয বা নফল কোন ইবাদতই কবুল করবেন না।
أبواب الوصايا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء لا وصية لوارث
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ خَارِجَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَطَبَ عَلَى نَاقَتِهِ وَأَنَا تَحْتَ جِرَانِهَا وَهِيَ تَقْصَعُ بِجَرَّتِهَا وَإِنَّ لُعَابَهَا يَسِيلُ بَيْنَ كَتِفَىَّ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ " إِنَّ اللَّهَ أَعْطَى كُلَّ ذِي حَقٍّ حَقَّهُ وَلاَ وَصِيَّةَ لِوَارِثٍ وَالْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ وَلِلْعَاهِرِ الْحَجَرُ وَمَنِ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ أَوِ انْتَمَى إِلَى غَيْرِ مَوَالِيهِ رَغْبَةً عَنْهُمْ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ لاَ يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْهُ صَرْفًا وَلاَ عَدْلاً " . قَالَ وَسَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ الْحَسَنِ يَقُولُ قَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ لاَ أُبَالِي بِحَدِيثِ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ . قَالَ وَسَأَلْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ فَوَثَّقَهُ وَقَالَ إِنَّمَا يَتَكَلَّمُ فِيهِ ابْنُ عَوْنٍ ثُمَّ رَوَى ابْنُ عَوْنٍ عَنْ هِلاَلِ بْنِ أَبِي زَيْنَبَ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) বলেন, রাবী শাহর ইবনে হাওশাব-এর হাদীস সম্পর্কে আমি পরোয়া করি না। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল (বুখারী) (রাহঃ)-কে শাহর ইবনে হাওশাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। তিনি আরো বলেছেন, শুধুমাত্র ইবনে ’আওনই তার সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন। কিন্তু ইবনে আওনই আবার হিলাল ইবনে আবু যায়নাব সূত্রে শাহর ইবনে হাওশাব থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।

হাদীসের ব্যাখ্যা:

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি হিজরত করে পবিত্র মদীনায় আগমনের পর সামাজিক লেনদেন ইত্যাদি বিষয়ে নির্দেশ নাযিল হতে থাকে, তখন প্রাথমিকভাবে সূরা বাকারার ১৮০ নং আয়াত كُتِبَ عَلَيْكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ -এর মাধ্যমে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, যে ব্যক্তির নিকট কতক সম্পদ রয়েছে, তার জন্য মৃত্যুর পূর্বে পিতা-মাতা ও অন্যান্য নিকট আত্মীয়দের জন্য সংগত পন্থায় ওসীয়ত করে যাওয়া চাই। এর কিছু দিন পর উত্তরাধিকারের বিস্তারিত নীতিমালা সুরা নিসায় নাযিল হয়। এভাবে ওসীয়তের প্রথম নির্দেশ অন্ততপক্ষে শরী'আতী উত্তরাধিকারীদের ক্ষেত্রে রহিত হয়ে যায় এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ বিদায় হজ্জের ভাষণে অন্যান্য প্রয়োজনীয় নির্দেশের সাথে এটাও ঘোষণা করেন যে, আল্লাহ তা'আলা উত্তরাধিকারের আইন নাযিল করে সব উত্তরাধিকারীর অংশ নির্ধারিত করে দিয়েছেন। সুতরাং এখন কোন ওয়ারিশের জন্য ওসীয়ত করা যাবে না।

وفي رواية الدارقطني قال لا تجوز وصية لوارث إلا أن يشاء الورثة .
দারা কুতনীর বর্ণনায় রয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, এখন কোন উত্তরাধিকারীর জন্য ওসীয়ত বৈধ নয়, তবে অন্যান্য উত্তরাধিকারী চাইলে। অর্থাৎ যদি কোন ব্যক্তির শরীআতী ওয়ারিস এ কথায় সম্মত হয় যে, সম্পদের মালিক কোন উত্তরাধিকারীর ব্যাপারে (তার শরীআতী অংশ ছাড়াও অতিরিক্ত) ওসীয়ত করবে এবং এতে তার কোন আপত্তি নেই, তবে এরূপ অসীয়ত বৈধ এবং চালু হবে, (শর্ত হচ্ছে অন্য ওয়ারিস বুদ্ধিসম্পন্ন ও প্রাপ্তবয়ষ্ক হতে হবে)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান