আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
৪৭. নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত যাবতীয় দোয়া-জিকির
হাদীস নং: ৩৩৮৮
আন্তর্জাতিক নং: ৩৩৮৮
নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত যাবতীয় দোয়া-জিকির
সকাল ও সন্ধ্যার দুআ
৩৩৮৮. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ..... উছমান ইবনে আফফান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রতিদিন সকালে ও সন্ধায় যে বান্দা তিনবার এ দুআ পাঠ করবে কিছুই তার অনিষ্ট করতে পারবে নাঃ
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
আল্লাহর নাম নিচ্ছি। যমীন ও আসমানের কোন কিছুই যাঁর নামে বরকতের ক্ষতি সাধন করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
এ হাদীসের অন্যতম বর্ণনাকারী আবান (রাহঃ) অর্ধাঙ্গে আক্রান্ত হয়েছিলেন। হাদীস শ্রোতা ব্যক্তি তার দিকে তাকাচ্ছিল। তিনি তাকে বললেনঃ কি দেখছ, তোমাকে যেমন বর্ণনা করছি, হাদীসটি তদ্রূপই। তবে তাকদীরের ফয়সালা যাতে আমার উপর জারী হয় সেজন্য দুআটি আমি একদিনও পাঠ করিনি।
ইবনে মাজাহ
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান গরীব সহীহ।
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
আল্লাহর নাম নিচ্ছি। যমীন ও আসমানের কোন কিছুই যাঁর নামে বরকতের ক্ষতি সাধন করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
এ হাদীসের অন্যতম বর্ণনাকারী আবান (রাহঃ) অর্ধাঙ্গে আক্রান্ত হয়েছিলেন। হাদীস শ্রোতা ব্যক্তি তার দিকে তাকাচ্ছিল। তিনি তাকে বললেনঃ কি দেখছ, তোমাকে যেমন বর্ণনা করছি, হাদীসটি তদ্রূপই। তবে তাকদীরের ফয়সালা যাতে আমার উপর জারী হয় সেজন্য দুআটি আমি একদিনও পাঠ করিনি।
ইবনে মাজাহ
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান গরীব সহীহ।
أبواب الدعوات عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مَا جَاءَ فِي الدُّعَاءِ إِذَا أَصْبَحَ وَإِذَا أَمْسَى
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، - وَهُوَ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ، قَالَ سَمِعْتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ، رضى الله عنه يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا مِنْ عَبْدٍ يَقُولُ فِي صَبَاحِ كُلِّ يَوْمٍ وَمَسَاءِ كُلِّ لَيْلَةٍ بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ فَيَضُرُّهُ شَيْءٌ " . وَكَانَ أَبَانُ قَدْ أَصَابَهُ طَرَفُ فَالَجِ فَجَعَلَ الرَّجُلُ يَنْظُرُ إِلَيْهِ فَقَالَ لَهُ أَبَانُ مَا تَنْظُرُ أَمَا إِنَّ الْحَدِيثَ كَمَا حَدَّثْتُكَ وَلَكِنِّي لَمْ أَقُلْهُ يَوْمَئِذٍ لِيُمْضِيَ اللَّهُ عَلَىَّ قَدَرَهُ . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ صَحِيحٌ .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত উছমান (রা) থেকে এ হাদীসটির বর্ণনাকারী হচ্ছেন তারই পুত্র আবান। তিনি পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন, যার প্রভাব তাঁর দেহে দৃশ্যমান ছিল। একবার যখন তিনি এ হাদীসটি বর্ণনা করছিলেন, তখন তার জনৈক শাগরিদ তাঁর দিকে বিশেষ অর্থবহ দৃষ্টিতে তাকালেন। তিনি বুঝতে পারলেন শাগরিদটি মনে মনে বলছে, আপনি যখন স্বয়ং আপনার পিতা উছমান (রা) থেকে এ হাদীসটি শুনেই ছিলেন, তা হলে আপনার নিজের এ দুর্গতির কারণ কি? আপনার নিজের আবার পক্ষাঘাত হলো কি করে? এ হাদীছে তো সকাল-সন্ধ্যায় তা পাঠে সর্বপ্রকার নিরাপত্তার গ্যারান্টি রয়েছে। তখন তিনি বললেন: মিঞা, আমার দিকে কী দেখছো? না আমি ভুল রিওয়ায়াত করছি আর না হযরত উছমান (রা) আমার কাছে ভুল রিওয়ায়াত করেছেন। একদা কী একটা কারণে আমি অত্যন্ত ক্রুদ্ধাবস্থায় ছিলাম, ফলে সে দিন ঐ দু'আটি পড়তে আমি ভুলে যাই আর ঐ দিনটিতেই আমি পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হই। যেহেতু ভাগ্যের লিখন ছিল ঐ দিন আমার পক্ষাঘাত হবে, তাই সেদিন আল্লাহর পক্ষ থেকেই আমাকে তা ভুলিয়ে রাখা হয়। হযরত আবানের এ মন্তব্যটুকু হাদীসের সাথে সাথে সুনানে আবু দাউদ ও জামে' তিরমিযী সহ বিভিন্ন কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। সকাল-সন্ধ্যায় তিন তিন বার এ দু'আটি পাঠ করা হচ্ছে আল্লাহর নেক বান্দাদের নিত্যদিনের অভ্যাস। নিঃসন্দেহে এতে আসমানী ও যমীনী বালা-মুসীবত থেকে নিরাপত্তার গ্যারান্টি রয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: