আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
৪০. ঈমানের অধ্যায়
হাদীস নং: ২৬২৯
আন্তর্জাতিক নং: ২৬২৯
ঈমানের অধ্যায়
শুরুতে ইসলাম ছিল অপরিচিত, অচিরেই তা পুনরায় অপরিচিতের মত হয়ে যাবে।
২৬৩০. আবুল আহওয়াস (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ ইসলামের শুরু হয়েছে অপরিচিত অবস্থায়। অচিরেই তা পুনরায় শুরু অবস্থার মত হয়ে যাবে অপরিচিত। সুতরাং এইরূপ অপরিচিত অবস্থায়ও যারা ইসলামের উপর কায়েম থাকে তাদের জন্য সুসংবাদ। - ইবনে মাজাহ, মুসলিম
এই বিষয়ে সা’দ ইবনে উমর, জাবির, আনাস ও আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনে মাসউদ (রাযিঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসাবে হাদীসটি হাসান সহীহ-গারীব। হাফস ইবনে গিয়াছ-আ’মাশ (রাহঃ) সূত্রে রিওয়ায়াত হিসাবেই কেবল এটিকে আমরা জানি। এই হাদীসটির রিওয়ায়াত ক্ষেত্রে হাফস একা - সহযোগীহীন। আবুল আহওয়াস (রাহঃ) এর নাম আওফ ইবনে মালিক ইবনে নাযলা জুশামী।
এই বিষয়ে সা’দ ইবনে উমর, জাবির, আনাস ও আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনে মাসউদ (রাযিঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসাবে হাদীসটি হাসান সহীহ-গারীব। হাফস ইবনে গিয়াছ-আ’মাশ (রাহঃ) সূত্রে রিওয়ায়াত হিসাবেই কেবল এটিকে আমরা জানি। এই হাদীসটির রিওয়ায়াত ক্ষেত্রে হাফস একা - সহযোগীহীন। আবুল আহওয়াস (রাহঃ) এর নাম আওফ ইবনে মালিক ইবনে নাযলা জুশামী।
أبواب الإيمان عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مَا جَاءَ أَنَّ الإِسْلاَمَ بَدَأَ غَرِيبًا وَسَيَعُودُ غَرِيبًا
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الإِسْلاَمَ بَدَأَ غَرِيبًا وَسَيَعُودُ غَرِيبًا كَمَا بَدَأَ فَطُوبَى لِلْغُرَبَاءِ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ سَعْدٍ وَابْنِ عُمَرَ وَجَابِرٍ وَأَنَسٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ مَسْعُودٍ إِنَّمَا نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ عَنِ الأَعْمَشِ وَأَبُو الأَحْوَصِ اسْمُهُ عَوْفُ بْنُ مَالِكِ بْنِ نَضْلَةَ الْجُشَمِيُّ تَفَرَّدَ بِهِ حَفْصٌ .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আমাদের উর্দু ভাষায় তো নিঃস্ব ও দরিদ্র ব্যক্তিকে গরীব বলা হয়ে থাকে। কিন্তু এ শব্দের প্রকৃত অর্থ এরূপ বিদেশী যার কোন সিনাক্ত ও পরিচয়কারী নেই।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই বাণীর মোটকথা এই- যখন ইসলামের দাওয়াতের সূচনা হয়েছিল আর আল্লাহ্ তা'আলার নির্দেশে তিনি মক্কাবাসীর সামনে ইসলাম পেশ করেছিলেন, তখন এর শিক্ষা, এর আকাইদ, এর আমলসমূহ ও এর জীবনপদ্ধতি মানুষের জন্য সম্পূর্ণ অপরিচিত ও অভিনব ছিল। এমন অপরিচিত বিদেশীর ন্যায় ছিল যার কোন পরিচয়কারী ও জিজ্ঞাসাকারী নেই। এরপর ক্রমান্বয়ে এ অবস্থা পরিবর্তীত হতে থাকে। মানুষ ইসলামের সাথে পরিচিত হতে থাকে এবং এর সাথে মিশতে থাকে। এমনকি এক সময় এল যে, প্রথমে মদীনা মনাওয়ারায় লোকজন সমষ্টিগতভাবে এটা বক্ষে ধারণ করেন।
এরপর রাতারাতি প্রায় গোটা আরব উপদ্বীপবাসী এটা গ্রহণ করেন। তারপর দুনিয়ার অন্যান্য দেশও এটাকে স্বাগতম জানায় এবং এটা ব্যাপক আকারে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে। তবে যেভাবে উপরেও বলা হয়েছে, আল্লাহ্ তা'আলার নিকট হতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর প্রতিভাত করা হয়েছিল যে, যেভাবে পূর্ববর্তী উম্মতের মধ্যে স্খলন এসেছিল, তাঁর উম্মতেও অনুরূপভাবে স্খলন আসবে। আর অধিকাংশ লোক রুসূম, প্রথা ও ভুল রীতি নীতি গ্রহণ করবে। পক্ষান্তরে প্রকৃত ইসলাম-যার দাওআত ও শিক্ষা তিনি দিয়েছিলেন তা নগণ্য সংখ্যক লোকদের মধ্যে চালু থাকবে।
এভাবে ইসলাম স্বীয় প্রাথমিক যুগের ন্যায় অপরিচিত বিদেশীর মত হয়ে যাবে। তাই আলোচ্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতকে সেই পরিবর্তনের সংবাদ দিয়েছেন। এতদসঙ্গে তিনি বলেন, উম্মতের এই সাধারণ বিপর্যয়ের সময় সঠিক ইসলামের ওপর অবস্থানকারী যে সব উম্মত সেই ফাসাদের সময় নষ্ট হওয়া উম্মতকে সঠিক ইসলামে নিয়ে আসার চেষ্টা করবে তাদেরকে মুবারকবাদ। আলোচ্য হাদীস শরীফে এরূপ ভক্ত খাদিমদেরকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম 'غرباء' উপাধী দিয়েছেন।
নিঃসন্দেহে আমাদের এ যুগে মুসলমান পরিচয়ধারী উম্মতের যে অবস্থা তার ওপর আলোচ্য হাদীস পূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠিত। উম্মতের অধিক সংখ্যক লোক দীনের মৌলিক শিক্ষাবলি থেকে অনবিহিত। কবর পূজার ন্যায় সুস্পষ্ট শিরকে জড়িত। আর নামায ও যাকাতের ন্যায় মৌলিক স্তম্ভসমূহ পরিত্যাগকারী। দিন বা রাতের লেন-দেন, ক্রয়-বিক্রয় ইত্যাদিতে হালাল ও হারামের কোন ভয় নেই। মিথ্যা মুকাদ্দমা ও মিথ্যা সাক্ষীর ন্যায় লা'নতযোগ্য গুনাহসমূহ থেকে কেবল আল্লাহ্ ও রাসূলের নির্দেশের প্রেক্ষিতে বেঁচে থাকা ব্যক্তি খুবই কম রয়েছে। উলামা ও দরবেশদের বিরাট অংশের মধ্যে আত্ম পূজা, ধন ও মর্যাদার আসক্তি জন্ম লাভকারী অনিষ্ট দেখা যেতে পারে, যা ইয়াহুদী ও নাসারাদের আলিম উলামাদের মধ্যে সৃষ্ট হয়েছিল, যে কারণে তাদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে লা'নত হয়েছিল।
এরূপ সাধারণ ফাসাদের সময় যে সব সৌভাগ্যবান ব্যক্তি প্রকৃত ইসলাম ও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হিদায়াত ও সুন্নাতের সাথে সম্পৃক্ত থাকে এবং উম্মতের সংশোধনের চিন্তা ও চেষ্টায় অংশ গ্রহণ করে, তারা মুহাম্মদী সেনাদলের সিপাহী। আলোচ্য হাদীসে তাদেরকেই 'غرباء' বলা হয়েছে। আর নবুওতী ভাষায় তাদেরকে সাবাশ ও মুবারকবাদ জানানো হয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা এই অক্ষম লেখককে এবং এর পাঠকদেরকেও তাওফীক দিন যেন তারা নিজেদের এই দলে অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা করে।
اللَّهُمَّ اجْعَلْنَا مِنْهُمْ وَاحْشُرْنَا فِي زُمْرَتِهِم
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই বাণীর মোটকথা এই- যখন ইসলামের দাওয়াতের সূচনা হয়েছিল আর আল্লাহ্ তা'আলার নির্দেশে তিনি মক্কাবাসীর সামনে ইসলাম পেশ করেছিলেন, তখন এর শিক্ষা, এর আকাইদ, এর আমলসমূহ ও এর জীবনপদ্ধতি মানুষের জন্য সম্পূর্ণ অপরিচিত ও অভিনব ছিল। এমন অপরিচিত বিদেশীর ন্যায় ছিল যার কোন পরিচয়কারী ও জিজ্ঞাসাকারী নেই। এরপর ক্রমান্বয়ে এ অবস্থা পরিবর্তীত হতে থাকে। মানুষ ইসলামের সাথে পরিচিত হতে থাকে এবং এর সাথে মিশতে থাকে। এমনকি এক সময় এল যে, প্রথমে মদীনা মনাওয়ারায় লোকজন সমষ্টিগতভাবে এটা বক্ষে ধারণ করেন।
এরপর রাতারাতি প্রায় গোটা আরব উপদ্বীপবাসী এটা গ্রহণ করেন। তারপর দুনিয়ার অন্যান্য দেশও এটাকে স্বাগতম জানায় এবং এটা ব্যাপক আকারে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে। তবে যেভাবে উপরেও বলা হয়েছে, আল্লাহ্ তা'আলার নিকট হতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর প্রতিভাত করা হয়েছিল যে, যেভাবে পূর্ববর্তী উম্মতের মধ্যে স্খলন এসেছিল, তাঁর উম্মতেও অনুরূপভাবে স্খলন আসবে। আর অধিকাংশ লোক রুসূম, প্রথা ও ভুল রীতি নীতি গ্রহণ করবে। পক্ষান্তরে প্রকৃত ইসলাম-যার দাওআত ও শিক্ষা তিনি দিয়েছিলেন তা নগণ্য সংখ্যক লোকদের মধ্যে চালু থাকবে।
এভাবে ইসলাম স্বীয় প্রাথমিক যুগের ন্যায় অপরিচিত বিদেশীর মত হয়ে যাবে। তাই আলোচ্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতকে সেই পরিবর্তনের সংবাদ দিয়েছেন। এতদসঙ্গে তিনি বলেন, উম্মতের এই সাধারণ বিপর্যয়ের সময় সঠিক ইসলামের ওপর অবস্থানকারী যে সব উম্মত সেই ফাসাদের সময় নষ্ট হওয়া উম্মতকে সঠিক ইসলামে নিয়ে আসার চেষ্টা করবে তাদেরকে মুবারকবাদ। আলোচ্য হাদীস শরীফে এরূপ ভক্ত খাদিমদেরকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম 'غرباء' উপাধী দিয়েছেন।
নিঃসন্দেহে আমাদের এ যুগে মুসলমান পরিচয়ধারী উম্মতের যে অবস্থা তার ওপর আলোচ্য হাদীস পূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠিত। উম্মতের অধিক সংখ্যক লোক দীনের মৌলিক শিক্ষাবলি থেকে অনবিহিত। কবর পূজার ন্যায় সুস্পষ্ট শিরকে জড়িত। আর নামায ও যাকাতের ন্যায় মৌলিক স্তম্ভসমূহ পরিত্যাগকারী। দিন বা রাতের লেন-দেন, ক্রয়-বিক্রয় ইত্যাদিতে হালাল ও হারামের কোন ভয় নেই। মিথ্যা মুকাদ্দমা ও মিথ্যা সাক্ষীর ন্যায় লা'নতযোগ্য গুনাহসমূহ থেকে কেবল আল্লাহ্ ও রাসূলের নির্দেশের প্রেক্ষিতে বেঁচে থাকা ব্যক্তি খুবই কম রয়েছে। উলামা ও দরবেশদের বিরাট অংশের মধ্যে আত্ম পূজা, ধন ও মর্যাদার আসক্তি জন্ম লাভকারী অনিষ্ট দেখা যেতে পারে, যা ইয়াহুদী ও নাসারাদের আলিম উলামাদের মধ্যে সৃষ্ট হয়েছিল, যে কারণে তাদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে লা'নত হয়েছিল।
এরূপ সাধারণ ফাসাদের সময় যে সব সৌভাগ্যবান ব্যক্তি প্রকৃত ইসলাম ও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হিদায়াত ও সুন্নাতের সাথে সম্পৃক্ত থাকে এবং উম্মতের সংশোধনের চিন্তা ও চেষ্টায় অংশ গ্রহণ করে, তারা মুহাম্মদী সেনাদলের সিপাহী। আলোচ্য হাদীসে তাদেরকেই 'غرباء' বলা হয়েছে। আর নবুওতী ভাষায় তাদেরকে সাবাশ ও মুবারকবাদ জানানো হয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা এই অক্ষম লেখককে এবং এর পাঠকদেরকেও তাওফীক দিন যেন তারা নিজেদের এই দলে অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা করে।
اللَّهُمَّ اجْعَلْنَا مِنْهُمْ وَاحْشُرْنَا فِي زُمْرَتِهِم
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)