আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪৬. কুরআনের তাফসীর অধ্যায়

হাদীস নং: ৩০৮২
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৮২
কুরআনের তাফসীর অধ্যায়
সূরা আল-আনফাল
৩০৮১. সুফিয়ান ইবনে ওয়াকী’ (রাহঃ) ..... আবু বুরদা ইবনে আবু মুসা তার পিতা আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ্ তাআলা আমার উম্মতের দু’টো নিরাপত্তার উপায় নাযিল করেছেনঃ

وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ وَمَا كَانَ اللَّهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ

আল্লাহ্ এমন নন যে, আপনি তাদের মধ্যে থাকবেন অথচ তিনি তাদের শাস্তি দিবেন; এবং আল্লাহ্ এমনও নন যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে অথচ তিনি তাদের শাস্তি দিবেন। (আনফাল ৮ঃ ৩৩)

আমি যখন চলে যাব তখন কিয়ামত পর্যন্ত তাদের জন্য ’ইস্তিগফার’-এর উপায়টি রেখে যাব।

হাদীসটি গারীব। ইসমাঈল ইবনে ইবরাহীমকে হাদীস রিওয়ায়াতের ক্ষেত্রে দুর্বল বলা হয়।
أبواب تفسير القرآن عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
بَاب وَمِنْ سُورَةِ الأَنْفَالِ
حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُهَاجِرٍ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ يُوسُفَ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ بْنِ أَبِي مُوسَى، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَىَّ أَمَانَيْنِ لأُمَّتِي : ( وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ ) ( وَمَا كَانَ اللَّهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ ) إِذَا مَضَيْتُ تَرَكْتُ فِيهِمْ الاِسْتِغْفَارَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ " . هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ . وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُهَاجِرٍ يُضَعَّفُ فِي الْحَدِيثِ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হাদীসে উক্ত আয়াতটি হচ্ছে সূরা আনফালের ৩৩ নং আয়াত যার উদ্ধৃতি হুযুর ﷺ দিয়েছেন। তাতে বলা হয়েছে যে, উম্মতের আযাব থেকে রক্ষাকবচ হচ্ছে দু'টি স্বয়ং নবী করীম ﷺ এর সত্তা- যতক্ষণ তিনি তাদের মধ্যে বিরাজমান থাকবেন, ততদিন পর্যন্ত সাধারণভাবে ও ব্যাপকভাবে আযাব দিয়ে তাদেরকে ধ্বংস করা হবে না। দ্বিতীয় যে ব্যাপারটি তাদের রক্ষা কবচ ও নিরাপত্তা স্বরূপ কাজ করছে, তা হলো তাদের নিজেদের ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা আল্লাহর দরবারে ইস্তিগফার ও কান্নাকাটি করতে থাকবে, ততদিন পর্যন্ত ব্যাপক আযাব ও গযব দিয়ে তাদেরকে ধ্বংস করা হবে না। দু'টি রক্ষা কবচের একটি থেকে উম্মত হুযুর ﷺ-এর ইন্তিকালের সাথে সাথে বঞ্চিত হয়ে পড়েছে আর দ্বিতীয় রক্ষাকবচটি- যা তাঁরই বদৌলতে উম্মত লাভ করেছে অর্থাৎ ইস্তিগফার কিয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবে। উম্মত চরম বে-আমলী বদ-আমলীতে লিপ্ত থাকা সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত অক্ষত ও নিরাপদে বেঁচে রয়েছে, ধ্বংস হয়ে যায়নি, তার মূলে এই ইস্তিগফারকারী বান্দাদের ইস্তিগফারেরই বরকতে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান