আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
৪৭. নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত যাবতীয় দোয়া-জিকির
হাদীস নং: ৩৪৯৩
আন্তর্জাতিক নং: ৩৪৯৩
নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত যাবতীয় দোয়া-জিকির
শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ
৩৪৯৩. আনসারী (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পার্শ্বে ঘুমিয়ে ছিলাম। কোন এক রাতে আমি তাকে পাচ্ছিলাম না। আমি হাতড়িয়ে তালাশ করতে লাগলাম। আমার হাত তার পায়ের তলায় লাগল। তিনি তখন সিজদারত অবস্থায় বলছিলেনঃ
أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ لاَ أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ
(হে আল্লাহ) আমি পানাহ চাই তোমার সন্তুষ্টির ওসীলায় তোমার ক্রোধ থেকে, তোমার হেফাজতের ওসীলায় তোমার শাস্তি থেকে। তোমার প্রশংসা করে শেষ করতে পারছি না তুমি তেমই যেমন তোমার নিজের তারীফ করেছ তুমি।
ইবনে মাজাহ, মুসলিম
হাদীসটি হাসান-সহীহ। কুতায়বা (রাহঃ) ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণিত আছে। এতে অতিরিক্ত আছঃ (وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ لاَ أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ)
أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ لاَ أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ
(হে আল্লাহ) আমি পানাহ চাই তোমার সন্তুষ্টির ওসীলায় তোমার ক্রোধ থেকে, তোমার হেফাজতের ওসীলায় তোমার শাস্তি থেকে। তোমার প্রশংসা করে শেষ করতে পারছি না তুমি তেমই যেমন তোমার নিজের তারীফ করেছ তুমি।
ইবনে মাজাহ, মুসলিম
হাদীসটি হাসান-সহীহ। কুতায়বা (রাহঃ) ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণিত আছে। এতে অতিরিক্ত আছঃ (وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ لاَ أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ)
أبواب الدعوات عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب
حَدَّثَنَا الأَنْصَارِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا مَعْنٌ قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، أَنَّ عَائِشَةَ، قَالَتْ: كُنْتُ نَائِمَةً إِلَى جَنْبِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَفَقَدْتُهُ مِنَ اللَّيْلِ فَلَمَسْتُهُ فَوَقَعَتْ يَدِي عَلَى قَدَمَيْهِ وَهُوَ سَاجِدٌ وَهُوَ يَقُولُ: «أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ، وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ، لَا أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ، أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ»: «هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ عَائِشَةَ»
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ وَزَادَ فِيهِ: " وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ لَا أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ وَزَادَ فِيهِ: " وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ لَا أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
সুবহানাল্লাহ্! এই দু'আটি কতই না সূক্ষ্মমর্ম সম্বলিত! দু'আর মূল কথা হচ্ছে এই আল্লাহর অসন্তুষ্টি, আল্লাহর পাকড়াও আল্লাহর শাস্তি এবং তাঁর মহিমাময় সত্তার থেকে তিনি ছাড়া কোন আশ্রয় নেই। কাজেই তাঁর অনুগ্রহ সাহায্য এবং দয়ার্দ্র সত্তাই কেবল আশ্রয় দিতে পারে। হযরত আলী (রা) বর্ণিত হাদীসে শুধু এতটুকু কথা উল্লেখিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর সালাতুল বিতরের শেষ রাক'আতে এই দু'আ পাঠ করতেন। এর মর্ম এত হতে পারে যে, নবী ﷺ তৃতীয় রাক'আতে কুনূত হিসেবে এই দু'আ পাঠ করতেন। কোন কোন বিশেষজ্ঞ আলিম এই অর্থ বুঝেছেন। আবার হাদীসের মর্ম এও হতে পারে যে, বিতর সালাতের শেষ বৈঠকের সালামের পূর্বে অথবা সালামের পরে এই দু'আ পাঠ করতেন। হাদীসের মর্ম এও হতে পারে যে, বিতরের শেষ সিজদায় নবী ﷺ এই দু'আ পাঠ করতেন। সহীহ্ মুসলিমে হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, একদা তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে রাতের সালাতে এই দু'আ পাঠ করতে শোনেন। মোটকথা এ সব ব্যাখ্যাই সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা আমাদেরকে আমলের তাওফীক দিন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)