আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
৪৬. কুরআনের তাফসীর অধ্যায়
হাদীস নং: ৩৩৩৪
আন্তর্জাতিক নং: ৩৩৩৪
কুরআনের তাফসীর অধ্যায়
সূরা ওয়াইলুল-লিল-মুতাফফিফীন
৩৩৩৪. কুতায়বা (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বান্দা যখন কোন গুনাহ করে তখন তার হৃদয়ে একটি কাল দাগ পড়ে। পরে যখন সে গুনাহ থেকে বিরত হয় এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে ও তাওবা করে তখন তার হৃদয় উজ্জ্বল হয়ে যায়। কিন্তু সে যদি পুনরাবৃত্তি করে তবে কাল দাগ বৃদ্ধি পায়। এমনকি তার হৃদয়ের উপর তা প্রবল হয়ে উঠে। এই আবস্থাটিকেই আল্লাহ তাআলা রা’না (মরচে পড়া) বলে উল্লেখ করেছেনঃ (كلاَّ بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ) - কখনও নয়, বরং এদের কৃতকর্মেও দরুন এদের হৃদয়ে জং ধরেছে। (সূরা মুতাফফিফীন ৮৩ঃ ১৪)।
أبواب تفسير القرآن عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
بَاب وَمِنْ سُورَةِ وَيْلٌ لِلْمُطَفِّفِينَ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا أَخْطَأَ خَطِيئَةً نُكِتَتْ فِي قَلْبِهِ نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ فَإِذَا هُوَ نَزَعَ وَاسْتَغْفَرَ وَتَابَ سُقِلَ قَلْبُهُ وَإِنْ عَادَ زِيدَ فِيهَا حَتَّى تَعْلُوَ قَلْبَهُ وَهُوَ الرَّانُ الَّذِي ذَكَرَ اللَّهُ : (كلاَّ بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ) " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান- সহীহ।
হাদীসের ব্যাখ্যা:
অবস্থা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে:-
كَلَّا بَلْ رَانَ عَلٰى قُلُوبِهِمْ مَّا كَانُوا يَكْسِبُونَ
"তাদের মন্দকর্মের দরুন তাদের অন্তরসমূহে মরিচা পড়ে গিয়েছে।"
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উপরে বর্ণিত হাদীস থেকে জানা গেল যে, পাপাচারের দরুন কেবল কাফিরদেরই নয় বরং মুসলমানও যখন কোন পাপকর্ম করে তখন তার অন্তর গুনাহের কালিমার দ্বারা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়। কিন্তু সে যদি সাচ্চা দেলে তাওবা ইস্তিগফার করে নেয় তা হলে সে কালিমা ও অন্ধকার দূরীভূত হয়ে যায় এবং দেল পূর্বের মতই স্বচ্ছ ও নূরানী হয়ে যায়। কিন্তু সে বান্দা যদি গুনাহ করার পর তাওবা ও ইস্তিগফার না করে পাপাচার ও নাফরমানীর পথে আরো অগ্রসর হতে থাকে, তা হলে সে অন্ধকাররাশি আরো বৃদ্ধি ও ঘণীভূত হতে থাকে, এমন কি এক পর্যায়ে তার গোটা অন্তরকে তা আচ্ছন্ন করে ফেলে। কোন মুসলমানের জন্যে এটা নিঃসন্দেহে চরম দুর্ভাগ্যের ব্যাপার যে, গুনাহরাশির অন্ধকারে তার অন্তর আচ্ছন্ন হয়ে যাবে। أَعَاذَنَا اللّٰهُ مِنْهُ আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে তা থেকে রক্ষা করুন!
كَلَّا بَلْ رَانَ عَلٰى قُلُوبِهِمْ مَّا كَانُوا يَكْسِبُونَ
"তাদের মন্দকর্মের দরুন তাদের অন্তরসমূহে মরিচা পড়ে গিয়েছে।"
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উপরে বর্ণিত হাদীস থেকে জানা গেল যে, পাপাচারের দরুন কেবল কাফিরদেরই নয় বরং মুসলমানও যখন কোন পাপকর্ম করে তখন তার অন্তর গুনাহের কালিমার দ্বারা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়। কিন্তু সে যদি সাচ্চা দেলে তাওবা ইস্তিগফার করে নেয় তা হলে সে কালিমা ও অন্ধকার দূরীভূত হয়ে যায় এবং দেল পূর্বের মতই স্বচ্ছ ও নূরানী হয়ে যায়। কিন্তু সে বান্দা যদি গুনাহ করার পর তাওবা ও ইস্তিগফার না করে পাপাচার ও নাফরমানীর পথে আরো অগ্রসর হতে থাকে, তা হলে সে অন্ধকাররাশি আরো বৃদ্ধি ও ঘণীভূত হতে থাকে, এমন কি এক পর্যায়ে তার গোটা অন্তরকে তা আচ্ছন্ন করে ফেলে। কোন মুসলমানের জন্যে এটা নিঃসন্দেহে চরম দুর্ভাগ্যের ব্যাপার যে, গুনাহরাশির অন্ধকারে তার অন্তর আচ্ছন্ন হয়ে যাবে। أَعَاذَنَا اللّٰهُ مِنْهُ আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে তা থেকে রক্ষা করুন!
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)