আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
৪৬. কুরআনের তাফসীর অধ্যায়
হাদীস নং: ৩০৫৮
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৫৮
কুরআনের তাফসীর অধ্যায়
সূরা আল-মাইদা
৩০৫৮. সাঈদ ইবনে ইয়াকুব তালাকানী (রাহঃ) ....... আবু উমাইয়া শাঈবানী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ আমি আবু ছা’লাবা খুশানী (রাযিঃ)-এর কাছে এসে তাঁকে বললামঃ এই আয়াতটির বিষয়ে আপনার কি করণীয় নির্ধারণ করেছেন? তিনি বললেনঃ কোন আয়াতটির বিষয়ে বলছেন? আমি বললামঃ আল্লাহ্ তাআলার ইরশাদঃ (৫ : ১০৫)
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لاَ يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ
তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম, তুমি সুবিজ্ঞ লোকের কাছেই প্রশ্ন করেছ। আমি এই বিষয়ে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনি বলেছেনঃ বরং তোমরা সৎকাজের আদেশ করতে থাক আর অন্যায় কর্ম থেকে নিবৃত করতে থাক। শেষে যখন দেখতে পাবে কৃপণতার আনুগত্য করা হচ্ছে, প্রবৃত্তির অনুসরণ করা হচ্ছে, দুনিয়াকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, প্রত্যেকেই নিজের মতকে সর্বোত্তম মনে করছে তখন তুমি বিশেষ করে তোমাকে নিয়েই থেকো, সাধারণের চিন্তা ছেড়ে দিও। তোমাদের পরবর্তীতে এমন যুগ আসছে যেযুগে (দ্বীনের উপর) ধৈর্য ধরে থাকা জ্বলন্ত অঙ্গার হাতে রাখার মত যন্ত্রণাকর হবে। ঐ যুগে যে দ্বীনের উপর আমল করবে তার প্রতিদান হবে তোমাদের মত আমলকারী পঞ্চাশ লোকের অনুরূপ। আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রাহঃ) বলেন, উৎবা ভিন্ন অন্যারা তাদের রিওয়ায়াতে আরো উল্লেখ করেছেন যে, বলা হলঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাদের পঞ্চাশ জনের, না তাদের পঞ্চাশ জনের সাওয়াব হবে? তিনি বললেনঃ না, তোমাদের পঞ্চাশ জনের সমান তার সাওয়াব হবে।
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-গারীব।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لاَ يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ
তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম, তুমি সুবিজ্ঞ লোকের কাছেই প্রশ্ন করেছ। আমি এই বিষয়ে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনি বলেছেনঃ বরং তোমরা সৎকাজের আদেশ করতে থাক আর অন্যায় কর্ম থেকে নিবৃত করতে থাক। শেষে যখন দেখতে পাবে কৃপণতার আনুগত্য করা হচ্ছে, প্রবৃত্তির অনুসরণ করা হচ্ছে, দুনিয়াকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, প্রত্যেকেই নিজের মতকে সর্বোত্তম মনে করছে তখন তুমি বিশেষ করে তোমাকে নিয়েই থেকো, সাধারণের চিন্তা ছেড়ে দিও। তোমাদের পরবর্তীতে এমন যুগ আসছে যেযুগে (দ্বীনের উপর) ধৈর্য ধরে থাকা জ্বলন্ত অঙ্গার হাতে রাখার মত যন্ত্রণাকর হবে। ঐ যুগে যে দ্বীনের উপর আমল করবে তার প্রতিদান হবে তোমাদের মত আমলকারী পঞ্চাশ লোকের অনুরূপ। আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রাহঃ) বলেন, উৎবা ভিন্ন অন্যারা তাদের রিওয়ায়াতে আরো উল্লেখ করেছেন যে, বলা হলঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাদের পঞ্চাশ জনের, না তাদের পঞ্চাশ জনের সাওয়াব হবে? তিনি বললেনঃ না, তোমাদের পঞ্চাশ জনের সমান তার সাওয়াব হবে।
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-গারীব।
أبواب تفسير القرآن عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
بَابٌ: وَمِنْ سُورَةِ الْمَائِدَةِ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَعْقُوبَ الطَّالْقَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا عُتْبَةُ بْنُ أَبِي حَكِيمٍ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ جَارِيَةَ اللَّخْمِيُّ، عَنْ أَبِي أُمَيَّةَ الشَّعْبَانِيِّ، قَالَ أَتَيْتُ أَبَا ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيَّ فَقُلْتُ لَهُ كَيْفَ تَصْنَعُ فِي هَذِهِ الآيَةِ قَالَ أَيَّةُ آيَةٍ قُلْتُ قَوْلُهُ : ( يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لاَ يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ ) قَالَ أَمَا وَاللَّهِ لَقَدْ سَأَلْتَ عَنْهَا خَبِيرًا سَأَلْتُ عَنْهَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " بَلِ ائْتَمِرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَتَنَاهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ حَتَّى إِذَا رَأَيْتَ شُحًّا مُطَاعًا وَهَوًى مُتَّبَعًا وَدُنْيَا مُؤْثَرَةً وَإِعْجَابَ كُلِّ ذِي رَأْىٍ بِرَأْيِهِ فَعَلَيْكَ بِخَاصَّةِ نَفْسِكَ وَدَعِ الْعَوَامَّ فَإِنَّ مِنْ وَرَائِكُمْ أَيَّامًا الصَّبْرُ فِيهِنَّ مِثْلُ الْقَبْضِ عَلَى الْجَمْرِ لِلْعَامِلِ فِيهِنَّ مِثْلُ أَجْرِ خَمْسِينَ رَجُلاً يَعْمَلُونَ مِثْلَ عَمَلِكُمْ " . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ وَزَادَنِي غَيْرُ عُتْبَةَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَجْرُ خَمْسِينَ رَجُلاً مِنَّا أَوْ مِنْهُمْ قَالَ " لاَ بَلْ أَجْرُ خَمْسِينَ مِنْكُمْ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত আবু সা'আলাবা খুশানী (রা) কে আবূ উমাইয়া শা'বানী নামক এক তাবিঈ সূরা মায়িদার সেই ১০৫নং আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি এই উত্তর দেন যে, আমি স্বয়ং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এই আয়াত সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। (কেননা, এর প্রকাশ্য শব্দাবলিতে এ সন্দেহ জাগ্রত হতে পারে যে, যদি আমরা স্বয়ং আল্লাহ্ ও রাসূলের হিদায়াত অনুযায়ী চলি তবে অন্য লোকদের দীনের চিন্তা এবং 'আমর বিল মা'আরূফ ওয়ান নাহি আনিল মুনকার' আমাদের জিম্মায় নয়) তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে উত্তর দিয়েছিলেন তা হাদীসে উল্লিখিত হয়েছে।
মোট কথা, নিজের দীনের চিন্তার সাথে আল্লাহর অন্যান্য বান্দাদের দীনের চিন্তা এবং এ ধারাবাহিকতায় আমর বিল মা'আরূফ ওয়ান নাহি আনিল মুনকারও দীনী দায়িত্ব এবং আল্লাহর অভিপ্রায়। তাই সর্বদা তা করতে থাক। হ্যাঁ, যখন উম্মতের অবস্থা এই দাঁড়াবে যে, বখিলী ও কৃপণতা স্বভাবে পরিণত হয়ে দাঁড়াবে, সম্পদের পূজা হতে থাকবে এবং আল্লাহ্ ও রাসূলের আহকামের স্থলে কেবল আত্ম প্রবৃত্তির আনুগত্য হতে থাকবে এবং আখিরাতকে ভুলে দুনিয়াকেই উদ্দেশ্য বানিয়ে নেবে, আত্মগর্ব ও স্বেচ্ছাধীন চলার মহামারি ব্যাপক হবে, এই মন্দ পরিবেশে যেহেতু আমর বিল মা'আরূফ ওয়ান নাহি আনিল মুনকারের প্রভাব ও ফায়দা এবং জনগণের সংশোধনের আশা থাকে না তখন জনগণের চিন্তা ছেড়ে দিয়ে কেবল নিজের সংশোধন ও গুনাহ্ থেকে হিফাযতের চিন্তা করাই উচিত। শেষে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, এমন যুগ আসবে যখন দীনে স্থির থাকা, আল্লাহ্ ও রাসূলের আহকামের ওপর চলা, হাতে আগুন লওয়ার মত কষ্টদায়ক ও ধৈর্য পরীক্ষার বিষয় হবে। প্রকাশ থাকে যে, এরূপ অবস্থায় নিজের দীনের ওপর স্থির থাকাই বিরাট জিহাদ হবে। আর অন্যদের সংশোধনের চিন্তাও এ ধারাবাহিকতায় আমর বিল মা'আরূফ ওয়া নাহি আনিল মুনকারের দায়িত্ব বাকি থাকবে না।
এরূপ প্রতিকূল পরিবেশ ও কঠিন অবস্থায় আল্লাহ্ ও রাসূলের নির্দেশাবলির ওপর ধৈর্য ও দৃঢ়তার সাথে আমলকারীদের সম্বন্ধে তিনি বলেন, তারা তোমাদের ন্যায় পঞ্চাশ আমলকারীর সমান পুরস্কার ও সাওয়াব পাবে।
মোট কথা, নিজের দীনের চিন্তার সাথে আল্লাহর অন্যান্য বান্দাদের দীনের চিন্তা এবং এ ধারাবাহিকতায় আমর বিল মা'আরূফ ওয়ান নাহি আনিল মুনকারও দীনী দায়িত্ব এবং আল্লাহর অভিপ্রায়। তাই সর্বদা তা করতে থাক। হ্যাঁ, যখন উম্মতের অবস্থা এই দাঁড়াবে যে, বখিলী ও কৃপণতা স্বভাবে পরিণত হয়ে দাঁড়াবে, সম্পদের পূজা হতে থাকবে এবং আল্লাহ্ ও রাসূলের আহকামের স্থলে কেবল আত্ম প্রবৃত্তির আনুগত্য হতে থাকবে এবং আখিরাতকে ভুলে দুনিয়াকেই উদ্দেশ্য বানিয়ে নেবে, আত্মগর্ব ও স্বেচ্ছাধীন চলার মহামারি ব্যাপক হবে, এই মন্দ পরিবেশে যেহেতু আমর বিল মা'আরূফ ওয়ান নাহি আনিল মুনকারের প্রভাব ও ফায়দা এবং জনগণের সংশোধনের আশা থাকে না তখন জনগণের চিন্তা ছেড়ে দিয়ে কেবল নিজের সংশোধন ও গুনাহ্ থেকে হিফাযতের চিন্তা করাই উচিত। শেষে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, এমন যুগ আসবে যখন দীনে স্থির থাকা, আল্লাহ্ ও রাসূলের আহকামের ওপর চলা, হাতে আগুন লওয়ার মত কষ্টদায়ক ও ধৈর্য পরীক্ষার বিষয় হবে। প্রকাশ থাকে যে, এরূপ অবস্থায় নিজের দীনের ওপর স্থির থাকাই বিরাট জিহাদ হবে। আর অন্যদের সংশোধনের চিন্তাও এ ধারাবাহিকতায় আমর বিল মা'আরূফ ওয়া নাহি আনিল মুনকারের দায়িত্ব বাকি থাকবে না।
এরূপ প্রতিকূল পরিবেশ ও কঠিন অবস্থায় আল্লাহ্ ও রাসূলের নির্দেশাবলির ওপর ধৈর্য ও দৃঢ়তার সাথে আমলকারীদের সম্বন্ধে তিনি বলেন, তারা তোমাদের ন্যায় পঞ্চাশ আমলকারীর সমান পুরস্কার ও সাওয়াব পাবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)