আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
৩৭. কিয়ামত-মৃত্যুপরবর্তী জগতের বিবরণ
হাদীস নং: ২৪৪৪
আন্তর্জাতিক নং: ২৪৪৪
কিয়ামত-মৃত্যুপরবর্তী জগতের বিবরণ
হাউযে কাউসারের পাত্রের বর্ণনা।
২৪৪৭. মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আবু সাল্লাম হাবশী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার কাছে উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ) (তার সঙ্গে সাক্ষাত করতে) সংবাদ পাঠালেন। আমাকে খচ্চরে আরোহণ করতে হল। পরে তিনি যখন তার কাছে এলেন তখন বললেনঃ হে আমীরুল মু‘মিনীন, খচ্চরে আরোহণ করতে আমার বেশ কষ্ট হয়েছে।
তিনি বললেনঃ হে আবু সাল্লাম, আমি আপনাকে কষ্ট দিতে চাইনি। কিন্তু আমার কাছে খবর পৌছেছে যে হাওযে কাউছার সম্পর্কে একটি হাদীস ছাওবান (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে আপনি বর্ণনা করে থাকেন সেটি আপনি আমার কাছে জবাণী শুনাবেন তাই আমি বহু পছন্দ করি।
আবু সাল্লাম (রাহঃ) বলেন, ছাওবান (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমার হাওয হল আদন থেকে আম্মান আল-বালকা পর্যন্ত বড়। এর পানি দুধের চেয়েও সাদা এবং মধু থেকেও মিঠা আকাশের তারার সংখ্যার ন্যায় এর পানপাত্র। যে ব্যক্তি তা থেকে এক ঢোক পানি পান করবে পরে সে আর কখনো পিপাসার্ত হবে না। এতে সর্বপ্রথম পানি পান করতে আসবে দরিদ্র মুহাজিরগণ-যাদের মাথার চুল উস্কু-খুস্কু, কাপড় চোপড় ধুলিমলিন, যারা ধনবতী মহিলাদের পানি গ্রহণ করেনি, যাদের জন্য দরজা খোলা হয় না।
উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ) বললেনঃ কিন্তু আমি তো ধনবতী মহিলা বিয়ে করেছি, আমার জন্য তো দ্বার খোলে দেওয়া হয়। (উমাইয়া খলীফা) আব্দুল মালিকের কন্যা ফাতিমাকে আমি বিয়ে করেছি (যা হোক) উস্কু খুস্কু না হওয়া পর্যন্ত আমি আমার মাথা ধৌত করব না এবং আমার শরীরের কাপড়ও ময়লা না হওয়া পর্যন্ত ধৌত করব না।
তিনি বললেনঃ হে আবু সাল্লাম, আমি আপনাকে কষ্ট দিতে চাইনি। কিন্তু আমার কাছে খবর পৌছেছে যে হাওযে কাউছার সম্পর্কে একটি হাদীস ছাওবান (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে আপনি বর্ণনা করে থাকেন সেটি আপনি আমার কাছে জবাণী শুনাবেন তাই আমি বহু পছন্দ করি।
আবু সাল্লাম (রাহঃ) বলেন, ছাওবান (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমার হাওয হল আদন থেকে আম্মান আল-বালকা পর্যন্ত বড়। এর পানি দুধের চেয়েও সাদা এবং মধু থেকেও মিঠা আকাশের তারার সংখ্যার ন্যায় এর পানপাত্র। যে ব্যক্তি তা থেকে এক ঢোক পানি পান করবে পরে সে আর কখনো পিপাসার্ত হবে না। এতে সর্বপ্রথম পানি পান করতে আসবে দরিদ্র মুহাজিরগণ-যাদের মাথার চুল উস্কু-খুস্কু, কাপড় চোপড় ধুলিমলিন, যারা ধনবতী মহিলাদের পানি গ্রহণ করেনি, যাদের জন্য দরজা খোলা হয় না।
উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ) বললেনঃ কিন্তু আমি তো ধনবতী মহিলা বিয়ে করেছি, আমার জন্য তো দ্বার খোলে দেওয়া হয়। (উমাইয়া খলীফা) আব্দুল মালিকের কন্যা ফাতিমাকে আমি বিয়ে করেছি (যা হোক) উস্কু খুস্কু না হওয়া পর্যন্ত আমি আমার মাথা ধৌত করব না এবং আমার শরীরের কাপড়ও ময়লা না হওয়া পর্যন্ত ধৌত করব না।
أبواب صفة القيامة والرقائق والورع عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
بَابُ مَا جَاءَ فِي صِفَةِ أَوَانِي الحَوْضِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُهَاجِرِ، عَنِ الْعَبَّاسِ، عَنْ أَبِي سَلاَّمٍ الْحَبَشِيِّ، قَالَ بَعَثَ إِلَىَّ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ فَحُمِلْتُ عَلَى الْبَرِيدِ . قَالَ فَلَمَّا دَخَلَ عَلَيْهِ قَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ لَقَدْ شَقَّ عَلَى مَرْكَبِي الْبَرِيدُ . فَقَالَ يَا أَبَا سَلاَّمٍ مَا أَرَدْتُ أَنْ أَشُقَّ عَلَيْكَ وَلَكِنْ بَلَغَنِي عَنْكَ حَدِيثٌ تُحَدِّثُهُ عَنْ ثَوْبَانَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْحَوْضِ فَأَحْبَبْتُ أَنْ تُشَافِهَنِي بِهِ . قَالَ أَبُو سَلاَّمٍ حَدَّثَنِي ثَوْبَانُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " حَوْضِي مِنْ عَدَنَ إِلَى عَمَّانَ الْبَلْقَاءِ مَاؤُهُ أَشَدُّ بَيَاضًا مِنَ اللَّبَنِ وَأَحْلَى مِنَ الْعَسَلِ وَأَكَاوِيبُهُ عَدَدُ نُجُومِ السَّمَاءِ مَنْ شَرِبَ مِنْهُ شَرْبَةً لَمْ يَظْمَأْ بَعْدَهَا أَبَدًا أَوَّلُ النَّاسِ وُرُودًا عَلَيْهِ فُقَرَاءُ الْمُهَاجِرِينَ الشُّعْثُ رُءُوسًا الدُّنْسُ ثِيَابًا الَّذِينَ لاَ يَنْكِحُونَ الْمُتَنَعِّمَاتِ وَلاَ تُفْتَحُ لَهُمُ السُّدَدُ " . قَالَ عُمَرُ لَكِنِّي نَكَحْتُ الْمُتَنَعِّمَاتِ وَفُتِحَ لِيَ السُّدَدُ وَنَكَحْتُ فَاطِمَةَ بِنْتَ عَبْدِ الْمَلِكِ لاَ جَرَمَ أَنِّي لاَ أَغْسِلُ رَأْسِي حَتَّى يَشْعَثَ وَلاَ أَغْسِلُ ثَوْبِي الَّذِي يَلِي جَسَدِي حَتَّى يَتَّسِخَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ ثَوْبَانَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَأَبُو سَلاَّمٍ الْحَبَشِيُّ اسْمُهُ مَمْطُورٌ وَهُوَ شَامِيٌّ ثِقَةٌ .
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
হাদীসটি এ সূত্রে গারীব। মা‘দান ইবনে আবু তালহা-ছাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রেও নবী (ﷺ) থেকে হাদীসটি বর্ণিত আছে। আবু সাল্লাম হাবশী (রাহঃ) এর নাম হল মামতুর। তিনি শাম দেশের অধিবাসী এবং বিশ্বস্ত।
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আদন (এডেন) ইয়েমেনের একটি মশহুর শহর। আম্মানও (আম্মান বর্তমানে জর্দানের রাজধানী) সিরিয়ার অন্তর্গত একটি প্রসিদ্ধ শহর। বালাকাআ আম্মানের নিকটবর্তী একটি জনপদ। বৈশিষ্ট এবং নিশানী হিসেবে আম্মানের বলাকাআ এর উল্লেখ করা হয়েছে। তার অর্থ হল আমাদের দুনিয়াতে আদন এবং বলাকাআ-এর নিকটবর্তী আম্মানের দূরত্ব যতটুকু আখিরাতে হাওযে কাওসারের একপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত দূরত্ব ততটুকু হবে। বলাবাহুল্য মাপতোল করে এ দূরত্ব নির্ণয় করে বলা হয়নি যে, এটা এত মাইল বা এত ফার্লং বা এত ফুটের ব্যবধান হবে। বরং তার প্রশস্ততা বুঝানোর জন্য আনুমানিক ভাবে বলা হয়েছে বস্তুতঃ অসংখ্য মাইলব্যাপী প্রশস্ত হবে হাওযে কাওসার।
অবশেষে বলা হয়েছে, হাওযে যারা সর্বপ্রথম পৌঁছবেন এবং পানি পান করার সৌভাগ্য হাসিল করবেন তারা হবেন গরীব মুহাজির যারা নিজেদের দৈন্যতা এবং দুনিয়া বিমুখতার কারণে চুল পরিপাটি করতেন না বরং চুল এলোমেলো থাকত। তারা পেরেশান থাকবেন, জামা কাপড় ময়লা থাকত, যাদেরকে কোন বিত্তবান নিজের মেয়ে বিয়ে দিত না এবং অগত্যা কোন স্থানে গমন করলে জামাকাপড়ের দৈন্যতার কারণে যাদেরকে স্বাগতম জানান হত না।
