আল-আদাবুল মুফরাদ- ইমাম বুখারী রহঃ

আল-আদাবুল মুফরাদের পরিচ্ছেদসমূহ

হাদীস নং: ২০২
আল-আদাবুল মুফরাদের পরিচ্ছেদসমূহ
১০৩- দাস যখন মনিবের মঙ্গল কামনা করে
২০২. হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবন উমর (রাযিঃ) বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ফরমাইয়াছেনঃ গোলাম যখন তাহার মনিবের মঙ্গল কামনা করে এবং তাহার প্রতিপালকের ইবাদতও উত্তমরূপে সম্পন্ন করে, তাহার জন্য দ্বিগুণ পারিশ্রমিক রহিয়াছে।
أبواب الأدب المفرد للبخاري
بَابُ إِذَا نَصَحَ الْعَبْدُ لِسَيِّدِهِ
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ‏:‏ إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا نَصَحَ لِسَيِّدِهِ، وَأَحْسَنَ عِبَادَةَ رَبِّهِ، لَهُ أَجْرُهُ مَرَّتَيْنِ‏.‏

হাদীসের ব্যাখ্যা:

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হেদায়াত ও শিক্ষার এটা একটা মূলনীতি যে, প্রত্যেক ব্যক্তি ও প্রতিটি শ্রেণীকে তিনি উৎসাহিত করেন ও তাকীদ করেন যে, তারা যেন অন্যদের অধিকার আদায় করে এবং এ অধিকার আদায়কেই যেন নিজের সফলতা মনে করে।

মনিব ও মালিকদেরকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে, তারা যেন গোলাম ও অধীনস্থদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে, তাদের সাথে সুন্দর আচরণ করে, তাদেরকে নিজের ভাই মনে করে এবং পরিবারের একজন সদস্যের মত মনে করে। অপরদিকে গোলাম ও চাকরদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, তারা যেন মনিব ও মালিকদের কল্যাণকামী ও বিশ্বস্ত হয়ে থাকে।

আমাদের এ দুনিয়ার সকল অশান্তি ও বিপর্যয়ের মূল শিকড় এটাই যে, প্রত্যেকেই অন্যের অধিকার দিতে নারায অথবা কমপক্ষে এ ব্যাপারে বেপরোয়া ও উদাসীন। অথচ নিজের অধিকার অন্যের নিকট থেকে আদায় করে নিতে; বরং ছিনিয়ে আনতে সবধরনের বল প্রয়োগকে সঠিক মনে করা হয়। এটাই দুনিয়াটাকে জাহান্নাম বানিয়ে রেখেছে। আর সে পর্যন্ত এ দুনিয়া শান্তি ও নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত থাকবে, যে পর্যন্ত অধিকার লাভ ও এটা ছিনিয়ে আনার স্থলে হক ও অধিকার আদায়ের উপর জোর না দেওয়া হবে। যদি জ্ঞান ও দূরদৃষ্টি থেকে আমরা বঞ্চিত না হয়ে গিয়ে থাকি, তাহলে এ বিষয়টি একেবারে স্পষ্ট।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)