আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪৮. নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল

হাদীস নং: ৩৬১৩
আন্তর্জাতিক নং: ৩৬১৩
নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল
নবী (ﷺ) এর মর্যাদা
৩৬১৩। মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রাহঃ)... উবাই ইবন কা'ব (রাযিঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ নবীগণ (আ)-এর মাঝে আমার উদাহরণ হল এমন এক ব্যক্তির মত যে একখানা ঘর বানাল। তা অত্যন্ত সুন্দর করল, পরিপূর্ণ করল এবং মনোরম করে তৈরী করল। কিন্তু এতে একটি ইঁটের স্থান ছেড়ে দিল। লোকেরা ইমারতটি ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগল এবং তারা খুবই বিস্মিত হল। আর তারা বললঃ এই ইঁটটির স্থান যদি পূর্ণ করে দেওয়া হত!
নবীগণের মাঝে আমি হলাম সেই (পরিপূর্ণকারী) ইঁটটির স্থানে। এই সনদেই নবী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ কিয়ামতের দিন আমি হব নবীগণের ইমাম, তাঁদের খতীব, শাফাআতের অধিকারী। আর এ কোন অহংকার নয়।
أبواب المناقب عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
بَابٌ فِي فَضْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنْ الطُّفَيْلِ بْنِ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " مَثَلِي فِي النَّبِيِّينَ كَمَثَلِ رَجُلٍ بَنَى دَارًا فَأَحْسَنَهَا وَأَكْمَلَهَا وَأَجْمَلَهَا وَتَرَكَ مِنْهَا مَوْضِعَ لَبِنَةٍ، فَجَعَلَ النَّاسُ يَطُوفُونَ بِالبِنَاءِ وَيَعْجَبُونَ مِنْهُ، وَيَقُولُونَ: لَوْ تَمَّ مَوْضِعُ تِلْكَ اللَّبِنَةِ، وَأَنَا فِي النَّبِيِّينَ مَوْضِعُ تِلْكَ اللَّبِنَةِ "
وَبِهَذَا الإِسْنَادِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «إِذَا كَانَ يَوْمُ القِيَامَةِ كُنْتُ إِمَامَ النَّبِيِّينَ وَخَطِيبَهُمْ وَصَاحِبَ شَفَاعَتِهِمْ، غَيْرُ فَخْرٍ» : «هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ»

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

হাদীসটি হাসান-সাহীহ-গারীব।

হাদীসের ব্যাখ্যা:

কুরআন মজীদেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে খাতামুন্নাবিয়্যীন বলা হয়েছে এবং অনেক হাদীসেও। আর নিঃসন্দেহে এটা তাঁর প্রতি আল্লাহ্ তা'আলার বিরাট নি'আমত যে, কিয়ামত পর্যন্ত তিনিই গোটা মনুষ্য জগতের জন্য আল্লাহর নবী ও রাসূল। আলোচ্য হাদীসে তিনি নিজের শ্রেষ্ঠত্বের বাস্তবতা ও প্রকারকে এক সাধারণ বোধসম্পন্ন দৃষ্টান্তের দ্বারা বুঝিয়েছেন, যা এরূপ সহজবোধ্য যে এটা বুঝাবার জন্যে কোন ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের প্রয়োজন হয় না। আলোচ্য হাদীস এ কথা বলে দেয় যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পূর্বে যে হাজার হাজার নবী এসেছেন তাঁদের আগমনে যেন নবুওতী প্রাসাদের নির্মাণ কাজ চলছিল এবং পূর্ণতায় পৌঁছেছিল, কেবল একটি ইটের স্থান শূন্য ছিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রেরণ ও আগমনে সেটাও পূর্ণতা লাভ করে নবুওতী প্রাসাদ সম্পূর্ণ পূর্ণতায় পৌঁছে। না কোন নতুন নবী ও রাসূল আগমনের প্রয়োজন বাকি রয়েছে, না সুযোগ আছে। এ জন্য আল্লাহ্ তা'আলার নিকট হতে নবুওত ও রিসালতের ধারাবাহিকতা শেষ এবং এর কপাট বন্ধ করে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শেষ নবী হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَبَارَكَ وَسَلَّمَ
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান