আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪৮. নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল

হাদীস নং: ৩৬৬০
আন্তর্জাতিক নং: ৩৬৬০
নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল
পরিচ্ছেদঃ
৩৬৬০। আহমাদ ইবনুল হাসান (রাহঃ)... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন মিম্বরে বসে বললেনঃ আল্লাহ্ তাঁর এক বান্দাকে ইখতিয়ার দিয়েছেন যে, পার্থিব সম্পদের চাকচিক্য যা ইচ্ছা তা গ্রহণের বা আল্লাহর কাছে যা আছে তা গ্রহণের। সেই বান্দা আল্লাহর কাছে যা আছে তাই গ্রহণ করে নিল।

আবু বকর (রাযিঃ) তখন বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের পিতা-পিতামহ আর মাতা-মাতামহী আপনার জন্য উৎসর্গ করছি।

রাবী বলেনঃ আমরা এ শুনে আশ্চর্যবোধ করলাম। লোকেরা বললঃ এই শায়খের দিকে চেয়ে দেখ, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক বান্দা সম্পর্কে খবর দিচ্ছেন যাকে আল্লাহ্ তা'আলা দুনিয়ার চাকচিক্যের যা ইচ্ছা গ্রহণের কিংবা আল্লাহর কাছে যা আছে তা গ্রহণের ইখতিয়ার দিয়েছেন আর ইনি বলছেন আমাদের পিতা-পিতামহ ও মাতা-মাতামহীদের উৎসর্গ করছি আপনার জন্য।

বস্তুত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -ই ছিলেন সেই ইখতিয়ারপ্রাপ্ত বান্দা। আমাদের মাঝে আবু বকর (রাযিঃ)-ই ছিলেন এ বিষয়ে সর্বাধিক জ্ঞাত।

নবী (ﷺ) বলেছেন: সাহচর্য ও সম্পদের ক্ষেত্রে আমার প্রতি সবচেয়ে বেশী অনুগ্রহকারী ব্যক্তি হচ্ছে আবু বকর। আমি যদি কাউকে খালীল হিসাবে গ্রহণ করতাম তবে আবু বকরকেই খালীল হিসাবে গ্রহণ করতাম। তবে ইসলামী ভ্রাতৃত্ব থাকবেই। মসজিদে আবু বকরের দরওয়াজা ছাড়া আর কোন বিশেষ দরওয়াজা বাকী থাকবে না।
أبواب المناقب عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الحَسَنِ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ حُنَيْنٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَلَسَ عَلَى المِنْبَرِ فَقَالَ: «إِنَّ عَبْدًا خَيَّرَهُ اللَّهُ بَيْنَ أَنْ يُؤْتِيَهُ مِنْ زَهْرَةِ الدُّنْيَا مَا شَاءَ وَبَيْنَ مَا عِنْدَهُ، فَاخْتَارَ مَا عِنْدَهُ»، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: فَدَيْنَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ بِآبَائِنَا وَأُمَّهَاتِنَا. قَالَ: فَعَجِبْنَا، فَقَالَ النَّاسُ: انْظُرُوا إِلَى هَذَا الشَّيْخِ يُخْبِرُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ عَبْدٍ خَيَّرَهُ اللَّهُ بَيْنَ أَنْ يُؤْتِيَهُ مِنْ زَهْرَةِ الدُّنْيَا مَا شَاءَ وَبَيْنَ مَا عِنْدَ اللَّهِ وَهُوَ يَقُولُ: فَدَيْنَاكَ بِآبَائِنَا وَأُمَّهَاتِنَا قَالَ: فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ هُوَ المُخَيَّرُ، وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ هُوَ أَعْلَمَنَا بِهِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ مِنْ أَمَنِّ النَّاسِ عَلَيَّ فِي صُحْبَتِهِ وَمَالِهِ أَبُو بَكْرٍ، وَلَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيلًا لَاتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ خَلِيلًا وَلَكِنْ أُخُوَّةُ الإِسْلَامِ، لَا تُبْقَيَنَّ فِي المَسْجِدِ خَوْخَةٌ إِلَّا خَوْخَةُ أَبِي بَكْرٍ»: «هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ»

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

হাদীসটি হাসান-সাহীহ।

হাদীসের ব্যাখ্যা:

ওহুদ যুদ্ধের (তৃতীয় হিজরী) আট বৎসর পর নএর দ্বারা জানা গেল যে, হুযুর (ﷺ) এ ভাষণে (যা ওফাতের মাত্র পাঁচ দিন পূর্বে দিয়েছিলেন এবং যা মসজিদে নববীতে তাঁর শেষ ভাষণ ছিল।) নিজের আখেরাতের সফর নিকটবর্তী হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করার সাথে সাথে এ বিষয়টিও স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, উম্মতের মধ্যে যে মর্যাদা ও অবস্থান আবু বকরের রয়েছে, সেটা অন্য কারো নেই। সাথে সাথে একথা বলেন যে, মসজিদের সবগুলো (প্রাইভেট) দরজা বন্ধ করে দেওয়া হোক, কেবল আবু বকরের দরজাটি অবশিষ্ট রাখা হোক। এ ইঙ্গিতও করে দিলেন যে, আমার পর আবু বকরেরই মসজিদের সাথে ঐ সম্পর্ক থাকবে, যে সম্পর্ক আমার ছিল। (স্মরণ রাখা দরকার যে, নবুওয়াত যুগের মসজিদে নববী আমাদের মসজিদসমূহের ন্যায় কেবল নামাযের মসজিদ ছিল না; বরং সেটা যাবতীয় নবুওয়াতী কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র ছিল।)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)