আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
৪৮- নবীগণের আঃ আলোচনা
হাদীস নং: ৩১৯১
আন্তর্জাতিক নং: ৩৪৩২
- নবীগণের আঃ আলোচনা
২০৪২. মহান আল্লাহর বাণীঃ আর স্মরণ কর, যখন ফিরিশতাগণ বলল, হে মারইয়াম! নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে মনোনীত করেছেন। মারইয়ামের লালন-পালনের দায়িত্ব তাদের মধ্যে কে গ্রহণ করবে। (৩ঃ ৪২-৪৪) বলা হয় يَكْفُلُ অর্থ يَضُمُّ অর্থাৎ নিজ তত্ত্বাবধানে নেয়া। كَفَلَهَا অর্থ নিজ তত্ত্বাবধানে নিল। লালন পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করা, ঋণ-করযের দায়িত্ব গ্রহণও এ ধরনের কিছু নয়।
৩১৯১। আহমাদ ইবনে আবু রাজা (রাহঃ) .... আলী (রাযিঃ) বলেন, আমি নবী (ﷺ)- কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, (ঐ সময়ের) সমগ্র নারীদের মধ্যে ইমরানের কন্যা মারইয়াম হলেন সর্বোত্তম, আর (এ সময়ে) নারীদের সেরা হলেন খাদীজা (রাযিঃ)।
كتاب الأنبياء
بَابُ: {وَإِذْ قَالَتِ الْمَلاَئِكَةُ يَا مَرْيَمُ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَاكِ إِلَى قَوْلِهِ أَيُّهُمْ يَكْفُلُ مَرْيَمَ يُقَالُ يَكْفُلُ يَضُمُّ، كَفَلَهَا ضَمَّهَا، مُخَفَّفَةً لَيْسَ مِنْ كَفَالَةِ الدُّيُونِ وَشِبْهِهَا
3432 - حَدَّثَنِي أَحْمَدُ ابْنُ أَبِي رَجَاءٍ، حَدَّثَنَا النَّضْرُ، عَنْ هِشَامٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبِي، قَالَ:، سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ جَعْفَرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، يَقُولُ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «خَيْرُ نِسَائِهَا مَرْيَمُ ابْنَةُ عِمْرَانَ، وَخَيْرُ نِسَائِهَا خَدِيجَةُ»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হাদীসের বাহ্যিক শব্দমালা দ্বারা বুঝা যায় যে, দুনিয়ার সমস্ত নারীদের মধ্যে সর্বোত্তম ও সবচেয়ে মর্যাদার অধিকারী হলেন, হযরত ঈসা (আ.)-এর মা হযরত মরিয়াম বিনতে ইমরান এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সম্মানিতা স্ত্রী হযরত খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদ। যদি হাদীসের মর্ম এটাই হয়, তাহলে মনে করতে হবে যে, এরা দু'জনই মর্যাদায় সমান। কোন কোন হাদীসের ব্যাখ্যাদাতা এর মর্ম এই বর্ণনা করেছেন যে, হযরত মরিয়াম পূর্ববর্তী উম্মতের সকল নারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠা, আর হযরত খাদীজা এ উম্মতের সকল নারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠা। আর যেহেতু রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ উম্মত সর্বোত্তম উম্মত- অর্থাৎ, পূর্ববর্তী সকল উম্মতের চেয়ে উত্তম, তাই হযরত খাদীজা হযরত মরিয়ামের তুলনায় উত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠা হবেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)