এটা অনুমিত হয় যে, দুনিয়া বিমুখতা, দীনের প্রতি ঐকান্তিকতা এবং আখিরাতের চিন্তার আধিক্যের কারণে যারা দুনিয়ার যিন্দেগীতে নিজেদের আরাম-আয়েশ কুরবান করেছেন এবং নিজেদের চুল পরিপাটি করতে পারেন নি এবং লেবাস-পোশাক সুন্দর রাখতে পারেন নি কিয়ামতের দিন তারা আখিরাতের পুরস্কার লাভ করার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার হাসিল করবেন। যারা হাল যামানায় এ অবস্থাকে 'তাকাস্বাফ' বা 'রুহবানিয়াত' বা 'দীনের গলদ ধারণার পরিণতি' জ্ঞান করেন তাদের এ সংক্রান্ত হাদীস সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করা উচিত।
প্রত্যেক যুগের বিশেষ ব্যধি থাকে। যেরূপ এককালে রুহবানিয়াত এবং 'তরকে দুনিয়ার' অনৈসলামী চিন্তাধারা এবং আচরণকে অনেক লোক খালেস ইসলামী চেষ্টা সাধনা মনে করতেন ঠিক সেরূপ অনেকে হাল যামানার বিত্ত ও নফস পরস্তির দাবির সাথে ইসলামী চিন্তা ও তালিমের সামঞ্জস্য বিধান করার উপর মাত্রাধিক গুরুত্ব আরোপ করে থাকেন।
وَاللّٰہُ یَہۡدِیۡ مَنۡ یَّشَآءُ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ
যখন পিপাসা পিপাসা বলে চিৎকার শোনা যাবে, তখন এক ধরনের লোককে হাওযে কাওসারের পানি সর্বাগ্রে পান করান হবে। তারা অশেষ মর্যাদার অধিকারী হবে এবং এই পানি পান করার পর পিপাসা তাদের কখনো স্পর্শ করবে না।
অবশেষে বলা হয়েছে, হাওযে যারা সর্বপ্রথম পৌঁছবেন এবং পানি পান করার সৌভাগ্য হাসিল করবেন তারা হবেন গরীব মুহাজির যারা নিজেদের দৈন্যতা এবং দুনিয়া বিমুখতার কারণে চুল পরিপাটি করতেন না বরং চুল এলোমেলো থাকত। তারা পেরেশান থাকবেন, জামা কাপড় ময়লা থাকত, যাদেরকে কোন বিত্তবান নিজের মেয়ে বিয়ে দিত না এবং অগত্যা কোন স্থানে গমন করলে জামাকাপড়ের দৈন্যতার কারণে যাদেরকে স্বাগতম জানান হত না।
এটা অনুমিত হয় যে, দুনিয়া বিমুখতা, দীনের প্রতি ঐকান্তিকতা এবং আখিরাতের চিন্তার আধিক্যের কারণে যারা দুনিয়ার যিন্দেগীতে নিজেদের আরাম-আয়েশ কুরবান করেছেন এবং নিজেদের চুল পরিপাটি করতে পারেন নি এবং লেবাস-পোশাক সুন্দর রাখতে পারেন নি কিয়ামতের দিন তারা আখিরাতের পুরস্কার লাভ করার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার হাসিল করবেন। যারা হাল যামানায় এ অবস্থাকে 'তাকাস্বাফ' বা 'রুহবানিয়াত' বা 'দীনের গলদ ধারণার পরিণতি' জ্ঞান করেন তাদের এ সংক্রান্ত হাদীস সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করা উচিত।
প্রত্যেক যুগের বিশেষ ব্যধি থাকে। যেরূপ এককালে রুহবানিয়াত এবং 'তরকে দুনিয়ার' অনৈসলামী চিন্তাধারা এবং আচরণকে অনেক লোক খালেস ইসলামী চেষ্টা সাধনা মনে করতেন ঠিক সেরূপ অনেকে হাল যামানার বিত্ত ও নফস পরস্তির দাবির সাথে ইসলামী চিন্তা ও তালিমের সামঞ্জস্য বিধান করার উপর মাত্রাধিক গুরুত্ব আরোপ করে থাকেন।
وَاللّٰہُ یَہۡدِیۡ مَنۡ یَّشَآءُ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ
যখন পিপাসা পিপাসা বলে চিৎকার শোনা যাবে, তখন এক ধরনের লোককে হাওযে কাওসারের পানি সর্বাগ্রে পান করান হবে। তারা অশেষ মর্যাদার অধিকারী হবে এবং এই পানি পান করার পর পিপাসা তাদের কখনো স্পর্শ করবে না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: