আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
৪৭. নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত যাবতীয় দোয়া-জিকির
হাদীস নং: ৩৩৮৩
আন্তর্জাতিক নং: ৩৩৮৩
নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত যাবতীয় দোয়া-জিকির
মুসলিমের দুআ কবুল হয়
৩৩৮৩. ইয়াহয়া ইবনে হাবীব ইবনে আরাবী (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, সর্বোত্তম যিক্র হল ’লা ইলাহ ইল্লাল্লাহ’ আর সর্বোত্তম দুআ হল ’আলহামদুলিল্লাহ’।
ইবনে মাজাহ
হাদীসটি হাসান-গারীব। মুসা ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) এর রিওয়ায়াত ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। আলী ইবনুল মাদীনী প্রমুখ (রাহঃ) এ হাদীসটি মুসা ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।
ইবনে মাজাহ
হাদীসটি হাসান-গারীব। মুসা ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) এর রিওয়ায়াত ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। আলী ইবনুল মাদীনী প্রমুখ (রাহঃ) এ হাদীসটি মুসা ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।
أبواب الدعوات عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مَا جَاءَ أَنَّ دَعْوَةَ الْمُسْلِمِ مُسْتَجَابَةٌ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبِ بْنِ عَرَبِيٍّ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ كَثِيرٍ الأَنْصَارِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ طَلْحَةَ بْنَ خِرَاشٍ، قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، رضى الله عنهما يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " أَفْضَلُ الذِّكْرِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَفْضَلُ الدُّعَاءِ الْحَمْدُ لِلَّهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ مُوسَى بْنِ إِبْرَاهِيمَ . وَقَدْ رَوَى عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ وَغَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ مُوسَى بْنِ إِبْرَاهِيمَ هَذَا الْحَدِيثَ .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব রা. বর্ণিত এক হাদীসে বলা হয়েছে যে, সর্বোত্তম কালিমা হচ্ছে এ চারটি সুবহানাল্লাহ্, আলহামদুলিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ১ এবং আল্লাহু আকবার। হযরত জাবিরের হাদীছে বলা হল লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ সর্বোত্তম যিকির। আসলে ব্যাপার হচ্ছে, পৃথিবীর তাবৎ কালিমা বা শব্দ থেকে ঐ চারটি কালিমাই সর্বোত্তম; কিন্তু এ চারটির মধ্যেও তুলনামূলকভাবে সর্বোত্তম হচ্ছে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ। কেননা, এর মধ্যে অবশিষ্ট তিনটির মর্মও পরোক্ষভাবে নিহিত রয়েছে। যখন বান্দা বলে মা'বুদ বরহক একমাত্র আল্লাহ, তিনি ব্যতীত আর কেউই নন, তখন পরোক্ষে একথাও স্বীকার করে নেওয়া হয় যে, ঐ পবিত্র সত্তা সকল কমতি ও ত্রুটি থেকেও মুক্ত ও পবিত্র। কামালিয়তের সমস্ত গুণ তাঁর রয়েছে। প্রাধান্য ও মাহাত্ম্যের দিক থেকেও তাঁর উপরে কেউ নেই। কেননা যিনি লা-শরীক মা'বুদ হবেন, তাঁর মধ্যে এসব গুণ থাকতেই হবে। এজন্যে যে ব্যক্তি কেবল লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বললো, সে যেন সব কিছুই বললো যা সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার বলার মাধ্যমে বলা হয়ে থাকে। এছাড়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ হচ্ছে কালিমায়ে ঈমান। এ জন্যে এটি হচ্ছে সকল নবীর শিক্ষার পয়লা সবক। উপরন্তু নিজ নিজ অভিজ্ঞতার আলোকে আরিফ সূফীগণ এ ব্যাপারে যেন ঐকমত্য পোষণ করেন যে, আধ্যাত্মিক পরিচ্ছন্নতার জন্যে এবং হৃদয়কে সবদিক থেকে ফিরিয়ে একমাত্র আল্লাহ মুখী করার ব্যাপারে এ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর যিকিরই হচ্ছে সর্বাধিক কার্যকরী যিকির। এজন্যে এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ ঈমানী অবস্থাকে অন্তরের মধ্যে চাঙা করে তোলার জন্যে এবং তার উন্নতি বিধানের জন্যে এই লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ কালিমা অধিক পরিমাণে যিকির করার আদেশ দিয়েছেন।
টিকা ১. আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, তোমরা তোমাদের ঈমানকে নবায়ন করবে। প্রশ্ন করা হলো, কেমন করে আমরা আমাদের ঈমানকে নবায়ন করবো ইয়া রাসূলাল্লাহ! বললেন: তোমরা বেশি বেশি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ যিকির করবে। (আহমদ)
টিকা ১. আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, তোমরা তোমাদের ঈমানকে নবায়ন করবে। প্রশ্ন করা হলো, কেমন করে আমরা আমাদের ঈমানকে নবায়ন করবো ইয়া রাসূলাল্লাহ! বললেন: তোমরা বেশি বেশি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ যিকির করবে। (আহমদ)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)