আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
৪৮. নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল
হাদীস নং: ৩৭০০
আন্তর্জাতিক নং: ৩৭০০
নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল
পরিচ্ছেদঃ উছমান ইবন আফ্ফান (রাযিঃ)-এর মর্যাদা
৩৭০০। মুহাম্মাদ ইব্ন বাশ্শার (রাহঃ)... আব্দুর রহমান ইবন খাব্বাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) মালাকার যখন জায়শুল উসরা-এর বিষয়ে লোকদের উৎসাহিত করছিলেন তখন আমি দেখেছি যে, উছমান ইবন আফফান (রাযিঃ) উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আল্লাহর রাস্তায় হাওদা ও জিনের কাপড়সহ একশটি উট আমার যিম্মায়।
এরপর তিনি আবার যুদ্ধের বিষয়ে উৎসাহিত করলেন। এবারও উছমান (রাযিঃ) উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর পথে হাওদা জিনের কাপড়সহ দুইশটি উট আমার যিম্মায়।
এরপর পুনরায় নবী (ﷺ) যুদ্ধ-বাহিনীর বিষয়ে উৎসাহিত করলেন। পুনরায় উছমান ইব্ন আফফান (রাযিঃ) উঠে দাঁড়ালেন। বললেনঃ আল্লাহর পথে হাওদা ও জিনের কাপড়সহ তিনশ উট আমার যিম্মায়।
আব্দুর রহমান ইবন খাব্বাব (রাযিঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখলাম যে, তিনি মিম্বর থেকে নেমে আসছেন আর বলছেনঃ এরপর উছমান যে আমলই করুক না কেন, তাতে তার কোন ক্ষতি নেই। এরপর উছমান যে আমলই করুক না কেন, তাতে তার কোন ক্ষতি নেই।
এই সূত্রে হাদীসটি গারীব। এ হাদীসটি ছাড়া এ বিষয়ে আমাদের কিছু জানা নেই। এই বিষয়ে আব্দুর রহমান ইবন সামুরা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
এরপর তিনি আবার যুদ্ধের বিষয়ে উৎসাহিত করলেন। এবারও উছমান (রাযিঃ) উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর পথে হাওদা জিনের কাপড়সহ দুইশটি উট আমার যিম্মায়।
এরপর পুনরায় নবী (ﷺ) যুদ্ধ-বাহিনীর বিষয়ে উৎসাহিত করলেন। পুনরায় উছমান ইব্ন আফফান (রাযিঃ) উঠে দাঁড়ালেন। বললেনঃ আল্লাহর পথে হাওদা ও জিনের কাপড়সহ তিনশ উট আমার যিম্মায়।
আব্দুর রহমান ইবন খাব্বাব (রাযিঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখলাম যে, তিনি মিম্বর থেকে নেমে আসছেন আর বলছেনঃ এরপর উছমান যে আমলই করুক না কেন, তাতে তার কোন ক্ষতি নেই। এরপর উছমান যে আমলই করুক না কেন, তাতে তার কোন ক্ষতি নেই।
এই সূত্রে হাদীসটি গারীব। এ হাদীসটি ছাড়া এ বিষয়ে আমাদের কিছু জানা নেই। এই বিষয়ে আব্দুর রহমান ইবন সামুরা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
أبواب المناقب عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب في مناقب عثمان بن عفان رضي الله عنه
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ قَالَ: حَدَّثَنَا السَّكَنُ بْنُ المُغِيرَةِ، وَيُكْنَى أَبَا مُحَمَّدٍ مَوْلًى لِآلِ عُثْمَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا الوَلِيدُ بْنُ أَبِي هِشَامٍ، عَنْ فَرْقَدٍ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ خَبَّابٍ، قَالَ: شَهِدْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَحُثُّ عَلَى جَيْشِ العُسْرَةِ فَقَامَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلَيَّ مِائَةُ بَعِيرٍ بِأَحْلَاسِهَا وَأَقْتَابِهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ، ثُمَّ حَضَّ عَلَى الجَيْشِ فَقَامَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلَيَّ مِائَتَا بَعِيرٍ بِأَحْلَاسِهَا وَأَقْتَابِهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ، ثُمَّ حَضَّ عَلَى الجَيْشِ فَقَامَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلَيَّ ثَلَاثُ مِائَةِ بَعِيرٍ بِأَحْلَاسِهَا وَأَقْتَابِهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ، فَأَنَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْزِلُ عَنِ المِنْبَرِ وَهُوَ يَقُولُ: «مَا عَلَى عُثْمَانَ مَا عَمِلَ بَعْدَ هَذِهِ، مَا عَلَى عُثْمَانَ مَا عَمِلَ بَعْدَ هَذِهِ»: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الوَجْهِ لَا نَعْرِفُهُ إِلَّا مِنْ حَدِيثِ السَّكَنِ بْنِ المُغِيرَةِ " وَفِي البَابِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
মক্কা বিজয়ের আগের বছর ৯ম হিজরীতে কিছু সংবাদের ভিত্তিতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক বিরাট বাহিনীসহ সিরিয়ার দিকে অভিযানের সিদ্ধান্ত নিলেন। এ সফর তাবুক পর্যন্ত হল, যা ঐ সময় সিরিয়ার সীমান্তের ভিতরে ছিল। সেখানে তাদের অবস্থান প্রায় বিশ দিন থাকল। যে উদ্দেশ্যে দূর-দূরান্তের এ সফর করা হয়েছিল, সেটা আল্লাহ্ তা'আলার অনুগ্রহ ও সাহায্যে যুদ্ধ বিগ্রহ ছাড়াই কেবল তাবুক পর্যন্ত গমন ও সেখানে বিশ দিন অবস্থানের দ্বারাই পূর্ণ হয়ে গেল। তাই সেখান থেকে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। এ কারণে এ অভিযান তাবুক অভিযান নামে পরিচিত হয়ে গেল। হাদীসে এ অভিযানকে جيش العسرة (কষ্টের অভিযান) বলা হয়েছে। عسرة শব্দের অর্থ হচ্ছে কষ্ট ও ক্লেশ। এ সফরটি এমন সময় করা হয়েছিল যে, মদীনা মুনাওয়ারা ও এর আশেপাশে তখন দুর্ভিক্ষ ও ফসল কম উৎপন্ন হওয়ার কারণে খুব অভাব চলছিল, মৌসুমও ছিল প্রচণ্ড গরমের, সৈন্যদের সংখ্যাও ঐ সময়ের হিসাবে খুবই নগণ্য ছিল। (বিভিন্ন বর্ণনায় ত্রিশ হাজার বলা হয়েছে।) বাহন অর্থাৎ, উট ও ঘোড়া খুবই কম ছিল। পাথেয় অর্থাৎ, পানাহার সামগ্রীও সৈন্য সংখ্যা হিসাবে অত্যন্ত কম ছিল। এসব কারণে এ যুদ্ধাভিযানকে جيش العسرة (কষ্টকর অভিযান) বলা হয়েছে।
এই অসাধারণ পরিস্থিতির কারণে হুযুর (ﷺ) এ যুদ্ধের জন্য লোকদেরকে জান-মালের কুরবানী দেওয়ার জন্য এভাবে উৎসাহ দিলেন, যা অন্যান্য যুদ্ধের ব্যাপারে তাঁর সাধারণ রীতি ছিল না। হযরত উসমান রাযি. এ অভিযানের সৈন্যদের সাহায্য-সহযোগিতায় সবচেয়ে বেশী অংশ নিয়েছেন। হযরত আব্দুর রহমান ইবনে খাব্বাব রাযি.-এর এ বর্ণনা থেকে জানা গিয়েছে যে, হুযুর (ﷺ)-এর উৎসাহদানে তিনি ছয়শ' উট সামানপত্রসহ পেশ করেন। হাদীস ব্যাখ্যাতাগণ অন্য কিছু রিওয়ায়াতের ভিত্তিতে লিখেছেন যে, এই ছয়শ' উট ছাড়া তিনি আরো সাড়ে তিনশ উটও দিয়েছিলেন। এ হিসাবে তার পেশকৃত উটের সংখ্যা সাড়ে নয়শ হয়ে যায়। তাছাড়া তিনি পঞ্চাশটি ঘোড়াও পেশ করেছিলেন। অন্য হাদীস থেকে জানা যায় যে, উট ও ঘোড়া ছাড়া হযরত উসমান রাযি. এক হাজার স্বর্ণ মুদ্রাও নিয়ে এসে হুযুর (ﷺ)-এর হাতে তুলে দিয়েছিলেন। হুযুর (ﷺ) হযরত উসমান রাযি.-এর এসব দান গ্রহণ করে আম মজলিসে এ সুসংবাদ শোনালেন এবং বার বার বললেন : مَا عَلَى عُثْمَانَ مَا عَمِلَ بَعْدَ هَذِهِ (ভাবার্থ এই যে, জান্নাত ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার জন্য উসমানের এ আর্থিক কুরবানী যথেষ্ট।) যখন ঐসব অবস্থার কল্পনা করা হয়, যেগুলোর কারণে এ অভিযানকে جيش العسرة বলা হয়েছে, তখন হযরত উসমানের এ আর্থিক কুরবানীর মূল্য অনেক বেড়ে যায়। رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَأَرْضَاهُ (তাবুক যুদ্ধের বিস্তারিত বিবরণ সীরাত ও ইতিহাসের কিতাবসমূহে দেখে নেওয়া যেতে পারে।)
এই অসাধারণ পরিস্থিতির কারণে হুযুর (ﷺ) এ যুদ্ধের জন্য লোকদেরকে জান-মালের কুরবানী দেওয়ার জন্য এভাবে উৎসাহ দিলেন, যা অন্যান্য যুদ্ধের ব্যাপারে তাঁর সাধারণ রীতি ছিল না। হযরত উসমান রাযি. এ অভিযানের সৈন্যদের সাহায্য-সহযোগিতায় সবচেয়ে বেশী অংশ নিয়েছেন। হযরত আব্দুর রহমান ইবনে খাব্বাব রাযি.-এর এ বর্ণনা থেকে জানা গিয়েছে যে, হুযুর (ﷺ)-এর উৎসাহদানে তিনি ছয়শ' উট সামানপত্রসহ পেশ করেন। হাদীস ব্যাখ্যাতাগণ অন্য কিছু রিওয়ায়াতের ভিত্তিতে লিখেছেন যে, এই ছয়শ' উট ছাড়া তিনি আরো সাড়ে তিনশ উটও দিয়েছিলেন। এ হিসাবে তার পেশকৃত উটের সংখ্যা সাড়ে নয়শ হয়ে যায়। তাছাড়া তিনি পঞ্চাশটি ঘোড়াও পেশ করেছিলেন। অন্য হাদীস থেকে জানা যায় যে, উট ও ঘোড়া ছাড়া হযরত উসমান রাযি. এক হাজার স্বর্ণ মুদ্রাও নিয়ে এসে হুযুর (ﷺ)-এর হাতে তুলে দিয়েছিলেন। হুযুর (ﷺ) হযরত উসমান রাযি.-এর এসব দান গ্রহণ করে আম মজলিসে এ সুসংবাদ শোনালেন এবং বার বার বললেন : مَا عَلَى عُثْمَانَ مَا عَمِلَ بَعْدَ هَذِهِ (ভাবার্থ এই যে, জান্নাত ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার জন্য উসমানের এ আর্থিক কুরবানী যথেষ্ট।) যখন ঐসব অবস্থার কল্পনা করা হয়, যেগুলোর কারণে এ অভিযানকে جيش العسرة বলা হয়েছে, তখন হযরত উসমানের এ আর্থিক কুরবানীর মূল্য অনেক বেড়ে যায়। رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَأَرْضَاهُ (তাবুক যুদ্ধের বিস্তারিত বিবরণ সীরাত ও ইতিহাসের কিতাবসমূহে দেখে নেওয়া যেতে পারে।)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: