আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪৭. নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত যাবতীয় দোয়া-জিকির

হাদীস নং: ৩৫২১
আন্তর্জাতিক নং: ৩৫২১
নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত যাবতীয় দোয়া-জিকির
শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ
৩৫২১. মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম মুআদ্দিব (রাহঃ) ..... আবু উমামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এত বেশী দুআ করলেন যে, আমরা এর কিছু স্মরণ রাখতে পারলাম না। আমরা বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনিতো অনেক দুআ করেছেন কিন্তু আমরা তো তার কিছুই স্মরণ রাখতে পারলাম না। তিনি বললেনঃ এক দুআ তোমাদের বলব কি যা এই সবকিছু সমন্বিত করে নিবে? বলবেঃ

اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا سَأَلَكَ مِنْهُ نَبِيُّكَ مُحَمَّدٌ وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا اسْتَعَاذَ بِكَ مِنْهُ نَبِيُّكَ مُحَمَّدٌ وَأَنْتَ الْمُسْتَعَانُ وَعَلَيْكَ الْبَلاَغُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ

হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে সেই সব কল্যাণ প্রার্থনা করি, যে সব কল্যাণের প্রার্থনা তোমার কাছে তোমার নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) করেছেন। আর সে সব অনিষ্ঠ থেকে পানাহ চাই, যেসব অকল্যাণ থেকে তোমার নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) পানাহ চেয়েছেন। তুমিই তিনি যার কাছে সাহায্য পাওয়া যায়। তোমারই উপর নির্ভর যথেষ্ট। কোন ক্ষমতা নেই, কোন শক্তি নেই আল্লাহ ছাড়া।



(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-গরীব।
أبواب الدعوات عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ الْمُؤَدِّبُ، حَدَّثَنَا عَمَّارُ بْنُ مُحَمَّدٍ ابْنُ أُخْتِ، سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ أَبِي سُلَيْمٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَابِطٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ دَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِدُعَاءٍ كَثِيرٍ لَمْ نَحْفَظْ مِنْهُ شَيْئًا قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ دَعَوْتَ بِدُعَاءٍ كَثِيرٍ لَمْ نَحْفَظْ مِنْهُ شَيْئًا . فَقَالَ " أَلاَ أَدُلُّكُمْ عَلَى مَا يَجْمَعُ ذَلِكَ كُلَّهُ تَقُولُ اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا سَأَلَكَ مِنْهُ نَبِيُّكَ مُحَمَّدٌ وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا اسْتَعَاذَ بِكَ مِنْهُ نَبِيُّكَ مُحَمَّدٌ وَأَنْتَ الْمُسْتَعَانُ وَعَلَيْكَ الْبَلاَغُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

দুনিয়ায় এমন লোকের সংখ্যাই বেশি, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বাতানো দু'আগুলো মুখস্থ রাখার ক্ষমতা যাঁদের রয়েছে। এ জন্যে এ হাদীসে অত্যন্ত সহজভাবে বলে দেয়া হয়েছে যে, তারা যেন আল্লাহর কাছে এরূপ দু'আ করে:

اَللّٰهُمَّ إِنَّا نَسْئَلُكَ مِنْ خَيْرٍ مَا سَأَلَكَ مِنْهُ نَبِيُّكَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا اسْتَعَاذَ مِنْهُ نَبِيُّكَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

"হে আল্লাহ! তোমার নবী মুহাম্মদ ﷺ তোমার দরবারে যে সব মঙ্গলের প্রার্থনা করেছেন, আমাকে সে সব মঙ্গল দান কর আর যে সব অমঙ্গল থেকে তিনি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন, সে সব অনিষ্ট থেকে তোমার দরবারে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" অধম লেখকের আরয হচ্ছে, এ কথাগুলো নিজের মাতৃভাষায় বলাতেও কোন দোষ নেই। তবে আল্লাহ তা'আলার দরবারে অন্তর থেকে দু'আ করা চাই। আসলে দু'আ পদবাচ্য কেবল তাই, যা অন্তর থেকে উৎসারিত হয়ে থাকে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান