আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩৬. যুহদ-দুনিয়া বিমুখতার বর্ণনা

হাদীস নং: ২৩৯৩
আন্তর্জাতিক নং: ২৩৯৩
যুহদ-দুনিয়া বিমুখতার বর্ণনা
সামনে প্রশংসা করা পছন্দনীয় নয় এবং প্রশংসাকারী প্রসঙ্গে।
২৩৯৬. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ..... আবু মা‘মার (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার জনৈক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে কোন এক আমীরের প্রশংসা করতে শুরু করে। তখন মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ (রাযিঃ) তার মুখে বালু ছুড়ে মারলেন, আর বললেনঃ প্রশংসাকারীদের মুখে বালু ছুড়ে মারতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন।
أبواب الزهد عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ الْمِدْحَةِ وَالْمَدَّاحِينَ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ، قَالَ قَامَ رَجُلٌ فَأَثْنَى عَلَى أَمِيرٍ مِنَ الأُمَرَاءِ فَجَعَلَ الْمِقْدَادُ يَحْثُو فِي وَجْهِهِ التُّرَابَ وَقَالَ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَحْثُوَ فِي وُجُوهِ الْمَدَّاحِينَ التُّرَابَ . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رَوَى زَائِدَةُ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَحَدِيثُ مُجَاهِدٍ عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ أَصَحُّ . وَأَبُو مَعْمَرٍ اسْمُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَخْبَرَةَ وَالْمِقْدَادُ بْنُ الأَسْوَدِ هُوَ الْمِقْدَادُ بْنُ عَمْرٍو الْكِنْدِيُّ وَيُكْنَى أَبَا مَعْبَدٍ وَإِنَّمَا نُسِبَ إِلَى الأَسْوَدِ بْنِ عَبْدِ يَغُوثَ لأَنَّهُ كَانَ قَدْ تَبَنَّاهُ وَهُوَ صَغِيرٌ .

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

এই বিষয়ে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান-সহীহ। যাইদা (রাহঃ)-ও ইয়াযীদ ইবনে আবু যিয়াদ-মুজাহিদ-ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে রিওয়ায়াত করেছেন। মুজাহিদ-আবু মা‘মার (রাহঃ) সূত্রে বর্ণিত সনদটি অধিকতর সহীহ।

আবু মা‘মার (রাহঃ)-এর নাম হল আব্দুল্লাহ ইবনে সাখবারা। মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হলেন মিকদাদ ইবনে আমর কিন্দী। তার কুনিয়াত হল আবু মা‘বাদ। আসওয়াদ ইবনে আবদ ইয়াগুছ তাকে শৈশব অবস্থায়ই পালক পুত্ররূপে গ্রহণ করেছিলেন বলে আসওয়াদ-এর সাথে তাতে সম্পর্কিত করে তাকে মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ বলা হয়।

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীসে 'অধিক প্রশংসাকারী' দ্বারা সম্ভবত ঐসব লোক উদ্দেশ্য, যারা মানুষের তোষামোদ ও চাটুকারিতার জন্য এবং পেশাগতভাবে তাদের সীমাতিরিক্ত প্রশংসা ও কাব্যগাথা রচনা করে। এ হাদীসে বলা হয়েছে যে, যখন এসব লোকের সাথে তোমাদের দেখা হয় এবং তারা তোমাদের মুখের উপর তোমাদের সীমাতিরিক্ত প্রশংসা করতে শুরু করে, তখন তাদের মুখে মাটি ছিটিয়ে দাও। এর একটি অর্থ এমন বর্ণনা করা হয়েছে যে, তাদেরকে কোন প্রকার পুরস্কার ও বখশিশ দিয়ো না। তাই মুখে মাটি ছিটিয়ে দেওয়ার অর্থ যেন এই হল যে, তাদেরকে কিছু দিয়ো না; বরং তাদেরকে ব্যর্থ মনোরথ ও বঞ্চিত অবস্থায় ফিরিয়ে দাও। আরেকটি অর্থ এই বলা হয়েছে যে, অতি প্রশংসাকারীদেরকে বলে দাও যে, তোমাদের মুখে মাটি পড়ুক। যেন একথা বলাই তাদের মুখে মাটি নিক্ষেপ করার শামিল। কেউ কেউ আক্ষরিক অর্থেই মাটি ছিটানোর অর্থ গ্রহণ করেছেন। হাদীসটির রাবী হযরত মেকদাদ ইবনুল আসওয়াদ একবার এক ব্যক্তি তার উপস্থিতিতে হযরত উসমান রাযি.-এর সামনে তার প্রশংসা করল। তিনি তখন এ হাদীসের উপর আমল করতে গিয়ে ভূমি থেকে কিছু মাটি নিয়ে তার মুখে নিক্ষেপ করলেন। পরবর্তী যুগের কোন কোন মনীষী থেকেও এ ধরনের ঘটনা বর্ণিত রয়েছে।

একথা প্রকাশ থাকা চাই যে, যদি ভালো নিয়্যতে এবং কোন দ্বীনি কল্যাণের খাতিরে আল্লাহর কোন বান্দার সত্যিকার প্রশংসা তার সামনে অথবা পশ্চাতে করা হয় এবং এ আশংকা না থাকে যে, সে আত্মম্ভরিতা ও নিজের ব্যাপারে কোন ভ্রান্ত আত্মতৃপ্তির মধ্যে লিপ্ত হয়ে যাবে, তাহলে এ ধরনের প্রশংসা নিষেধ নয়; বরং ইন্‌শাআল্লাহ ভালো নিয়্যত অনুযায়ী সে সওয়াব ও প্রতিদানের অধিকারী হবে। স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন কোন সাহাবীর এবং কোন কোন সাহাবী অন্য কোন সাহাবীর যে প্রশংসা কখনো করেছেন, এটা এ প্রকারেরই ছিল।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)