আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
৪৮- নবীগণের আঃ আলোচনা
হাদীস নং: ৩২০৭
আন্তর্জাতিক নং: ৩৪৫০ - ৩৪৫২
- নবীগণের আঃ আলোচনা
২০৪৭. বনী ইসরাইলের ঘটনাবলীর বিবরণ
৩২০৭। মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... উকবা ইবনে আমর (রাযিঃ) হুযাইফা (রাযিঃ)- কে বললেন, আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে যা শুনেছেন, তা কি আমাদের কাছে বর্ণনা করবেন না? তিনি জবাব দিলেন, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, যখন দাজ্জাল বের হবে তখন তার সাথে পানি ও আগুন থাকবে। এরপর মানুষ যাকে আগুনের মতো দেখবে তা হবে আসলে শীতল পানি। আর যাকে মানুষ শীতল পানির ন্যায় দেখবে, তা হবে প্রকৃতপক্ষে দহনকারী আগুন। তখন তোমাদের মধ্যে যে তার দেখা পাবে, সে যেন অবশ্যই তাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে, যাকে সে আগুনের ন্যায় দেখতে পাবে। কেননা, প্রকৃতপক্ষে তা সুস্বাদু শীতল পানি।
হুযাইফা (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- কে বলতে শুনেছি, তোমাদের পূর্ববর্তীদের মাঝে একজন লোক ছিল। তার কাছে ফিরিশতা তার জান কবয করার জন্য এসেছিলেন। (তার মৃত্যুর পর) তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, তুমি কি কোন ভাল কাজ করেছ? সে জবাব দিল, আমার জানা নেই। তাকে বলা হল, একটু চিন্তা করে দেখ। সে বলল, এ জিনিসটি ব্যতীত আমার আর কিছুই জানা নেই যে, দুনিয়াতে আমি মানুষের সাথে ব্যাবসা করতাম। অর্থাৎ ঋণ দিতাম। আর তা আদায়ের জন্য তাদেরকে তাগাদা দিতাম। আদায় না করতে পারলে আমি স্বচ্ছল ব্যক্তিকে সময় দিতাম আর অভাবী ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দিতাম। তখন আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালেন।
হুযাইফা (রাযিঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- কে এটাও বলতে শুনেছি যে, কোন এক ব্যক্তির মৃত্যুর সময় এসে হাজির হল। যখন সে জীবন থেকে নিরাশ হয়ে গেল। তখন সে তার পরিজনকে ওসীয়্যাত করল, আমি যখন মরে যাব, তখন আমার জন্য অনেকগুলো কাঠ একত্র করে তাতে আগুন জ্বালিয়ে দিও। (আর আমকে তাতে ফেলে দিও) আগুন যখন আমার গোশত খেয়ে ফেলবে এবং আমার হাড় পর্যন্ত পৌঁছে যাবে আর আমার হাড়গুলো বেরিয়ে আসবে, তখন তোমরা তা নিয়ে গুড়ো করে ফেলবে। তারপর যেদিন দেখবে খুব হাওয়া বইছে, তখন সেই ছাই গুলোকে উড়িয়ে দেবে। তার পরিজনেরা তাই করল।
তারপর আল্লাহ সে সব একত্র করলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এ কাজ তুমি কেন করলে? সে জবাব দিল, আপনার ভয়ে। তখন আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। উকবা ইবনে আমর (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- কে বলতে শুনেছি যে, ঐ ব্যক্তি ছিল কাফন চোর।
হুযাইফা (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- কে বলতে শুনেছি, তোমাদের পূর্ববর্তীদের মাঝে একজন লোক ছিল। তার কাছে ফিরিশতা তার জান কবয করার জন্য এসেছিলেন। (তার মৃত্যুর পর) তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, তুমি কি কোন ভাল কাজ করেছ? সে জবাব দিল, আমার জানা নেই। তাকে বলা হল, একটু চিন্তা করে দেখ। সে বলল, এ জিনিসটি ব্যতীত আমার আর কিছুই জানা নেই যে, দুনিয়াতে আমি মানুষের সাথে ব্যাবসা করতাম। অর্থাৎ ঋণ দিতাম। আর তা আদায়ের জন্য তাদেরকে তাগাদা দিতাম। আদায় না করতে পারলে আমি স্বচ্ছল ব্যক্তিকে সময় দিতাম আর অভাবী ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দিতাম। তখন আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালেন।
হুযাইফা (রাযিঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- কে এটাও বলতে শুনেছি যে, কোন এক ব্যক্তির মৃত্যুর সময় এসে হাজির হল। যখন সে জীবন থেকে নিরাশ হয়ে গেল। তখন সে তার পরিজনকে ওসীয়্যাত করল, আমি যখন মরে যাব, তখন আমার জন্য অনেকগুলো কাঠ একত্র করে তাতে আগুন জ্বালিয়ে দিও। (আর আমকে তাতে ফেলে দিও) আগুন যখন আমার গোশত খেয়ে ফেলবে এবং আমার হাড় পর্যন্ত পৌঁছে যাবে আর আমার হাড়গুলো বেরিয়ে আসবে, তখন তোমরা তা নিয়ে গুড়ো করে ফেলবে। তারপর যেদিন দেখবে খুব হাওয়া বইছে, তখন সেই ছাই গুলোকে উড়িয়ে দেবে। তার পরিজনেরা তাই করল।
তারপর আল্লাহ সে সব একত্র করলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এ কাজ তুমি কেন করলে? সে জবাব দিল, আপনার ভয়ে। তখন আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। উকবা ইবনে আমর (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- কে বলতে শুনেছি যে, ঐ ব্যক্তি ছিল কাফন চোর।
كتاب الأنبياء
باب مَا ذُكِرَ عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، قَالَ قَالَ عُقْبَةُ بْنُ عَمْرٍو لِحُذَيْفَةَ أَلاَ تُحَدِّثُنَا مَا سَمِعْتَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنِّي سَمِعْتُهُ يَقُولُ " إِنَّ مَعَ الدَّجَّالِ إِذَا خَرَجَ مَاءً وَنَارًا، فَأَمَّا الَّذِي يَرَى النَّاسُ أَنَّهَا النَّارُ فَمَاءٌ بَارِدٌ، وَأَمَّا الَّذِي يَرَى النَّاسُ أَنَّهُ مَاءٌ بَارِدٌ فَنَارٌ تُحْرِقُ، فَمَنْ أَدْرَكَ مِنْكُمْ فَلْيَقَعْ فِي الَّذِي يَرَى أَنَّهَا نَارٌ، فَإِنَّهُ عَذْبٌ بَارِدٌ ". قَالَ حُذَيْفَةُ وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ " إِنَّ رَجُلاً كَانَ فِيمَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ أَتَاهُ الْمَلَكُ لِيَقْبِضَ رُوحَهُ فَقِيلَ لَهُ هَلْ عَمِلْتَ مِنْ خَيْرٍ قَالَ مَا أَعْلَمُ، قِيلَ لَهُ انْظُرْ. قَالَ مَا أَعْلَمُ شَيْئًا غَيْرَ أَنِّي كُنْتُ أُبَايِعُ النَّاسَ فِي الدُّنْيَا وَأُجَازِيهِمْ، فَأُنْظِرُ الْمُوسِرَ، وَأَتَجَاوَزُ عَنِ الْمُعْسِرِ. فَأَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ ". فَقَالَ وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ " إِنَّ رَجُلاً حَضَرَهُ الْمَوْتُ، فَلَمَّا يَئِسَ مِنَ الْحَيَاةِ أَوْصَى أَهْلَهُ إِذَا أَنَا مُتُّ فَاجْمَعُوا لِي حَطَبًا كَثِيرًا وَأَوْقِدُوا فِيهِ نَارًا حَتَّى إِذَا أَكَلَتْ لَحْمِي، وَخَلَصَتْ إِلَى عَظْمِي، فَامْتَحَشْتُ، فَخُذُوهَا فَاطْحَنُوهَا، ثُمَّ انْظُرُوا يَوْمًا رَاحًا فَاذْرُوهُ فِي الْيَمِّ. فَفَعَلُوا، فَجَمَعَهُ فَقَالَ لَهُ لِمَ فَعَلْتَ ذَلِكَ قَالَ مِنْ خَشْيَتِكَ. فَغَفَرَ اللَّهُ لَهُ ". قَالَ عُقْبَةُ بْنُ عَمْرٍو، وَأَنَا سَمِعْتُهُ يَقُولُ ذَاكَ، وَكَانَ نَبَّاشًا.
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আলোচ্য হাদীসে রাসুলুল্লাহ ﷺ পূর্ব যুগের কোন এক ব্যক্তির যে ঘটনা বর্ণনা করেছেন, স্পষ্টত তা তিনি ওহীর দ্বারা জ্ঞাত হয়ে থাকবেন। সে এমতাবস্থায় দুনিয়া ছেড়ে গিয়েছে যে, তার দৃষ্টিতে এমন কোন আমল ছিল না যদ্বারা সে ব্যক্তিও জান্নাতের আশা পোষণ করতে পারে। তবে সে ব্যবসায়িক বিষয়েও লেন-দেনে আল্লাহর বান্দাদের সাথে অনুকম্পা করত এবং তাদেরকে সময় দিত এবং যদি কোন দরিদ্র ব্যক্তির নিকট বাকীতে বিক্রি করে থাকত অথবা ঋণ দিত আর সে ব্যক্তি পরিশোধ করতে অক্ষম ছিল তবে তাকে ক্ষমা করে দিত। আর সচ্ছল লোকদেরকে তাড়াতাড়ি আদায়ের জন্য চাপ দিত না। বরং তাদেরকে অবকাশ দিত যাতে ভবিষ্যতে আদায় করে। আল্লাহ তা'আলা তার এ কাজের ভিত্তিতে তাকে ক্ষমা করে দেন। তার জান্নাতের আদেশ হয়। শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণের ইহা ফলপ্রসু পন্থা যে, পূর্ববর্তীদের উপদেশমূলক ঘটনা বর্ণনা করতে হবে। কুরআন মাজীদে নবীগণ ও তাঁদের জাতির অথবা কোন কোন ব্যক্তির যে কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে তার বিশেষ উদ্দেশ্য ও দাবি এটাই। আলোচ্য হাদীসে ও সামনের হাদীসে রাসুলুল্লাহ ﷺ শিক্ষা ও উপদেশের জন্য এ পন্থাই গ্রহণ করেছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: