আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩৩. ফিতনাসমূহ ও কিয়ামতের বিবরণ

হাদীস নং: ২২৪০
আন্তর্জাতিক নং: ২২৪০
ফিতনাসমূহ ও কিয়ামতের বিবরণ
দাজ্জালের ফিতনা।
২২৪৩. আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ...... নাওওয়ান ইবনে সামআন কিলাবী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন সকালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাজ্জালের আলোচনা করলেন এবং বিষয়টির ভীষণতা এবং নিকৃষ্টতা সব কিছু তুলে ধরেন। এমনকি আমাদের ধারণা হচ্ছিল, যে সে খেজুর বাগানে উপস্থিত রয়েছে।

নাওওয়াস (রাযিঃ) বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছ থেকে ফিরে গেলাম। পরে বিকালে আবার তাঁর কাছে এলাম। তিনি আমাদের মাঝে দাজ্জালের ভীতির চিহ্ন দেখে বললেনঃ তোমাদের একি অবস্থা? আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনি সকালে দাজ্জালের আলোচনা করেছিলেন এবং বিষয়টির ভীষণতা এবং নিকৃষ্টতা এমন উল্লেখ করেছিলেন যে, আমাদের মনে হচ্ছিল সে বুঝি খেজুর বাগানে কিনারে এসে হাজির। তিনি বললেনঃ তোমাদের জন্য দাজ্জাল ছাড়া অন্যকিছুর অধিক আশঙ্কা আমার রয়েছে। তোমাদের মাঝে আমার জীবদ্দশায় যদি এর আবির্ভাব হয় তবে আমিই তোমাদের পক্ষে এর বিরুদ্ধে বিতর্কে জয়ী হব। আর আমি যদি তোমাদের মাঝে না থাকি তখন যদি সে বের হয় তবে প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজের পক্ষে তার বিরুদ্ধে বিতর্ককারী হবে। প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আমার স্থলে আল্লাহ তাআলা নিজেই সহায়ক হবেন।

দাজ্জাল হল এক যুবক। তার চুল অতিশয় কুকড়ানো, চোখ তার স্থির। আব্দুল উযযা ইবনে কাতান সদৃশ হবে। তোমাদের কেউ যদি তাকে পায় তবে সে যেন সূরাতুল কাহফ-এর শুরুর আয়াতগুলো তিলাওয়াত করে। তিনি আরো বলেনঃ শাম ও ইরাকের মধ্যবর্তী অঞ্চল থেকে সে বের হবে। ডান দিক ও বাম দিক সে ফেতনা-ফাসাতের সৃষ্টি করে ফিরবে। হে আল্লাহর বান্দাগণ, তোমরা দৃঢ় থাকবে।

আমরা বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, এ পৃথিবীতে তার কতদিনের অবস্থান হবে?

তিনি বললেন, চল্লিশ দিন; একদিন হপবে এক বছরের মত, একদিন হবে এক মাসের মত, আর একদিন হবে এক সপ্তাহের মত, আর বাকি দিনগুলো হবে তোমাদের স্বাভাবিক দিনগুলোর মত।

আমরা বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, যে দিনটি হবে এক বছরের মত বড় সে দিন কি একদিনের নামাযেই আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে বলে আপনি মনে করেন? তিনি বললেনঃ না, বরং তোমরা এর জন্য (স্বাভাবিক দিনের পরিমাণ) আন্দায করে নিবে (এবং সে হিসাবে নামায আদায় করবে)।

আমরা বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ পৃথিবীতে কত দ্রুত হবে তার গতি?

তিনি বললেনঃ বায়ু তাড়িত মেঘমালার মত। কোন এক সম্প্রদায়ের কাছে আসবে। তাদেরকে সে নিজের দলে ডাকবে। কিন্তু তারা তাকে অস্বীকার করবে এবং তার দাবী প্রত্যাখান করবে। সে তখন তাদের থেকে ফিরে আসবে আর তার পিছে পিছে তাদের সব সম্পদও চলে আসবে। তাদের হাতে আর কিছুই থাকবে না। তারপর সে আরেক সম্প্রদায়ের কাছে যাবে। সে তাদেরকে নিজের দিকে ডাকবে। তারা তার কথা গ্রহণ করবে এবং তাকে সত্য বলে স্বীকার করে নিবে। তখন সে আকাশকে বৃষ্টি ঝড়াতে নির্দেশ দিবে। তারপর তদানুসারে বৃষ্টি নামবে। যমীনকে সে উদ্ভিদ জন্মাতে নির্দেশ দিবে ফলে ফসল হবে। বিকালে তাদের পশুপালগুলো পূর্বের চেয়েও লম্বা, কুঁজ, বিস্তৃত নিতম্ব, দুগ্ধপুষ্ট ওলান বিশিষ্ট হয়ে ফিরে আসবে।

তারপর সে এক বিরান ধবংসস্তুপে আসবে। সেটিকে লক্ষ্য করে বলবেঃ তোমার ধনভাণ্ডার বের করে দাও। তারপর সে এখান থেকে ফিরে আসবে আর যেভাবে রানী মৌমাছিকে ঘিরে ধরে অন্যগুলি তার অনুসরণ করে থাকে তেমনিভাবে সব ধনভাণ্ডার তার অনুসরণ করবে।

এরপর সে যৌবনে পরিপূর্ণ এক তরুন যুবককে তার দিকে আহবান জানাবে। তাকে সে তলোয়ারের আঘাতে দ্বিখণ্ডিত করে ফেলবে। পরে তাকে ডাকবে। যুবকটি (জীবিত হয়ে) হাস্যোজ্জ্বল চেহারা নিয়ে এদিকে আসবে।

এমতাবস্থায় এদিকে ঈসা (আলাইহিস সালাম) দুই ফিরিশতার পাখনায় তাঁর হাত রেখে গেরুয়া রং্গের বসনে স্বেত-শুভ্র মিনারার কাছে পূর্ব দামিশকে অবতরণ করবেন। তাঁর মাথা নীচু করলে পানি ঝরতে থাকবে আর তা উঠানে মোতির মত ফোটায় ফোটায় পানি পড়বে।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যাকেই তাঁর শ্বাস প্রশ্বাস স্পর্শ করবে সেই মারা যাবে। চক্ষু দৃষ্টি যেখানে গিয়ে শেষ হবে সেখানে পর্যন্ত তাঁর নিঃশ্বাসের বাতাস পৌছবে। তিনি দাজ্জালকে তালাশ করবেন এবং লুদ (বায়তুল মুকাদ্দাসের নিকটবর্তী একটি শহর)-এর নগর দরজার কাছে তাকে পাবেন। তারপর একে তিনি হত্যা করবেন।

আল্লাহ যতদিন চান তিনি এভাবে বসবাস করবেন। পরবর্তীতে আল্লাহ তাআলা তাকে ওহী পাঠাবেনঃ আমার বান্দাদেরকে তুর পাহাড়ে সরিয়ে নাও। আমি আমার এমন একদল বান্দা নামাচ্ছি যাদের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা কারো নেই। এরপর আল্লাহ তাআলা ইয়াজুজ-মাজুজের দল পাঠাবেন। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার বিবরণ মত প্রতি উচ্চ ভূমি থেকে তারা ছুটে আসবে’। তাদের প্রথম দলটি তাবারিয়া উপসাগর (শামে অবস্থিত একটি ছোট সাগর) অতিক্রম করা কালে এর মাঝে যা পানি আছে সব পান করে ফেলবে। এমন অবস্থা হবে যে, পরে তাদের শেষ দলটি যখন এই উপসাগর অতিক্রম করবে তখন তারা বলবে, 'এখানে এক কালে হয়ত পানি ছিল’। আবার তারা চলবে এবং বায়তুল মুকাদ্দাসে পর্বতে গিয়ে তাদের এই যাত্রার শেষ হবে। তারা পরস্পর বলবেঃ পৃথিবীতে যারা ছিল তাদেরকে তো বধ করেছি এস এবার আসমানে যারা আছে তাদের শেষ করে দইে। তারপর তারা আসমানের দিকে তাদের তীর ছুড়বে। আল্লাহ তাআলা তাদের তীরগুলোকে রক্ত রঞ্জিত করে ফিরিয়ে দিবেন। ঈসা ইবনে মারয়াম (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর সঙ্গীগণ অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকবেন। তাদের অবস্থা এমন কঠিন হয়ে দাঁড়াবে যে, আজকে তোমাদের কাছে একশত স্বর্ণ মুদ্রার যে দাম তাদের কাছে তখন একটি ষাড়ের মাথাও তদপেক্ষা অনেক উত্তম বলে মনে হবে।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তারপর ঈসা (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর সঙ্গীগণ আল্লাহর কাছে মিনতি জানাবেন। আল্লাহ তাআলা তাদের গর্দানে ’‘নাগাফ’’ জাতীয় এক জীবানু মহামারীরূপে প্রেরণ করবেন। তারা সব ধ্বংস হয়ে মরে যাবে যেন একটি মাত্র প্রাণের মৃত্যু হল। এরপর ঈসা (আলাইহিস সালাম) ও তার সঙ্গীগণ পাহাড় থেকে নেমে আসবেন, কিন্তু তারা এব বিঘৎ জায়গাও এমন পাবেন না যেখানে ইয়জুজ-মাজুজের গলিত চর্বি, রক্ত ও দুগন্ধ ছড়িয়ে না আছে। তারপর ঈসা (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর সঙ্গীগণ আল্লাহর কাছে আবার মিনতি জানাবেন। তখন আল্লাহ তাআলা উটের মত লম্বা গলা বিশিষ্ট এক প্রকার পাখি প্রেরণ করবেন। পাখিগুলি ইয়াজুজ-মাজুজদের লাশ উঠিয়ে নীচু গর্তে নিয়ে ফেলে দিবে। মুসলিমগণ তাদের ফেলে যাওয়া ধনুকে জ্যা, তীর এবং তুলীর সাত বছর পর্যন্ত জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করবে। আল্লাহ তাআলা প্রবল বৃষ্টি করবেন শহর বা গ্রামের কোন বাড়িঘরই তা থেকে রক্ষা পাবে না। সমস্ত যমীন ধৌত হয়ে যাবে এবং তা আয়নার মত ঝক ঝকে হয়ে উঠবে।

পরে যমীনকে বলা হবে, তোমার সব ফল ও ফসল বের করে দাও, সব বরকত ফিরিয়ে দাও। এমন হবে যে সেদিন একটি আনার একদল লোক খেতে পারবে এবং একদল লোক এর খোসার নীচে ছায়া গ্রহণ করতে পারবে। দুধের মধ্যেও এমন বরকত হবে যে, একটি দুগ্ধবতী উট বহুসংখ্যক লোক বিশিষ্ট দলের জন্য যথেষ্ট হবে। একটি দুগ্ধবতী গাভী একটি গোত্রের জন্য যথেষ্ট হবে। একটি দুগ্ধবতী ছাগল একটি পরিবারের জন্য যথেষ্ট হবে।

এমন অবস্থায় তারা দিন গুযরান করতে থাকবে হঠাৎ আল্লাহ তাআলা এক হাওয়া চালাবেন। এই হাওয়া প্রত্যেক মুমিনের রূহ কবয করে নিয়ে যাবে। বাকী কেবল দুষ্টু লোকেরা থেকে যাবে। এরা গাধার মত নির্লজ্জভাবে নারী সঙ্গমে লিপ্ত হবে। এদের উপরই কিয়ামত সংঘটিত হবে।
أبواب الفتن عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
بَابُ مَا جَاءَ فِي فِتْنَةِ الدَّجَّالِ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، دَخَلَ حَدِيثُ أَحَدِهِمَا فِي حَدِيثِ الآخَرِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ جَابِرٍ الطَّائِيِّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنِ النَّوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ الْكِلاَبِيِّ قَالَ ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الدَّجَّالَ ذَاتَ غَدَاةٍ فَخَفَّضَ فِيهِ وَرَفَّعَ حَتَّى ظَنَنَّاهُ فِي طَائِفَةِ النَّخْلِ . قَالَ فَانْصَرَفْنَا مِنْ عِنْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ رَجَعْنَا إِلَيْهِ فَعَرَفَ ذَلِكَ فِينَا فَقَالَ " مَا شَأْنُكُمْ " . قَالَ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَكَرْتَ الدَّجَّالَ الْغَدَاةَ فَخَفَّضْتَ فِيهِ وَرَفَّعْتَ حَتَّى ظَنَنَّاهُ فِي طَائِفَةِ النَّخْلِ . قَالَ " غَيْرُ الدَّجَّالِ أَخْوَفُ لِي عَلَيْكُمْ إِنْ يَخْرُجْ وَأَنَا فِيكُمْ فَأَنَا حَجِيجُهُ دُونَكُمْ وَإِنْ يَخْرُجْ وَلَسْتُ فِيكُمْ فَامْرُؤٌ حَجِيجُ نَفْسِهِ وَاللَّهُ خَلِيفَتِي عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ إِنَّهُ شَابٌّ قَطَطٌ عَيْنُهُ قَائِمَةٌ شَبِيهٌ بِعَبْدِ الْعُزَّى بْنِ قَطَنٍ فَمَنْ رَآهُ مِنْكُمْ فَلْيَقْرَأْ فَوَاتِحَ سُورَةِ أَصْحَابِ الْكَهْفِ قَالَ يَخْرُجُ مَا بَيْنَ الشَّامِ وَالْعِرَاقِ فَعَاثَ يَمِينًا وَشِمَالاً يَا عِبَادَ اللَّهِ اثْبُتُوا " . قَالَ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا لُبْثُهُ فِي الأَرْضِ قَالَ " أَرْبَعِينَ يَوْمًا يَوْمٌ كَسَنَةٍ وَيَوْمٌ كَشَهْرٍ وَيَوْمٌ كَجُمُعَةٍ وَسَائِرُ أَيَّامِهُ كَأَيَّامِكُمْ " . قَالَ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ الْيَوْمَ الَّذِي كَالسَّنَةِ أَتَكْفِينَا فِيهِ صَلاَةُ يَوْمٍ قَالَ " لاَ وَلَكِنِ اقْدُرُوا لَهُ " . قَالَ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَمَا سُرْعَتُهُ فِي الأَرْضِ قَالَ " كَالْغَيْثِ اسْتَدْبَرَتْهُ الرِّيحُ فَيَأْتِي الْقَوْمَ فَيَدْعُوهُمْ فَيُكَذِّبُونَهُ وَيَرُدُّونَ عَلَيْهِ قَوْلَهُ فَيَنْصَرِفُ عَنْهُمْ فَتَتْبَعُهُ أَمْوَالُهُمْ فَيُصْبِحُونَ لَيْسَ بِأَيْدِيهِمْ شَيْءٌ ثُمَّ يَأْتِي الْقَوْمَ فَيَدْعُوهُمْ فَيَسْتَجِيبُونَ لَهُ وَيُصَدِّقُونَهُ فَيَأْمُرُ السَّمَاءَ أَنْ تُمْطِرَ فَتُمْطِرَ وَيَأْمُرُ الأَرْضَ أَنْ تُنْبِتَ فَتُنْبِتَ فَتَرُوحُ عَلَيْهِمْ سَارِحَتُهُمْ كَأَطْوَلِ مَا كَانَتْ ذُرًى وَأَمَدِّهِ خَوَاصِرَ وَأَدَرِّهِ ضُرُوعًا قَالَ ثُمَّ يَأْتِي الْخَرِبَةَ فَيَقُولُ لَهَا أَخْرِجِي كُنُوزَكِ فَيَنْصَرِفُ مِنْهَا فَتَتْبَعُهُ كَيَعَاسِيبِ النَّحْلِ ثُمَّ يَدْعُو رَجُلاً شَابًّا مُمْتَلِئًا شَبَابًا فَيَضْرِبُهُ بِالسَّيْفِ فَيَقْطَعُهُ جِزْلَتَيْنِ ثُمَّ يَدْعُوهُ فَيُقْبِلُ يَتَهَلَّلُ وَجْهُهُ يَضْحَكُ فَبَيْنَمَا هُوَ كَذَلِكَ إِذْ هَبَطَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ بِشَرْقِيِّ دِمَشْقَ عِنْدَ الْمَنَارَةِ الْبَيْضَاءِ بَيْنَ مَهْرُودَتَيْنِ وَاضِعًا يَدَيْهِ عَلَى أَجْنِحَةِ مَلَكَيْنِ إِذَا طَأْطَأَ رَأْسَهُ قَطَرَ وَإِذَا رَفَعَهُ تَحَدَّرَ مِنْهُ جُمَانٌ كَاللُّؤْلُؤِ قَالَ وَلاَ يَجِدُ رِيحَ نَفَسِهِ يَعْنِي أَحَدٌ إِلاَّ مَاتَ وَرِيحُ نَفَسِهِ مُنْتَهَى بَصَرِهِ قَالَ فَيَطْلُبُهُ حَتَّى يُدْرِكَهُ بِبَابِ لُدٍّ فَيَقْتُلَهُ قَالَ فَيَلْبَثُ كَذَلِكَ مَا شَاءَ اللَّهُ . قَالَ ثُمَّ يُوحِي اللَّهُ إِلَيْهِ أَنْ حَرِّزْ عِبَادِي إِلَى الطُّورِ فَإِنِّي قَدْ أَنْزَلْتُ عِبَادًا لِي لاَ يَدَانِ لأَحَدٍ بِقِتَالِهِمْ . قَالَ وَيَبْعَثُ اللَّهُ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ وَهُمْ كَمَا قَالَ اللَّهُ: ( مِنْ كُلِّ حَدَبٍ يَنْسِلُونَ ) . قَالَ فَيَمُرُّ أَوَّلُهُمْ بِبُحَيْرَةِ الطَّبَرِيَّةِ فَيَشْرَبُ مَا فِيهَا ثُمَّ يَمُرُّ بِهَا آخِرُهُمْ فَيَقُولُ لَقَدْ كَانَ بِهَذِهِ مَرَّةً مَاءٌ ثُمَّ يَسِيرُونَ حَتَّى يَنْتَهُوا إِلَى جَبَلِ بَيْتِ الْمَقْدِسِ فَيَقُولُونَ لَقَدْ قَتَلْنَا مَنْ فِي الأَرْضِ هَلُمَّ فَلْنَقْتُلْ مَنْ فِي السَّمَاءِ . فَيَرْمُونَ بِنُشَّابِهِمْ إِلَى السَّمَاءِ فَيَرُدُّ اللَّهُ عَلَيْهِمْ نُشَّابَهُمْ مُحْمَرًّا دَمًا وَيُحَاصَرُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ وَأَصْحَابُهُ حَتَّى يَكُونَ رَأْسُ الثَّوْرِ يَوْمَئِذٍ خَيْرًا لأَحَدِهِمْ مِنْ مِائَةِ دِينَارٍ لأَحَدِكُمُ الْيَوْمَ . قَالَ فَيَرْغَبُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ إِلَى اللَّهِ وَأَصْحَابُهُ قَالَ فَيُرْسِلُ اللَّهُ إِلَيْهِمُ النَّغَفَ فِي رِقَابِهِمْ فَيُصْبِحُونَ فَرْسَى مَوْتَى كَمَوْتِ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ قَالَ وَيَهْبِطُ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ فَلاَ يَجِدُ مَوْضِعَ شِبْرٍ إِلاَّ وَقَدْ مَلأَتْهُ زَهَمَتُهُمْ وَنَتَنُهُمْ وَدِمَاؤُهُمْ قَالَ فَيَرْغَبُ عِيسَى إِلَى اللَّهِ وَأَصْحَابُهُ قَالَ فَيُرْسِلُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ طَيْرًا كَأَعْنَاقِ الْبُخْتِ قَالَ فَتَحْمِلُهُمْ فَتَطْرَحُهُمْ بِالْمَهْبِلِ وَيَسْتَوْقِدُ الْمُسْلِمُونَ مِنْ قِسِيِّهِمْ وَنُشَّابِهِمْ وَجِعَابِهِمْ سَبْعَ سِنِينَ قَالَ وَيُرْسِلُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مَطَرًا لاَ يَكُنُّ مِنْهُ بَيْتُ وَبَرٍ وَلاَ مَدَرٍ قَالَ فَيَغْسِلُ الأَرْضَ فَيَتْرُكُهَا كَالزَّلَفَةِ قَالَ ثُمَّ يُقَالُ لِلأَرْضِ أَخْرِجِي ثَمَرَتَكِ وَرُدِّي بَرَكَتَكِ . فَيَوْمَئِذٍ تَأْكُلُ الْعِصَابَةُ مِنَ الرُّمَّانَةِ وَيَسْتَظِلُّونَ بِقِحْفِهَا وَيُبَارَكُ فِي الرِّسْلِ حَتَّى إِنَّ الْفِئَامَ مِنَ النَّاسِ لَيَكْتَفُونَ بِاللَّقْحَةِ مِنَ الإِبِلِ وَإِنَّ الْقَبِيلَةَ لَيَكْتَفُونَ بِاللَّقْحَةِ مِنَ الْبَقَرِ وَإِنَّ الْفَخِذَ لَيَكْتَفُونَ بِاللَّقْحَةِ مِنَ الْغَنَمِ فَبَيْنَمَا هُمْ كَذَلِكَ إِذْ بَعَثَ اللَّهُ رِيحًا فَقَبَضَتْ رُوحَ كُلِّ مُؤْمِنٍ وَيَبْقَى سَائِرُ النَّاسِ يَتَهَارَجُونَ كَمَا تَتَهَارَجُ الْحُمُرُ فَعَلَيْهِمْ تَقُومُ السَّاعَةُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ .

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

এ হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব। আবদুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ ইবনে জাবির (রাহঃ) এর সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমরা অবহিত নই।

হাদীসের ব্যাখ্যা:

দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়
কুরআন মাজীদ আল্লাহ তা'আলার কালাম। এ কালাম অত্যন্ত বরকতপূর্ণ। সমগ্র কুরআন তো বটেই, এর একেকটি সূরাই অশেষ কল্যাণময়। এক হাদীছে সূরা কাহফের প্রথম দশ আয়াতের ফযীলত বলা হয়েছে যে, তা মুখস্থ রাখলে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। আল্লাহু আকবার! এটা কত বড় ফযীলত, তা কি অনুমান করা সম্ভব? দাজ্জালের ফিতনা সর্বকালের সবচে' ভয়ংকর। নবী কারীম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

مَا بَيْنَ خَلْقِ آدَمَ إِلَى قِيَامِ السَّاعَةِ خَلْقٌ أَكْبَرُ مِنَ الدَّجَّال

'আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করার পর কিয়ামত পর্যন্ত দাজ্জালের চেয়ে বড় ভয়ংকর কিছু আল্লাহ সৃষ্টি করেননি। (সহীহ মুসলিম: ২৯৪৬; মুসান্নাফে ইবন আবী শায়বা ৩৭৪৭১: মুসনাদে আবূ ইয়া'লা, ৮৬১০, ১৫৫)

দাজ্জাল এতটা ভয়ংকর হওয়া সত্ত্বেও মাত্র দশটি আয়াত মুখস্থ রাখার দ্বারা আল্লাহ তা'আলা বান্দাকে তার ফিতনা থেকে রক্ষা করবেন। অর্থাৎ দাজ্জাল তার ভয়ংকর দাপট ও হাজারও ভেলকি দেখিয়েও তার ঈমান হরণ করতে পারবে না। সে তার মহা বিভ্রান্তিকর কাণ্ডকারখানা দ্বারাও তাকে ঈমান থেকে টলাতে সক্ষম হবে না।

এক হাদীছে তো সূরা কাহফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করার কথা বলা হয়েছে। অপরদিকে হযরত আবূদ দারদা রাযি. বর্ণিত এক হাদীছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

مَنْ قَرَأَ عَشْرَ آيَاتٍ مِنْ آخِرِ الْكَهْفِ عُصِمَ مِنَ الدَّجَّالِ.
যে ব্যক্তি সূরা কাহফের শেষের দশ আয়াত পড়বে, তাকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা করা হবে। (সহীহ ইবন হিব্বান: ৭৮৬)

উভয় বর্ণনার মধ্যে কোনও বৈপরিত্য নেই। কেননা একই ফযীলত সূরাটির প্রথমাংশ ও শেষাংশ উভয়ের মধ্যেই থাকা অসম্ভব কিছু নয়। কাজেই সূরাটির প্রথম দশ আয়াত পড়ার দ্বারা যেমন দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে, তেমনি শেষের দশ আয়াত দ্বারাও একই উপকার লাভ হবে।

অপর এক হাদীছে সূরাটির প্রথম তিন আয়াতের বেলায়ও অভিন্ন ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। হযরত আবূদ দারদা রাযি. বর্ণিত এক হাদীছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

مَنْ قَرَأَ ثَلَاثَ آيَاتٍ مِنْ أَوَّلِ الْكَهْفِ عُصِمَ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ
যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম তিন আয়াত পড়বে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে। (জামে' তিরমিযী: ২৮৮৬)

এটা বান্দার প্রতি আল্লাহ তা'আলার অপরিসীম রহমতেরই প্রকাশ। তিনি অতি সহজ সহজ আমলের অসিলায়ও বান্দাকে অকল্পনীয় কল্যাণ দান করে থাকেন।

দাজ্জালের ফিতনা থেকে আত্মরক্ষার জন্য নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু'আ শিক্ষা দিয়েছেন-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَعَذَابِ الْقَبْرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ

হে আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় গ্রহণ করছি জাহান্নামের আযাব ও কবরের আযাব থেকে। আপনার আশ্রয় গ্রহণ করছি মাসীহুদ দাজ্জালের ফিতনা থেকে এবং আপনার আশ্রয় গ্রহণ করছি জীবন ও মরণের পরীক্ষা থেকে। (সহীহ বুখারী: ৮৩২; সহীহ মুসলিম: ৫৮৮: সুনানে নাসাঈ ১৩০৯: সুনানে আবূ দাউদ: ৮৮০; জামে তিরমিযী: ৩৪৯৪; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক: ৩০৮৮: মুসনাদে আহমাদ: ২১৬৭: সুনানে ইবন মাজাহ ৩৮৪১: মুসনাদে আবূ ইয়া'লা: ৪৪৭৪: সহীহ ইবন হিব্বান: ১৯৬৮)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে যেভাবে কুরআনের কোনও সূরা শেখাতেন, তেমনিভাবে এ দু'আটিও শিক্ষা দিতেন।

দাজ্জালের আবির্ভাব সম্পর্কিত কিছু হাদীছ
দাজ্জাল কিয়ামতের সর্ববৃহৎ আলামতসমূহের একটি। একদম শেষ যমানায় তার আত্মপ্রকাশ ঘটবে। তার ফিতনা সর্বাপেক্ষা ভয়ংকর হওয়ার কারণে সমস্ত নবী-রাসূল আপন আপন উম্মতকে তার সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ নবী হওয়ায় অধিকতর স্পষ্টভাবে তার সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং তাকে চেনার আলামতসমূহও বলে দিয়েছেন।

দাজ্জাল কোথা হতে আত্মপ্রকাশ করবে, সে সম্পর্কে হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

الدَّجَّالُ يَخْرُجُ مِنْ أَرْضِ بِالْمَشْرِقِ يُقَالُ لَهَا : خَرَاسَانُ.
দাজ্জাল বের হবে পূর্বাঞ্চলীয় এক ভূমি থেকে, যার নাম খুরাসান। (জামে' তিরমিযী: ২২৩৭: সুনানে ইবন মাজাহ। ৪০৭৩; মুসনাদুল বাযযার ৪৭: মুসনাদে আবূ ইয়া'লা: ৩৩)

হযরত আনাস ইবন মালিক রাযি, বর্ণিত হাদীছে আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

يَخْرُجُ الدَّجَّالُ مِنْ يَهُودِيَّةِ أَصْبَهَانَ، وَمَعَهُ سَبْعُونَ أَلْفًا مِنَ الْيَهُودِ.
দাজ্জাল বের হবে ইস্পাহানের ইহুদী সম্প্রদায় থেকে। তার সঙ্গে থাকবে সত্তর হাজার ইহুদী। (তাবারানী, আল মু'জামুল আওসাত: ৪৯৩০; মুসনাদুল বাযযার: ৬৪১৬; মুসনাদে আবূ ইয়া'লা: ৩৬৩৯; হাকিম, আল মুসতাদরাক ৮৬১১)

এ হাদীছদু'টির মধ্যে কোনও বিরোধ নেই। কেননা ইস্পাহান ইরানের খোরাসান অঞ্চলেরই অন্তর্গত একটি জায়গার নাম।

উল্লেখ্য, এটা হবে তার প্রথম প্রকাশ। তখন তার ফিতনা খুব বেশি বিস্তার লাভ করবে না। সে এখান থেকে বিপুলসংখ্যক অনুগামী নিয়ে শামের দিকে চলে যাবে। হযরত নাউওয়াস ইবন সাম'আন রাযি, বর্ণিত এক হাদীছে আছে- يَخْرُجُ مِنْ خلَّةٍ بَيْنَ الشَّامِ وَالْعِرَاق (সে শাম ও ইরাকের মধ্যবর্তী এক ফাঁকা স্থান থেকে বের হবে)। خلَّة অর্থ শূন্যস্থান, পথ। পার্বত্য এলাকায় সাধারণত উপত্যকা দিয়ে চলাফেরা করা হয়। এ হাদীছে সম্ভবত কোনও এক উপত্যকার কথা বলা হয়েছে। দাজ্জাল হয়তো তার চূড়ান্ত আবির্ভাবকালে শাম ও ইরাকের মধ্যবর্তী কোনও উপত্যকাকে ঘাঁটি বানাবে। সেখান থেকেই সে চারদিকে ফিতনা-ফাসাদ বিস্তার করে বেড়াবে।

দাজ্জালের প্রকাশ কখন হবে, সে সম্পর্কে এক দীর্ঘ হাদীছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- মুসলিমগণ এমন একটি নগরে অভিযান চালাবে, যার এক প্রান্ত সাগরে, অন্য প্রান্ত স্থলে। আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে সে নগরে বিজয় দান করবেন। তারা সেখানে গনীমত লাভ করবে। তারা গনীমতের সম্পদ বণ্টনে রত থাকবে, এ অবস্থায় হঠাৎ করে তাদের কাছে চিৎকার পৌছাবে যে, দাজ্জাল বের হয়ে পড়েছে। তখন তারা সবকিছু ফেলে রেখে ফিরে আসবে। (সহীহ মুসলিম : ২৯২০; মুসান্নাফে ইবন আবী শায়বা: ৩৭৪৮০; মুসনাদে আহমাদ: ৪১৪৬; মুসনাদে আবূ ইয়া'লা: ৫৩৮১: হাকিম, আল মুসতাদরাক: ৮৪৭১)

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুদীর্ঘ এক হাদীছে দাজ্জালের বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করেছেন। হযরত নাউওয়াস ইবন সামআন রাযি. থেকে বর্ণিত সে হাদীছে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন সকাল বেলা দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করলেন। তিনি সে আলোচনায় কখনও স্বর নিচু করলেন এবং কখনও উঁচু করলেন। এমনকি আমরা মনে করলাম সে হয়তো সামনের খেজুর বাগানের ভেতরেই আছে। ক্ষণিক পরে আমরা যখন তাঁর কাছে আসলাম, তখন তিনি আমাদের উপর ভয়ের ছাপ দেখতে পেলেন। জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের কী হয়েছে? আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আজ সকালে দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করলেন। তাতে নিজ আওয়াজ নিচু করলেন এবং উঁচু করলেন। এমনকি আমরা মনে করলাম, সে হয়তো খেজুর বাগানের ভেতরেই আছে। তিনি বললেন, তোমাদের সম্পর্কে দাজ্জাল নয়; বরং অন্য কিছু আমার কাছে বেশি ভয়ের কারণ। যদি সে আমার জীবদ্দশায় বের হয়, তবে আমি তোমাদের পক্ষে তাকে প্রতিরোধ করব। আর যদি সে এমন সময় বের হয়, যখন আমি তোমাদের মধ্যে থাকব না, তবে প্রত্যেকেই নিজ নিজ আত্মরক্ষার ব্যবস্থা করবে। অবশ্য প্রত্যেক মুসলিমের উপর আল্লাহ তা'আলাই আমার স্থলাভিষিক্ত হবেন। সে হবে কোঁকড়ানো চুলের এক যুবক। তার একটি চোখ হবে ভাসমান। আমি যেন তাকে আব্দুল উযযা ইবন কাতানের সাথে তুলনা করছি।

তোমাদের মধ্যে যে-কেউ তাকে পাবে, সে যেন তার উপর সূরা কাহফের শুরুর আয়াতগুলো পাঠ করে। সে শাম ও ইরাকের মধ্যবর্তী এক স্থান থেকে বের হবে। তারপর সে ডানে-বামে ফিতনা বিস্তার করবে। হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা অবিচল থেকো। আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! পৃথিবীতে তার অবস্থান কতকাল হবে? তিনি বললেন, চল্লিশ দিন। তার একদিন হবে এক বছরের সমান। একদিন এক মাসের সমান। একদিন এক সপ্তাহের সমান অন্য সব দিন হবে তোমাদের সাধারণ দিনগুলোর মতো।

আমরা জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যে দিনটি এক বছরের সমান হবে, সে দিনে কি আমাদের এক দিনের নামাযই যথেষ্ট হবে? তিনি বললেন, না, তোমরা সে দিনের জন্য নামাযের ওয়াক্তসমূহ পরিমাপ করে নেবে। আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! পৃথিবীতে তার গতি হবে কেমন? তিনি বললেন, বাতাস তাড়িত বৃষ্টির মতো।

সে একদল লোকের কাছে আসবে এবং তাদেরকে দাওয়াত দেবে। তার তার প্রতি ঈমান আনবে এবং তার ডাকে সাড়া দেবে। তখন সে আকাশকে হুকুম দিলে আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করবে। ভূমিকে হুকুম দেবে। ভূমি ফসল উৎপন্ন করবে। তাদের পশুপাল সন্ধ্যাবেলা তাদের কাছে এমনভাবে ফিরে আসবে যে, তাদের কুঁজগুলো আগের তুলনায় বেশি লম্বা হবে এবং ওলান হবে (দুধে) অধিকতর পরিপূর্ণ আর কোমর হবে অধিকতর চওড়া।

তারপর সে অপর একদল লোকের কাছে আসবে। তাদেরকেও দাওয়াত দেবে, কিন্তু তারা তার কথা প্রত্যাখ্যান করবে। তখন সে তাদের কাছ থেকে ফিরে যাবে। তখন তারা এমন অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়বে যে, তাদের হাতে তাদের সম্পদের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। সে এক পতিত ভূমির উপর দিয়ে যাবে আর বলবে, তুমি তোমার অভ্যন্তরে যা-কিছু সম্পদ আছে তা বের করে দাও। ফলে সে ভূমির ধনভাণ্ডারসমূহ তার অনুগামী হবে, যেমন মৌমাছিরা তাদের নেতার অনুগমন করে থাকে।

তারপর সে এক পরিপূর্ণ যুবককে দাওয়াত দেবে। সে তাকে তরবারি দ্বারা আঘাত করবে। ফলে যুবকটি দু'টুকরো হয়ে দু'দিকে ছিটকে পড়বে- তিরের লক্ষ্যবস্তু সমান দূরত্বে। তারপর সে যুবকটিকে ডাক দেবে। ফলে সে তার দিকে ঝলমল চেহারায় হাসতে হাসতে এগিয়ে আসবে। ঠিক এ অবস্থায় আল্লাহ তা'আলা মাসীহ ইবন মারয়ামকে পাঠাবেন। তিনি দামেশকের পূবদিকে সাদা মিনারার কাছে নেমে আসবেন। তাঁর পরিধানে থাকবে দু'টি জাফরানি কাপড়। তাঁর দুই হাত থাকবে দুই ফিরিশতার ডানায়। যখন তিনি মাথা নিচু করবেন, তখন মাথা থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় পানি ঝরবে। আর যখন মাথা উঁচু করবেন, তখন মুক্তার দানার মতো পানি নেমে আসবে। যে কাফেরেরই গায়ে তাঁর নিঃশ্বাস লাগবে, তার অবশ্যই মৃত্যু ঘটবে। তাঁর নিঃশ্বাস পৌঁছবে দৃষ্টির শেষ সীমা পর্যন্ত। তিনি দাজ্জালকে সন্ধান করবেন। বাবুল লুদ্দ নামক স্থানে তাকে পেয়ে যাবেন। সেখানে তাকে হত্যা করবেন। (সহীহ মুসলিম: ২৮৩৭: সুনানে আবূ দাউদ: ৪৩২১; জামে তিরমিযী: ২২৪০; সুনানে ইবন মাজাহ: ৪০৭৫। হাকিম, আল মুসতাদরাক। ৮৫০৮। বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৪২৬১)

এ হাদীছটি দ্বারা আমরা দাজ্জাল সম্পর্কে অনেক কিছুই জানতে পারি। যেমন সে হবে এক সুঠামদেহী যুবক। একটি চোখ চামড়া দিয়ে ঢাকা থাকবে। অন্য চোখ থাকবে আঙুরের দানার মতো ভাসমান। পৃথিবীর চারদিকে সে ফিতনা বিস্তার করবে। সর্বমোট ৪০ দিন সে থাকবে। তার প্রথম দিন এক বছর, দ্বিতীয় দিন এক মাস ও তৃতীয় দিন এক সপ্তাহের সমান হবে। তার হুকুমে বৃষ্টি বর্ষিত হবে ও প্রচুর ফল-ফসল জন্মাবে। তার নির্দেশে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে। সে মৃত মানুষকে জীবিত পর্যন্ত করে দেখাবে। এ সম্পর্কে এক দীর্ঘ হাদীছে আছে-

وَإِنَّ مِنْ فِتْنَتِهِ أَنْ يَقُولَ لأَعْرَابِيٍّ أَرَأَيْتَ إِنْ بَعَثْتُ لَكَ أَبَاكَ وَأُمَّكَ أَتَشْهَدُ أَنِّي رَبُّكَ فَيَقُولُ نَعَمْ ‏.‏ فَيَتَمَثَّلُ لَهُ شَيْطَانَانِ فِي صُورَةِ أَبِيهِ وَأُمِّهِ فَيَقُولاَنِ يَا بُنَىَّ اتَّبِعْهُ فَإِنَّهُ رَبُّكَ ‏.‏

দাজ্জালের একটা ফিতনা হবে এরকম যে, সে এক বেদুঈনকে বলবে, আমি যদি তোমার পিতা-মাতাকে কবর থেকে জীবিত করে উঠাই, তবে কি তুমি স্বীকার করবে যে, আমি তোমার রব্ব? সে বলবে, হাঁ। তখন দু'টি শয়তান (দুষ্ট জিন) তার সামনে তার পিতামাতার আকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করবে। তারা বলবে, ওহে বাছা। তুমি এর অনুসরণ করো। কেননা সে তোমার রব্ব। (সুনানে ইবন মাজাহ: ৪০৭৭)

দাজ্জাল নিজেকে রব্ব বলে দাবি করবে। তার হাতে অলৌকিক অনেক ঘটনা দেখে মূর্খ শ্রেণির লোক তার উপর ঈমান আনবে। তারা সত্যিকারের রব্ব আর এ মিথ্যাবাদী রব্বের মধ্যে পার্থক্য করতে পারবে না। প্রকৃত মুমিনগণ যাতে পার্থক্য করতে পারে, সে লক্ষ্যে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু নিদর্শন বলে দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ করেন-

عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا بُعِثَ نَبِيٌّ إِلَّا أَنْذَرَ أُمَّتَهُ الأَعْوَرَ الكَذَّابَ، أَلاَ إِنَّهُ أَعْوَرُ، وَإِنَّ رَبَّكُمْ لَيْسَ بِأَعْوَرَ، وَإِنَّ بَيْنَ عَيْنَيْهِ مَكْتُوبٌ كَافِرٌ»

হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা এমন কোনও নবী পাঠাননি, যিনি তাঁর উম্মতকে মহা মিথ্যুক কানা দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেননি। শোনো! সে হবে কানা। আর তোমাদের প্রতিপালক কানা নন। দাজ্জালের দুই চোখের মাঝখানে লেখা থাকবে কাফের। (সহীহ বুখারী: ৬৫৯৮; সহীহ মসলিম: ২৯৩৩; সুনানে আবূ দাউদ: ৪৩১৬: জামে' তিরমিযী: ২২৪৫; মুসনাদুল বাযযার: ৭১৪৬)

'কাফের' লেখাটা প্রকৃত মুমিন দেখতে পাবে। এমনকি নিরক্ষর মুমিনও আল্লাহ তা'আলার সাহায্যে তা পড়তে সক্ষম হবে। কানা হওয়াটা এবং কাফের লেখা থাকাটা দাজ্জালের এমনই অকাট্য আলামত, যা দেখার পর কোনও মুমিন ব্যক্তি দাজ্জালের কোনওরূপ ভেলকিবাজিতে বিভ্রান্ত হবে না। সর্বাবস্থায় তার ঈমান থাকবে অটুট। এরূপ এক মুমিন সম্পর্কে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানান-

وَإِنَّ مِنْ فِتْنَتِهِ أَنْ يُسَلَّطَ عَلَى نَفْسٍ وَاحِدَةٍ، فَيَقْتُلَهَا، وَيَنْشُرَهَا بِالْمِنْشَارِ، حَتَّى يُلْقَى شقتين، ثُمَّ يَقُولَ: انْظُرُوا إِلَى عَبْدِي هَذَا، فَإِنِّي أَبْعَثُهُ الْآنَ، ثُمَّ يَزْعُمُ أَنَّ لَهُ رَبًّا غَيْرِي، فَيَبْعَثهُ اللهُ، وَيَقُولُ لَهُ الْخَبِيثُ مَنْ رَبُّكَ ؟ فَيَقُولُ رَبِّيَ اللَّهُ، وَأَنْتَ عَدُوٌّ اللَّهِ، أنتَ الدَّجَّالُ، وَاللهِ مَا كُنْتُ بَعْدُ أَشَدَّ بَصِيرَةً بِكَ مِنِّي الْيَوْمَ، قَالَ أَبُو الْحَسَنِ الطَّنَافِسِيُّ: فَحَدَّثَنَا الْمُحَارِبِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ الْوَلِيدِ الْوَصَّافِيُّ، عَنْ عَطِيَّةَ. عَنْ أَبِي سَعِيدٍ ، قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ذَلِكَ الرَّجُلُ أَرْفَعُ أُمَّتِي دَرَجَةً فِي الْجَنَّةِ

'তার আরেকটা ফিতনা হবে এরকম যে, সে এক ব্যক্তির উপর নিজ ক্ষমতা আরোপ করবে। সে তাকে হত্যা করবে। করাত দিয়ে চিড়ে ফেলবে। ফলে সে দু'ভাগ হয়ে পড়ে যাবে। তারপর বলবে, তোমরা আমার এ দাসটার দিকে লক্ষ করো। আমি তাকে পুনর্জীবিত করব। তারপরও সে দাবি করবে, আমি ছাড়া তার একজন রব্ব আছে। তখন আল্লাহ তা'আলা তাকে পুনর্জীবিত করবেন। এ অবস্থায় খবীছ দাজ্জাল তাকে বলবে, তোমার রব্ব কে? সে বলবে, আমার রব্ব আল্লাহ আর তুমি আল্লাহর শত্রু, তুমি দাজ্জাল। আল্লাহর কসম। আজকের তুলনায় তোমার অবস্থা আমার কাছে বেশি পরিষ্কার আর কখনও ছিল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জান্নাতে আমার উম্মতের মধ্যে ওই ব্যক্তি সর্বাপেক্ষা উচ্চমর্যাদার অধিকারী হবে। (সুনানে ইবন মাজাহ: ৪০৭৭)

