আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪৮. নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল

হাদীস নং: ৩৭৫৭
আন্তর্জাতিক নং: ৩৭৫৭
নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল
পরিচ্ছেদঃ সাঈদ ইব্‌ন যায়দ ইবন 'আমর ইবন নুফায়ল (রাযিঃ)-এর গুণাবলী
৩৭৫৭। আহমাদ ইব্‌ন মানী' (রাহঃ)... সাঈদ ইবন যায়দ ইবন আমর ইবন নুফায়ল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নয়জন সম্পর্কে আমি শাহাদত দিচ্ছি যে, তাঁরা অবশ্যই জান্নাতী। আর দশমজনের ক্ষেত্রেও যদি এই সাক্ষ্য দেই তবুও আমি গুনাহ্গার হব না।

বলা হলঃ তা কি ভাবে?

তিনি বললেনঃ আমরা একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর সঙ্গে হেরা পাহাড়ের উপর ছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ হে হেরা তুমি স্থির থাক। তোমার উপর তো রয়েছে নবী (ﷺ), সিদ্দীক, শহীদ। বলা হলঃ এরা কারা?

সাঈদ (রাযিঃ) বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)। আবু বাকর, উমার, উছমান, আলী, তালহা, যুবায়র, সা’দ, আব্দুর রহমান ইব্‌ন আওফ।

বলা হল : দশমজন কে?

তিনি বললেনঃ আমি ।

হাদীসটি হাসান-সহীহ।

সাঈদ ইব্‌ন যায়দ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে একাধিকভাবে এটি বর্ণিত আছে। আহমাদ ইব্‌ন মানী' (রাহঃ)-সাঈদ ইব্‌ন যায়দ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে উক্ত মর্মে অনুরূপ বর্ণিত আছে।

এ হাদীসটি হাসান।
أبواب المناقب عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
بَابُ مَنَاقِبِ سَعِيدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ قَالَ: حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ قَالَ: أَخْبَرَنَا حُصَيْنٌ، عَنْ هِلَالِ بْنِ يَسَافٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ ظَالِمٍ المَازِنِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ، أَنَّهُ قَالَ: أَشْهَدُ عَلَى التِّسْعَةِ أَنَّهُمْ فِي الجَنَّةِ، وَلَوْ شَهِدْتُ عَلَى العَاشِرِ لَمْ آثَمْ. قِيلَ: وَكَيْفَ ذَاكَ؟ قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِحِرَاءَ، فَقَالَ: «اثْبُتْ حِرَاءُ، فَإِنَّهُ لَيْسَ عَلَيْكَ إِلَّا نَبِيٌّ أَوْ صِدِّيقٌ أَوْ شَهِيدٌ». قِيلَ: وَمَنْ هُمْ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ، وَعُثْمَانُ، وَعَلِيٌّ، وَطَلْحَةُ، وَالزُّبَيْرُ، وَسَعْدٌ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ. قِيلَ فَمَنِ العَاشِرُ؟ قَالَ: أَنَا: «هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ» وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ " حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ قَالَ: حَدَّثَنَا الحَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: حَدَّثَنِي شُعْبَةُ، عَنِ الحُرِّ بْنِ الصَّيَّاحِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَخْنَسِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ بِمَعْنَاهُ. هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হযরত সাঈদ ইবনে যায়েদ হুযুর (ﷺ)-এর বাণীর ভিত্তিতে বিশ্বাস করে নিলেন যে, তাঁরা সবাই জান্নাতী এবং এরই ভিত্তিতে তাঁদের জান্নাতী হওয়ার সাক্ষ্য দিলেন। কেননা, আল্লাহর নবী, সিদ্দীক ও শহীদের জান্নাতী হওয়ার মধ্যে কোন সন্দেহ নেই। হযরত সাঈদ ইবনে যায়েদ যাদের নাম উল্লেখ করেছেন, তাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আল্লাহর নবী, আর আবু বকর রাযি. হলেন সিদ্দীক- বরং সিদ্দীকে আকবার। এ দিকে হযরত উমর, হযরত উসমান, হযরত আলী, হযরত তালহা, হযরত যুবায়ের এ পাঁচজনই শহীদ হয়েছেন। অবশিষ্ট হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ, হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস ও হযরত সাঈদ ইবনে যায়েদ এ তিনজনও নিঃসন্দেহে সিদ্দীকদের অন্তর্ভুক্ত।

হযরত সাঈদ ইবনে যায়েদের আল্লাহর নিকট কি মর্যাদা ও মর্তবা ছিল, সেটা আরো অনেক হাদীস থেকেই জানা যায়। তন্মধ্যে একটি হাদীস আমরা এখানে উদ্ধৃত করা উপযোগী মনে করছি। হাদীসের ঘটনা এই:

এক মহিলা (যার নাম ছিল আরওয়া।) হযরত মু'আবিয়া রাযি.-এর খেলাফতকালে এই সাঈদ ইবনে যায়েদের বিরুদ্ধে মদীনার তৎকালীন শাসক মারওয়ানের আদালতে দাবী করল যে, 'সাঈদ ইবনে যায়েদ আমার অমুক ভূমি খণ্ডটি গ্রাস করে নিয়েছে।' হযরত সাঈদ রাযি. এ মিথ্যা অপবাদের কারণে খুবই দুঃখ পেলেন। তিনি মারওয়ানকে বললেন:

قال: أنا أَنْتَقِصُ مِنْ حَقِّهَا شَيْئًا؟ أَشْهَدُ لَسَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: مَنْ أَخَذَ شِبْرًا مِنَ الأَرْضِ ظُلْمًا، فَإِنَّهُ يطوقه يَوْم الْقِيَامَة مِنْ سَبْعِ أَرَضِينَ.

আমি এ মহিলার ভূমি গ্রাস করব? অথচ আমি নিজে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কারো এক বিঘত পরিমাণ ভূমি জবর দখল করবে, কিয়ামতের দিন এর সাত তবক ভূমি তার গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।

একথাটি হযরত সাঈদ অন্তরের এমন বেদনা ও আবেগের সাথে বললেন যে, স্বয়ং মারওয়ান খুবই প্রভাবান্বিত হয়ে গেল এবং বলল, আমি আপনার নিকট কোন দলীল-প্রমাণ চাই না। তারপর হযরত সাঈদ ইবনে যায়েদ ব্যথিত হৃদয়ে বদ দু‘আ করলেন যে, 'হে আল্লাহ। তুমি যদি জান যে, এ মহিলা আমার উপর মিথ্যা দোষ চাপিয়েছে, তাহলে তাকে চোখের আলো থেকে বঞ্চিত করে দাও এবং তার ভূমিকেও তার কবর বানিয়ে দাও।' (ঘটনার বর্ণনাকারী হযরত উরওয়া বলেন,) তারপর তেমনটিই হল। আমি স্বয়ং এ মহিলাকে দেখেছি যে, শেষ বয়সে সে অন্ধ হয়ে গিয়েছিল- এবং নিজেই বলত যে, সাঈদ ইবনে যায়েদের বদ দু‘আর ফলে আমার এ অবস্থা হয়েছে। তারপর একদিন এ ঘটনা ঘটল যে, এ মহিলা নিজের ভূমিতে হেটে যাচ্ছিল, এ সময় এক গর্তে পড়ে গেল এবং গর্তেই তার কবর হয়ে গেল। (বুখারী, মুসলিম)
আল্লাহ তা'আলা এ ঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার তাওফীক দান করুন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান