আল-আদাবুল মুফরাদ- ইমাম বুখারী রহঃ
আল-আদাবুল মুফরাদের পরিচ্ছেদসমূহ
হাদীস নং: ১৭৫
আল-আদাবুল মুফরাদের পরিচ্ছেদসমূহ
৯২- মুখমণ্ডলের উপর মারিবে না
১৭৫. হযরত জাবির (রাযিঃ) বলেন, নবী করীম (ﷺ) এমন একটি পশুর পাশ দিয়া অতিক্রম করিলেন যাহার খুতনীতে ধোয়ার দ্বারা দাগ দেওয়ার চিহ্ন সুস্পষ্ট ছিল। তখন নবী করীম (ﷺ) বলিলেনঃ যে এমনটি করিয়াছে তাহার উপর আল্লাহর অভিসম্পাত হউক। কেহ যেন কখনও কোন কিছুর চেহারার উপর দাগ না দেয় এবং কখনও চেহারার উপর প্রহারও না করে।
أبواب الأدب المفرد للبخاري
بَابُ لِيَجْتَنِبِ الْوَجْهَ فِي الضَّرْبِ
حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ قَالَ: مَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِدَابَّةٍ قَدْ وُسِمَ يُدَخِّنُ مَنْخِرَاهُ، قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: لَعَنَ اللَّهُ مَنْ فَعَلَ هَذَا، لاَ يَسِمَنَّ أَحَدٌ الْوَجْهَ وَلاَ يَضْرِبَنَّهُ.
হাদীসের ব্যাখ্যা:
পৃথিবীর নানা দেশে ঘোড়া-গাধা ইত্যাদি পশুদের পরিচয়ের জন্য এদের শরীরের কোন অংশে গরম লোহার দাগ দিয়ে চিহ্ন তৈরী করা হত। বর্তমানেও কোন কোন অঞ্চলে এর প্রচলন রয়েছে। কিন্তু এ উদ্দেশ্যের জন্য চেহারা দাগানো (যা পশুর সারা দেহের মধ্যে সবচেয়ে সংবেদনশীল ও অনুভূতিপরায়ণ অঙ্গ) খুবই নির্মম ও নৃশংসতার কাজ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি গাধাকে দেখলেন, যার চেহারা দাগানো হয়েছিল। তিনি এতে খুবই ব্যথিত হলেন এবং বললেন: ঐ ব্যক্তির উপর আল্লাহর লা'নত হোক, যে এ কাজ করেছে। এ কথা স্পষ্ট যে, এটা চরম পর্যায়ের অসন্তুষ্টির বাক্য ছিল, যা একটি গাধার সাথে নির্মম আচরণকারীর জন্য তাঁর মুখ থেকে বের হয়েছিল।
আধুনিক বিশ্ব এ ধরনের নির্মমতা প্রতিরোধকে বর্তমানে কেবল মানুষের দায়িত্ব মনে করতে শুরু করেছে। কিন্তু আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (ﷺ) এখন থেকে চৌদ্দশ বছর পূর্বে এর পথপ্রদর্শন করেছিলেন এবং এর উপর বিশেষ জোর দিয়েছিলেন।
আধুনিক বিশ্ব এ ধরনের নির্মমতা প্রতিরোধকে বর্তমানে কেবল মানুষের দায়িত্ব মনে করতে শুরু করেছে। কিন্তু আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (ﷺ) এখন থেকে চৌদ্দশ বছর পূর্বে এর পথপ্রদর্শন করেছিলেন এবং এর উপর বিশেষ জোর দিয়েছিলেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)