দাজ্জাল সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহের আলোকে ইমাম ইবন কাছীর রহ. আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া গ্রন্থে বলেন- "মুসলিমদের কনস্টান্টিনোপল জয়ের পর দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে। তার শুরুটা হবে ইস্পাহানের ইয়াহুদিয়া নামক এক জনপদ থেকে। সেখানকার সত্তর হাজার ইহুদী তাকে সমর্থন করবে। তারা হবে অস্ত্রসজ্জিত ও জুব্বা পরিহিত। তাছাড়া সত্তর হাজার তাতারিসহ খুরাসানের বহু লোক তার সহযোগী হবে। প্রথমে সে একজন নেককার লোকরূপে আত্মপ্রকাশ করবে। তারপর সে এক প্রতাপশালী রাজারূপে ক্ষমতাসীন হবে। তারপর সে নবুওয়াত দাবি করবে। শেষটায় নিজেকে রব্ব বলে ঘোষণা করবে। অজ্ঞ ও নির্বোধ জনসাধারণ তাকে মেনে নেবে। কিন্তু যেসব নেককার লোককে আল্লাহ তা'আলা হিদায়াত দান করবেন, তারা তার বিরোধিতা করবে। সে একের পর এক নগর, দুর্গ জয় করবে। জয় করতে থাকবে একের পর এক দেশ। মক্কা ও মদীনা ছাড়া কোনও দেশ তার আধিপত্যের বাইরে থাকবে না।"

দাজ্জাল যেসকল স্থানে যেতে পারবে না
পবিত্র মক্কা ও মদীনা মুনাউওয়ারায় তার প্রবেশ করার ক্ষমতা হবে না। এমনকি মদীনা মুনাউওয়ারায় যারা বাস করবে, তাদের উপর দাজ্জালের প্রভাবও পড়বে না। হযরত আবূ বাকরা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

لا يَدْخُلُ الْمَدِينَةَ رُعْبُ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ، لَهَا يَوْمَئِذٍ سَبْعَةُ أَبْوَابٍ، عَلَى كُلِّ بَابِ مَلَكَانِ
মদীনায় দাজ্জালের ভীতিকর প্রভাব পৌঁছবে না। তখন মদীনার থাকবে সাতটি প্রবেশদ্বার। প্রত্যেক দ্বারে দু'জন ফিরিশতা নিয়োজিত থাকবে। (সহীহ বুখারী: ১৮৭৯; মুসান্নাফে ইবন আবী শায়বা: ৩৭৪৮৩; সহীহ ইবন হিব্বান। ৬৮০৫; হাকিম, আল মুসতাদরাক: ৮৬২৭)

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. বর্ণিত এক হাদীছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

عَلَى أَنْقَابِ الْمَدِينَةِ مَلَائِكَةٌ لَا يَدْخُلُهَا الطَّاعُوْنُ، وَلَا الدَّجَّالُ
মদীনার পথে পথে ফিরিশতা নিয়োজিত। তাতে প্লেগ ও দাজ্জাল ঢুকতে পারবে না। (সহীহ বুখারী: ১৮৮০; সহীহ মসলিম: ১৩৭৯; মুসনাদে আহমাদ: ৭২৩৪; নাসাঈ, আস সুনানুল কুবরা ৪২৬০: মুসনাদুল বাযযার: ৮১৫২: বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ২০২২)

দাজ্জাল মদীনা মুনাউওয়ারায় প্রবেশের চেষ্টা অবশ্যই করবে। কিন্তু ফিরিশতাগণ বাধা দেওয়ায় প্রবেশ করতে সক্ষম হবে না। অগত্যা সে মদীনার উপকণ্ঠে ছাউনি ফেলবে। এ সম্পর্কে হযরত আনাস রাযি. বর্ণিত এক হাদীছে আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

«يَجِيءُ الدَّجَّالُ، حَتَّى يَنْزِلَ فِي نَاحِيَةِ المَدِينَةِ، ثُمَّ تَرْجُفُ المَدِينَةُ ثَلاَثَ رَجَفَاتٍ، فَيَخْرُجُ إِلَيْهِ كُلُّ كَافِرٍ وَمُنَافِقٍ»
'দাজ্জাল এসে মদীনার উপকণ্ঠে অবস্থান গ্রহণ করবে। অতঃপর মদীনা তিন বার প্রচণ্ডভাবে কেঁপে উঠবে। তখন এখান থেকে প্রত্যেক কাফের ও মুনাফিক বের হয়ে দাজ্জালের কাছে চলে যাবে। (সহীহ বুখারী: ৭১২৪; সহীহ মুসলিম: ২৯৪৩। মুসান্নাফে ইবন আবী শায়বা: ৩২৪২৮। মুসনাদুল বাযযার: ৬৪১৪)
এক হাদীছ দ্বারা আরও দু'টি স্থানে দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না বলে জানা যায়। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

وَإِنَّهُ لَا يَقْرَبُ أَرْبَعَةَ مَسَاجِدَ : مَسْجِدَ الْحَرَامِ، وَمَسْجِدَ الرَّسُولِ، وَمَسْجِدَ الْمَقْدِسِ وَالطُّورِ.
'সে চারটি মসজিদের নিকটবর্তী হতে পারবে না- মাসজিদুল হারাম, মাসজিদুর রাসূল, বায়তুল মুকাদ্দাস ও তুর পাহাড়ের মসজিদ। (মুসনাদে আহমাদ। ২৩৬৮৩; মুসান্নাফে ইবন আবী শায়বা: ৩৭৫০৬; তহাবী, শারহু মুশকিলিল আছার ৫৬৮৯)


হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ

ক. কিয়ামতের আগে দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে। এটা সত্য। এতে বিশ্বাস রাখা জরুরি।

খ. দাজ্জালের ফিতনা অত্যন্ত ভয়াবহ। তার ফিতনা থেকে আত্মরক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করা অবশ্যকর্তব্য।

গ. দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার একটি ব্যবস্থা হলো সূরা কাহফের শুরুর দশ আয়াত নিয়মিত পড়া।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)