আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩৬. যুহদ-দুনিয়া বিমুখতার বর্ণনা

হাদীস নং: ২৩৯৪
আন্তর্জাতিক নং: ২৩৯৪
যুহদ-দুনিয়া বিমুখতার বর্ণনা
সামনে প্রশংসা করা পছন্দনীয় নয় এবং প্রশংসাকারী প্রসঙ্গে।
২৩৯৭. মুহাম্মাদ ইবনে উসমানী কুফী (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, অতি প্রশংসাকারীদের মুখে মাটি ছুড়ে দিতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন।
أبواب الزهد عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ الْمِدْحَةِ وَالْمَدَّاحِينَ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ سَالِمٍ الْخَيَّاطِ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَحْثُوَ فِي أَفْوَاهِ الْمَدَّاحِينَ التُّرَابَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ .

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সনদে বর্ণিত এ হাদীসটি গারীব।

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীসে 'অধিক প্রশংসাকারী' দ্বারা সম্ভবত ঐসব লোক উদ্দেশ্য, যারা মানুষের তোষামোদ ও চাটুকারিতার জন্য এবং পেশাগতভাবে তাদের সীমাতিরিক্ত প্রশংসা ও কাব্যগাথা রচনা করে। এ হাদীসে বলা হয়েছে যে, যখন এসব লোকের সাথে তোমাদের দেখা হয় এবং তারা তোমাদের মুখের উপর তোমাদের সীমাতিরিক্ত প্রশংসা করতে শুরু করে, তখন তাদের মুখে মাটি ছিটিয়ে দাও। এর একটি অর্থ এমন বর্ণনা করা হয়েছে যে, তাদেরকে কোন প্রকার পুরস্কার ও বখশিশ দিয়ো না। তাই মুখে মাটি ছিটিয়ে দেওয়ার অর্থ যেন এই হল যে, তাদেরকে কিছু দিয়ো না; বরং তাদেরকে ব্যর্থ মনোরথ ও বঞ্চিত অবস্থায় ফিরিয়ে দাও। আরেকটি অর্থ এই বলা হয়েছে যে, অতি প্রশংসাকারীদেরকে বলে দাও যে, তোমাদের মুখে মাটি পড়ুক। যেন একথা বলাই তাদের মুখে মাটি নিক্ষেপ করার শামিল। কেউ কেউ আক্ষরিক অর্থেই মাটি ছিটানোর অর্থ গ্রহণ করেছেন। হাদীসটির রাবী হযরত মেকদাদ ইবনুল আসওয়াদ একবার এক ব্যক্তি তার উপস্থিতিতে হযরত উসমান রাযি.-এর সামনে তার প্রশংসা করল। তিনি তখন এ হাদীসের উপর আমল করতে গিয়ে ভূমি থেকে কিছু মাটি নিয়ে তার মুখে নিক্ষেপ করলেন। পরবর্তী যুগের কোন কোন মনীষী থেকেও এ ধরনের ঘটনা বর্ণিত রয়েছে।

একথা প্রকাশ থাকা চাই যে, যদি ভালো নিয়্যতে এবং কোন দ্বীনি কল্যাণের খাতিরে আল্লাহর কোন বান্দার সত্যিকার প্রশংসা তার সামনে অথবা পশ্চাতে করা হয় এবং এ আশংকা না থাকে যে, সে আত্মম্ভরিতা ও নিজের ব্যাপারে কোন ভ্রান্ত আত্মতৃপ্তির মধ্যে লিপ্ত হয়ে যাবে, তাহলে এ ধরনের প্রশংসা নিষেধ নয়; বরং ইন্‌শাআল্লাহ ভালো নিয়্যত অনুযায়ী সে সওয়াব ও প্রতিদানের অধিকারী হবে। স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন কোন সাহাবীর এবং কোন কোন সাহাবী অন্য কোন সাহাবীর যে প্রশংসা কখনো করেছেন, এটা এ প্রকারেরই ছিল।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান