আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪৭. নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত যাবতীয় দোয়া-জিকির

হাদীস নং: ৩৫৭৬
আন্তর্জাতিক নং: ৩৫৭৬
নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত যাবতীয় দোয়া-জিকির
সুদিনের অপেক্ষা করা ইত্যাদি
৩৫৭৬. আবু মুসা মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন আমাদের মেহমান হলেন। আমরা তাঁর কাছে খাবার পেশ করলাম। তিনি তা থেকে কিছু খেলেন। এরপর খেজুর হাযির করা হল। তিনি তা খাচ্ছিলেন এবং মধ্যমা ও তর্জনী একত্রিত করে দুই আঙ্গুল দিয়ে বীচি নিক্ষেপ করছিলেন। বর্ণনাকারী শু’বা (রাহঃ) বলেনঃ আমার ধারণা হচ্ছে যে, তিনি হয়তো দুই আঙ্গুলের মাঝ দিয়ে বীচি নিক্ষেপ করছিলেন। এরপর তাঁর জন্য পানীয় আনা হল। তিনি তা পান করলেন এবং তাঁর ডান পার্শবর্তী লোককে তা দিয়ে দিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর (রাযিঃ) বলেনঃ আমার পিতা নবী (ﷺ) এর ঘোড়ার লাগাম ধরে বললেনঃ আমাদের জন্য দুআ করুন। তখন নবী (ﷺ) দুআ করলেনঃ হে আল্লাহ! আপনি বরকত দিন তাদের রিযকে, মাফ করে দিন তাদের এবং রহমত করুন তাদের।সহীহ মুসলিম

হাদীসটি হাসান-সহীহ। আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর (রাযিঃ) থেকে অন্য সূত্রেও এটি বর্ণিত হয়েছে।
أبواب الدعوات عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب فِي انْتِظَارِ الْفَرَجِ وَغَيْرِ ذَلِكَ
حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى، مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ خُمَيْرٍ الشَّامِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُسْرٍ، قَالَ نَزَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى أَبِي فَقَرَّبْنَا إِلَيْهِ طَعَامًا فَأَكَلَ مِنْهُ ثُمَّ أُتِيَ بِتَمْرٍ فَكَانَ يَأْكُلُ وَيُلْقِي النَّوَى بِأُصْبُعَيْهِ جَمَعَ السَّبَّابَةَ وَالْوُسْطَى قَالَ شُعْبَةُ وَهُوَ ظَنِّي فِيهِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ فَأَلْقَى النَّوَى بَيْنَ أُصْبُعَيْنِ ثُمَّ أُتِيَ بِشَرَابٍ فَشَرِبَهُ ثُمَّ نَاوَلَهُ الَّذِي عَنْ يَمِينِهِ قَالَ فَقَالَ أَبِي وَأَخَذَ بِلِجَامِ دَابَّتِهِ ادْعُ لَنَا . فَقَالَ " اللَّهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِيمَا رَزَقْتَهُمْ وَاغْفِرْ لَهُمْ وَارْحَمْهُمْ " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ أَيْضًا مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُسْرٍ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এধরণের হাদীসগুলো দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, যেভাবে খানাপিনার পর আল্লাহ তা'আলার স্তব-স্তুতি ও শুকরিয়া আদায় করা দরকার, ঠিক তেমনি যখন আল্লাহর কোন বান্দা পানাহারে আপ্যায়িত করে, তখন তার জন্যেও দু'আ করা উচিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ হযরত সাদ (রা)-এর বাড়িতে পানাহার শেষে তাঁর জন্যে যে দু'আ করেন, যার বর্ণনা হযরত আনাস থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে অর্থাৎ-
أَفْطَرَ عِنْدَكُمُ الصَّائِمُونَ وَأَكَلَ طَعَامَكُمُ الْأَبْرَارُ وَصَلَّتْ عَلَيْكُمُ الْمَلَائِكَةُ.
আর হযরত বুসর আসলামীর ওখানে পানাহারের পর তাঁর ওখানে তিনি যে দু'আ করেছেন- যার বর্ণনা আবদুল্লাহ ইব্‌ন বুসর (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে অর্থাৎ-
اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِيمَا رَزَقْتَهُمْ وَاغْفِرْ لَهُمْ وَارْحَمْهُمْ
এ দু'আ দু'টির বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্যের কারণ যতদূর মনে হয় তাঁদের দু'জনের দীনী মর্যাদার ভিত্তিতে হয়েছে। হযরত সা'আদ (রা) হুযুর ﷺ-এর বিশেষভাবে ফয়েযপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাহাবীগণের অন্যতম। তাঁকে তিনি এভাবে দু'আ করলেন যেন আল্লাহ তা'আলা সর্বদা তাঁর ঘরে রোযাদারদের ইফতার-আপ্যায়ন করান, পুণ্যবান বান্দারা যেন সর্বদা তাঁর বাড়িতে আতিথ্য-আপ্যায়ন লাভ করেন এবং ফেরেশতাগণ যেন তাঁর জন্যে দু'আ করেন। হযরত সা'আদ (রা)-এর দীনী মর্যাদা হিসাবে এ দু'আই তাঁর জন্যে অধিকতর প্রযোজ্য ছিল। পক্ষান্তরে সাধারণ পর্যায়ের সাহাবী বুসর আসলামী (রা)-এর জন্যে খায়র ও বরকত ও ক্ষমা-মাগফিরাতের দু'আই বেশি প্রযোজ্য ছিল। তাই রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর জন্যে সেরূপ দু'আই করেছেন। আল্লাহই উত্তম জানেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)