আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
৪৭. নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত যাবতীয় দোয়া-জিকির
হাদীস নং: ৩৪৫৪
আন্তর্জাতিক নং: ৩৪৫৪
নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত যাবতীয় দোয়া-জিকির
প্রথম ফল দেখলে কী পড়বে
৩৪৫৪. আনসারী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, সাহাবীরা যখন প্রথম ফল দেখতে পেতেন তখন তা নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে আসতেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা হাতে নিয়ে বলতেনঃ
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي ثِمَارِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِي مَدِينَتِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِي صَاعِنَا وَمُدِّنَا اللَّهُمَّ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ عَبْدُكَ وَخَلِيلُكَ وَنَبِيُّكَ وَإِنِّي عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ وَإِنَّهُ دَعَاكَ لِمَكَّةَ وَأَنَا أَدْعُوكَ لِلْمَدِينَةِ بِمِثْلِ مَا دَعَاكَ بِهِ لِمَكَّةَ وَمِثْلِهِ مَعَهُ
″হে আল্লাহ! বরকত দাও আমাদের ফলে, বরকত দাও আমাদের (পরিমাপ) সা’ ও মুদ্দে। হে আল্লাহ! ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) তো তোমার বান্দা তোমার খালীল এবং তোমার নবী আর আমিও তোমার বান্দা ও তোমার নবী। তিনি তোমার কাছে মক্কার জন্য দুআ করেছিলেন এবং এতদসঙ্গে অনুরূপ আরো।″
এরপর তিনি সবচেয়ে কম বয়সের যে বালকটিকে দেখতেন তাকে ডেকে এই ফলটি দিয়ে দিতেন।
ইবনে মাজাহ, মুসলিম
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي ثِمَارِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِي مَدِينَتِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِي صَاعِنَا وَمُدِّنَا اللَّهُمَّ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ عَبْدُكَ وَخَلِيلُكَ وَنَبِيُّكَ وَإِنِّي عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ وَإِنَّهُ دَعَاكَ لِمَكَّةَ وَأَنَا أَدْعُوكَ لِلْمَدِينَةِ بِمِثْلِ مَا دَعَاكَ بِهِ لِمَكَّةَ وَمِثْلِهِ مَعَهُ
″হে আল্লাহ! বরকত দাও আমাদের ফলে, বরকত দাও আমাদের (পরিমাপ) সা’ ও মুদ্দে। হে আল্লাহ! ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) তো তোমার বান্দা তোমার খালীল এবং তোমার নবী আর আমিও তোমার বান্দা ও তোমার নবী। তিনি তোমার কাছে মক্কার জন্য দুআ করেছিলেন এবং এতদসঙ্গে অনুরূপ আরো।″
এরপর তিনি সবচেয়ে কম বয়সের যে বালকটিকে দেখতেন তাকে ডেকে এই ফলটি দিয়ে দিতেন।
ইবনে মাজাহ, মুসলিম
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
أبواب الدعوات عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مَا يَقُولُ إِذَا رَأَى الْبَاكُورَةَ مِنَ الثَّمَرِ
حَدَّثَنَا الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، وَأَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضى الله عنه قَالَ كَانَ النَّاسُ إِذَا رَأَوْا أَوَّلَ الثَّمَرِ جَاءُوا بِهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا أَخَذَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي ثِمَارِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِي مَدِينَتِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِي صَاعِنَا وَمُدِّنَا اللَّهُمَّ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ عَبْدُكَ وَخَلِيلُكَ وَنَبِيُّكَ وَإِنِّي عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ وَإِنَّهُ دَعَاكَ لِمَكَّةَ وَأَنَا أَدْعُوكَ لِلْمَدِينَةِ بِمِثْلِ مَا دَعَاكَ بِهِ لِمَكَّةَ وَمِثْلِهِ مَعَهُ " . ثُمَّ يَدْعُو أَصْغَرَ وَلِيدٍ يَرَاهُ فَيُعْطِيهِ ذَلِكَ الثَّمَرَ . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
ফল-ফসলে বরকত হওয়ার অর্থ তো স্পষ্ট যে, এগুলোর উৎপাদন বেশী হবে। মদীনায় বরকত হওয়ার অর্থ এই যে, এটা খুব আবাদ হবে এবং এর অধিবাসীদের উপর অনুগ্রহ করা হবে। ছা ও মুদ্দ দু'টি ওজন বিশেষ। ঐ যুগে খাদ্য শস্য ইত্যাদি ক্রয়-বিক্রয়ের সময় এগুলোই ব্যবহার করা হত। এগুলোর মধ্যে বরকত হওয়ার অর্থ এই যে, এক ছা অথবা এক মুদ্দ জিনিস যতজন মানুষের জন্য অথবা যতদিনের জন্য যথেষ্ট হয়, এর চেয়ে বেশী লোক ও বেশী দিনের জন্য যেন যথেষ্ট হয়ে যায়।
কুরআন মজীদে হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের ঐ দু‘আর উল্লেখ রয়েছে, যা তিনি নিজের স্ত্রী-সন্তানকে মক্কার অনাবাদ ও পানিশূন্য প্রান্তরে রেখে তাদের জন্য আল্লাহর কাছে করেছিলেন: "হে আল্লাহ! তুমি তোমার বান্দাদের অন্তরে তাদের মহব্বত ঢেলে দাও এবং তাদেরকে প্রয়োজনীয় রিযিক ও ফলফলাদি দান কর, আর এখানের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তার ফায়সালা কর।"
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দৃষ্টান্ত হিসাবে ঐ ইব্রাহীমী দু‘আর কথা উল্লেখ করে আল্লাহ্ তা'আলার কাছে মদীনার জন্যও ঐ দু‘আ; বরং আরো কিছু অতিরিক্ত জিনিস যোগ করে দু‘আ করতেন। এ দু‘আর ফলও স্পষ্ট যে, সারা দুনিয়ার যেসব ঈমানদারদের অন্তরে মক্কার মহব্বত রয়েছে, তাদের সবারই মদীনার মহব্বতও রয়েছে; বরং এ মহব্বত ও ভালবাসায় মদীনার অংশটি নিঃসন্দেহে মক্কার চেয়ে বেশী।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দু‘আর মধ্যে হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-কে আল্লাহর বান্দা, তাঁর নবী ও বন্ধু বলেছেন, আর নিজেকে কেবল বান্দা ও নবী বলে উল্লেখ করেছেন, বন্ধু হওয়ার কথাটি উল্লেখ করেননি। এ বিনয় ভাব ছিল তাঁর একটি বৈশিষ্ট্য।
একেবারে নতুন ও গাছের প্রথম ফলটি ছোট শিশুদেরকে ডেকে দেওয়ার মধ্যে এ শিক্ষা রয়েছে যে, এসব ক্ষেত্রে ছোট মাসুম বাচ্চাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়া চাই। তাছাড়া নতুন ফল ও ছোট শিশুদের সম্বন্ধটিও প্রকাশ্য।
কুরআন মজীদে হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের ঐ দু‘আর উল্লেখ রয়েছে, যা তিনি নিজের স্ত্রী-সন্তানকে মক্কার অনাবাদ ও পানিশূন্য প্রান্তরে রেখে তাদের জন্য আল্লাহর কাছে করেছিলেন: "হে আল্লাহ! তুমি তোমার বান্দাদের অন্তরে তাদের মহব্বত ঢেলে দাও এবং তাদেরকে প্রয়োজনীয় রিযিক ও ফলফলাদি দান কর, আর এখানের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তার ফায়সালা কর।"
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দৃষ্টান্ত হিসাবে ঐ ইব্রাহীমী দু‘আর কথা উল্লেখ করে আল্লাহ্ তা'আলার কাছে মদীনার জন্যও ঐ দু‘আ; বরং আরো কিছু অতিরিক্ত জিনিস যোগ করে দু‘আ করতেন। এ দু‘আর ফলও স্পষ্ট যে, সারা দুনিয়ার যেসব ঈমানদারদের অন্তরে মক্কার মহব্বত রয়েছে, তাদের সবারই মদীনার মহব্বতও রয়েছে; বরং এ মহব্বত ও ভালবাসায় মদীনার অংশটি নিঃসন্দেহে মক্কার চেয়ে বেশী।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দু‘আর মধ্যে হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-কে আল্লাহর বান্দা, তাঁর নবী ও বন্ধু বলেছেন, আর নিজেকে কেবল বান্দা ও নবী বলে উল্লেখ করেছেন, বন্ধু হওয়ার কথাটি উল্লেখ করেননি। এ বিনয় ভাব ছিল তাঁর একটি বৈশিষ্ট্য।
একেবারে নতুন ও গাছের প্রথম ফলটি ছোট শিশুদেরকে ডেকে দেওয়ার মধ্যে এ শিক্ষা রয়েছে যে, এসব ক্ষেত্রে ছোট মাসুম বাচ্চাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়া চাই। তাছাড়া নতুন ফল ও ছোট শিশুদের সম্বন্ধটিও প্রকাশ্য।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)