আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪৭. নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত যাবতীয় দোয়া-জিকির

হাদীস নং: ৩৪১৪
আন্তর্জাতিক নং: ৩৪১৪
নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত যাবতীয় দোয়া-জিকির
রাতে ঘুম থেকে জেগে কি দুআ পড়বে
৩৪১৪. মুহামাদ ইবনে আব্দুল আযীয ইবনে আবু রিযমা (রাহঃ) ...... উবাদা ইবনে সামিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে ব্যক্তি রাতে ঘুম থেকে জেগে বলেঃ

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ

কেন ইলাহ নেই আল্লাহ ছাড়া;তিনি এক তাঁর কোন শরিক নেই তাঁরই সার্বভৌমত্ব তাঁরই সব তারিফ,তিনিই সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ সব ত্রুটি থেকে পবিত্র, আল্লাহরই সমস্ত প্রশংসা, আর নেই কোন ইলাহ আল্লাহ ছাড়া। আল্লাহ মহান,নেই কোন গতি আর না কোন শক্তি আল্লাহ ছাড়া। এরপর সে বলেঃ হে আমার রব! মাফ করে দাও আমাকে অথবা তিনি বলেছেনঃ তারপর দুআ করে,তবে তার দুআ কবুল করা হবে।

ইবনে মাজাহ

হাদীসটি হাসান-সহীহ্-গারিব।
أبواب الدعوات عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مَا جَاءَ فِي الدُّعَاءِ إِذَا انْتَبَهَ مِنَ اللَّيْلِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ العَزِيزِ بْنِ أَبِي رِزْمَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي عُمَيْرُ بْنُ هَانِئٍ، قَالَ حَدَّثَنِي جُنَادَةُ بْنُ أَبِي أُمَيَّةَ، حَدَّثَنِي عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ، رضى الله عنه عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ تَعَارَّ مِنَ اللَّيْلِ فَقَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ ثُمَّ قَالَ رَبِّ اغْفِرْ لِي أَوْ قَالَ ثُمَّ دَعَا اسْتُجِيبَ لَهُ فَإِنْ عَزَمَ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ صَلَّى قُبِلَتْ صَلاَتُهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীসে সুসংবাদ দেয়া হয়েছে যে, যে বান্দা রাতের বেলা চোখ খুললে আল্লাহ তা'আলার তওহীদ, তসবীহ তহমীদ তথা তাঁর একত্ব, মাহাত্ম্য, পবিত্রতা ও প্রশংসামূলক এ কলিমাসমূহ পাঠ করে, তাঁরই দেওয়া শক্তি-সামর্থ্য ব্যতীত পুণ্য কাজ করার বা পাপকর্ম থেকে বেঁচে থাকার শক্তি কারো নেই বলে স্বীকারোক্তি করে এ দু'আটি পাঠ করবে এবং তারপর আল্লাহ তা'আলার নিকট নিজের মাগফিরাতের বা অন্য কোন দু'আ করবে, তা নিশ্চিতভাবেই কবুল হবে। অনুরূপ, ঐ সময় ওযু করে সালাত আদায় করলে তাও কবুল হবে। কোন কোন বুযুর্গ বলেন, যে বান্দার নিকট এ হাদীসটি পৌছলো সে যেন একে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর বিশেষ উপহাররূপে গণ্য করে এবং তাঁর প্রদত্ত এ সুসংবাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে সে মুতাবিক আমল করে ইস্তেগফার ও দু'আ কবুলের এ সুযোগ গ্রহণ করার জন্যে পূর্ণ যত্নবান হয়। নিঃসন্দেহে হুযুর ﷺ-এর এমন মূল্যবান উপহারের কদর না করা দুর্ভাগ্যেরই লক্ষণ। ইমাম বুখারীর যবানীতে সহীহ্ বুখারীর জনৈক রাবী ইমাম আবূ আবদুল্লাহ ফিরাবরী (রা) বলেন, একদা রাতের বেলা নিদ্রা যাওয়ার পর হঠাৎ আমার নিদ্রা ভঙ্গ হয়। আল্লাহ তাওফীক দিলেন আর আমি এ কালিমাগুলো পাঠ করলাম। তারপর আবার আমি ঘুমিয়ে পড়ি। স্বপ্নে দেখলাম, কে একজন আমার নিকট এসে এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন:

وَهُدُوْا إِلَى الطَّيِّبِ مِنَ الْقَوْلِ وَهُدُوْ إِلَى صِرَاطِ الْحَمِيدِ

তাঁদের অনেক উত্তম কথার তওফীক নসীব হলো এবং তারা আল্লাহর পথে পরিচালিত হলো।"
(ফৎহুলবারী, ৮ম খণ্ড, পৃ. ৬১০)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)