আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩৫. সাক্ষ্য গ্রহন-প্রদান সংক্রান্ত অধ্যায়

হাদীস নং: ২২৯৮
আন্তর্জাতিক নং: ২২৯৮
সাক্ষ্য গ্রহন-প্রদান সংক্রান্ত অধ্যায়
যার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়।
২৩০১. কুতায়বা (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয় খিয়ানতকারী পুরুষের, খিয়ানতকারী নারীর, তুহমত আরোপের কারণে যে পুরুষ এবং নারীকে হদস্বরূপ বেত লাগান হয়েছে তাদের, বিদ্বেষ পোষণকারীর যার সম্পর্কে সে বিদ্বেষ রাখে, পরীক্ষিত মিথ্যা সাক্ষ্যদানকারীর, কোন পরিবারের পক্ষে তাদের পোষ্য ব্যক্তির এবং আযাদকৃত হওয়ার বা আত্মীয় হওয়ার সন্দেহযুক্ত ব্যক্তিল। বর্ণনাকারী ফাযারী বলেনঃ الْقَانِعُ অর্থ لتَّابِعُ (আশ্রিত)।
أبواب الشهادات عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
بَابُ مَا جَاءَ فِيمَنْ لاَ تَجُوزُ شَهَادَتُهُ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْفَزَارِيُّ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ زِيَادٍ الدِّمَشْقِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَجُوزُ شَهَادَةُ خَائِنٍ وَلاَ خَائِنَةٍ وَلاَ مَجْلُودٍ حَدًّا وَلاَ مَجْلُودَةٍ وَلاَ ذِي غِمْرٍ لأَخِيهِ وَلاَ مُجَرَّبِ شَهَادَةٍ وَلاَ الْقَانِعِ أَهْلَ الْبَيْتِ لَهُمْ وَلاَ ظَنِينٍ فِي وَلاَءٍ وَلاَ قَرَابَةٍ " . قَالَ الْفَزَارِيُّ الْقَانِعُ التَّابِعُ . هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ يَزِيدَ بْنِ زِيَادٍ الدِّمَشْقِيِّ . وَيَزِيدُ يُضَعَّفُ فِي الْحَدِيثِ وَلاَ يُعْرَفُ هَذَا الْحَدِيِثُ مِنْ حَدِيثِ الزُّهْرِيِّ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِهِ . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو . قَالَ وَلاَ نَعْرِفُ مَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ وَلاَ يَصِحُّ عِنْدِي مِنْ قِبَلِ إِسْنَادِهِ . وَالْعَمَلُ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي هَذَا أَنَّ شَهَادَةَ الْقَرِيبِ جَائِزَةٌ لِقَرَابَتِهِ . وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي شَهَادَةِ الْوَالِدِ لِلْوَلَدِ وَالْوَلَدِ لِوَالِدِهِ وَلَمْ يُجِزْ أَكْثَرُ أَهْلِ الْعِلْمِ شَهَادَةَ الْوَالِدِ لِلْوَلَدِ وَلاَ الْوَلَدِ لِلْوَالِدِ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِذَا كَانَ عَدْلاً فَشَهَادَةُ الْوَالِدِ لِلْوَلَدِ جَائِزَةٌ وَكَذَلِكَ شَهَادَةُ الْوَلَدِ لِلْوَالِدِ . وَلَمْ يَخْتَلِفُوا فِي شَهَادَةِ الأَخِ لأَخِيهِ أَنَّهَا جَائِزَةٌ وَكَذَلِكَ شَهَادَةُ كُلِّ قَرِيبٍ لِقَرِيبِهِ . وَقَالَ الشَّافِعِيُّ لاَ تَجُوزُ شَهَادَةٌ لِرَجُلٍ عَلَى الآخَرِ وَإِنْ كَانَ عَدْلاً إِذَا كَانَتْ بَيْنَهُمَا عَدَاوَةٌ . وَذَهَبَ إِلَى حَدِيثِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً " لاَ تَجُوزُ شَهَادَةُ صَاحِبِ إِحْنَةٍ " . يَعْنِي صَاحِبَ عَدَاوَةٍ وَكَذَلِكَ مَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ حَيْثُ قَالَ " لاَ تَجُوزُ شَهَادَةُ صَاحِبِ غِمْرٍ لأَخِيهِ " يَعْنِي صَاحِبَ عَدَاوَةٍ .

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

এ হাদীসটি গারীব। ইয়াযীদ ইবনে যিয়াদ দিমাশকী-এর রিওয়ায়াত ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। আর ইয়াযীদ হাদীসের ক্ষেত্রে যঈফ বলে গণ্য, তার সূত্র ব্যতীত যুহরী (রাহঃ) এর রিওয়ায়াত হিসাবে এটি সম্পর্কে আমরা জানতে পারি না। এ বিষয়ে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।

হাদীসটির বিস্তারিত মর্ম সম্পর্কেও আমাদের কিছু জানা নেই এবং আমাদের কাছে এটি সনদের দিক থেকেও সহীহ নয়।

আলিমগণের আমল রয়েছে যে, নিকট আত্মীয়ের পক্ষে আরেক আত্মীয়ের সাক্ষ্য প্রদান জায়েয। তবে সন্তানের পক্ষে পিতার সাক্ষ্য এবং পিতার পক্ষে সন্তানের সাক্ষ্য গ্রহণ করার বিষয়ে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। অধিকাংশ আলিম পিতার পক্ষে সন্তানের সাক্ষ্য এবং সন্তানের পক্ষে পিতার সাক্ষ্য জায়েয বলে মত দেন না। কোন কোন আলিম বলেছেন যদি আদিল বা ন্যায়নিষ্ঠ হয় তবে সন্তানের পক্ষে পিতার সাক্ষ্য প্রদান জায়েয। এমনিভাবে পিতার পক্ষে সন্তানের সাক্ষ্যও জায়েয।

ভাইয়ের পক্ষে অপর এক ভাইয়ের সাক্ষ্য প্রদান জায়েয হওয়ার বিষয়ে কোন ইখতিলাফ নেই। এমনিভাবে প্রত্যেক নিকট আত্মীয়ের সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে ইখতিলাফ নেই।

ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেনঃ যাদের পরস্পরে দুশমনী আছে তাদের একজনের বিরুদ্ধে আরেক জনের সাক্ষ্য গ্রহণ যোগ্য নয়। তিনি আবদুর ররহমান ইবনে আ‘রাজ (রাহঃ) এর বরাতে নবী (ﷺ) থেকে মুরসালরূপে বর্ণিত এ হাদীসটিকে দলীল হিসাবে পেশ করেছেনঃ বিদ্বেষ পোষণকারীর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়। (لاَ تَجُوزُ شَهَادَةُ صَاحِبِ غِمْرٍ لأَخِيهِ) হাদীসটির মর্মও তাই।

حنة এবংغمر এর অর্থ হল শত্রুতা, বিদ্বেষ।