আল-আদাবুল মুফরাদ- ইমাম বুখারী রহঃ
আল-আদাবুল মুফরাদের পরিচ্ছেদসমূহ
হাদীস নং: ২১৫
আল-আদাবুল মুফরাদের পরিচ্ছেদসমূহ
১১০- উপকারীর প্রত্যুপকার করা কর্তব্য
২১৫. হযরত জাবির ইবন আব্দুল্লাহ্ আনসারী ( রা ) বলেন , নবী করীম ( সা ) ফরমাইয়াছেন : যাহার কোন উপকার করা হয় , তাহার উচিত উহার প্রত্যুপকার করা । যদি তাহার প্রত্যুপকারের সামর্থ্য না থাকে , তবে তাহার উপকারের প্রশংসা করা উচিত । কেননা , যখন সে উহার প্রশংসা করিল , তখন সে উহার কৃতজ্ঞতাই জ্ঞাপন করিল । আর যদি সে উহা গোপন করে , তবে সে উহার প্রতি অকৃতজ্ঞতাই প্রকাশ করিল । আর যে ব্যক্তি তাহার মধ্যে যে গুণ অনুপস্থিত সেই ভূষণেই নিজেকে ভূষিত বলিয়া প্রকাশ করিল , সে যেন দুইটি মিথ্যার পোশাকে নিজেকে সজ্জিত করিল ।
أبواب الأدب المفرد للبخاري
بَابُ مَنْ صُنِعَ إِلَيْهِ مَعْرُوفٌ فَلْيُكَافِئْهُ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عُفَيْرٍ قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ غَزِيَّةَ، عَنْ شُرَحْبِيلَ مَوْلَى الأَنْصَارِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الأَنْصَارِيِّ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: مَنْ صُنِعَ إِلَيْهِ مَعْرُوفٌ فَلْيُجْزِئْهُ، فَإِنْ لَمْ يَجِدْ مَا يُجْزِئُهُ فَلْيُثْنِ عَلَيْهِ، فَإِنَّهُ إِذَا أَثْنَى فَقَدْ شَكَرَهُ، وَإِنْ كَتَمَهُ فَقَدْ كَفَرَهُ، وَمَنْ تَحَلَّى بِمَا لَمْ يُعْطَ، فَكَأَنَّمَا لَبِسَ ثَوْبَيْ زُورٍ.
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আলোচ্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ দিক-নির্দেশনা প্রদান করেছেন যে, যাকে কোন প্রিয়জনের পক্ষ থেকে হাদিয়া, তুহফা প্রদান করা হয়, তবে হাদিয়া গ্রহণকারী ব্যক্তি যদি হাদিয়ার প্রতিদান প্রদানে সক্ষম হয়, তাই করবে। আর যদি এ ক্ষমতা না থাকে তবে হাদিয়া প্রদানকারীর ব্যাপারে উত্তম কথা বলবে। তার এ ইহসানের কথা অন্যদের নিকট আলোচনা করবে। আল্লাহ তা'আলার নিকট এটাও কৃতজ্ঞতা বলে গৃহীত হবে। (অন্য এক হাদীস থেকে জানা যায় جَزَاكَ اللّٰهُ বললেও এ দাবি পূর্ণ হবে) আর যে ব্যক্তি হাদিয়া-তুহফা পাওয়ার পর ইহা গোপন করে, মুখে পর্যন্ত উল্লেখ করল না, 'জাযাকাল্লাহ্' জাতীয় শব্দও বলল না, তবে সে নি'আমতের অস্বীকারকারী ও অকৃতজ্ঞ হল।
হাদীসের শেষ বাক্য ومن تحلى الخ-এর প্রকাশ্য অর্থ এই যে, যে ব্যক্তি নিজের কথা বা কাজ কিংবা বিশেষ কাপড় ইত্যাদি দ্বারা নিজের মধ্যে সেই পূর্ণতা (যেমন আলিম ও বুযুর্গ) প্রকাশ করে যা তার মধ্যে নেই তবে সে সেই ধোঁকাবাজের ন্যায়, যে লোকজনকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য সম্মানিত ব্যক্তিত্বশীল লোকদের পোশাক পরিধান করে।
হাদীসের কোন কোন ব্যাখ্যাকার লিখেন, আরবে এক ব্যক্তি অতিশয় নিচু ও মর্যাদাহীন স্তরের ছিল। কিন্তু সে মর্যাদাবান ও ব্যক্তিত্বশীল লোকদের ন্যায় উত্তম ও আড়ম্বরপূর্ণ পোশাক পরত, যেন তাকে সম্ভ্রান্তদের মধ্যে গণ্য করা হয় এবং তার সাক্ষ্যের প্রতি আস্থা রাখা হয়। অথচ সে মিথ্যা সাক্ষ্য দিত। এটাকেই لابس ثوب زور বলা হয়েছে।
হাদিয়া-তুহফা সম্পর্কিত উল্লিখিত দিকনির্দেশনাবলীর সাথে শেষ বাক্য বলার সম্ভবত হুজুর রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উদ্দেশ্য যে, যে ব্যক্তির নিকট এমন গুণাবলী না থাকে যে কারণে মানুষ তাকে হাদিয়া প্রদান করা সৌভাগ্য মনে করে, এমন ব্যক্তি যদি মানুষের হাদিয়া-তুহফা অর্জনের জন্য নিজের কথা, পোশাক ও জীবনের চাল-চলন দ্বারা সেই পূর্ণতা ও গুণাবলী নিজের জন্য প্রকাশ করে তবে তা ধোঁকা ও প্রতারণা হবে। আর সে ব্যক্তি বর্ণনা মুতাবিক لابس ثوب روز এর ন্যায় ধোঁকাবাজ হবে। আল্লাহ ভাল জানেন।
হাদীসের শেষ বাক্য ومن تحلى الخ-এর প্রকাশ্য অর্থ এই যে, যে ব্যক্তি নিজের কথা বা কাজ কিংবা বিশেষ কাপড় ইত্যাদি দ্বারা নিজের মধ্যে সেই পূর্ণতা (যেমন আলিম ও বুযুর্গ) প্রকাশ করে যা তার মধ্যে নেই তবে সে সেই ধোঁকাবাজের ন্যায়, যে লোকজনকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য সম্মানিত ব্যক্তিত্বশীল লোকদের পোশাক পরিধান করে।
হাদীসের কোন কোন ব্যাখ্যাকার লিখেন, আরবে এক ব্যক্তি অতিশয় নিচু ও মর্যাদাহীন স্তরের ছিল। কিন্তু সে মর্যাদাবান ও ব্যক্তিত্বশীল লোকদের ন্যায় উত্তম ও আড়ম্বরপূর্ণ পোশাক পরত, যেন তাকে সম্ভ্রান্তদের মধ্যে গণ্য করা হয় এবং তার সাক্ষ্যের প্রতি আস্থা রাখা হয়। অথচ সে মিথ্যা সাক্ষ্য দিত। এটাকেই لابس ثوب زور বলা হয়েছে।
হাদিয়া-তুহফা সম্পর্কিত উল্লিখিত দিকনির্দেশনাবলীর সাথে শেষ বাক্য বলার সম্ভবত হুজুর রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উদ্দেশ্য যে, যে ব্যক্তির নিকট এমন গুণাবলী না থাকে যে কারণে মানুষ তাকে হাদিয়া প্রদান করা সৌভাগ্য মনে করে, এমন ব্যক্তি যদি মানুষের হাদিয়া-তুহফা অর্জনের জন্য নিজের কথা, পোশাক ও জীবনের চাল-চলন দ্বারা সেই পূর্ণতা ও গুণাবলী নিজের জন্য প্রকাশ করে তবে তা ধোঁকা ও প্রতারণা হবে। আর সে ব্যক্তি বর্ণনা মুতাবিক لابس ثوب روز এর ন্যায় ধোঁকাবাজ হবে। আল্লাহ ভাল জানেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)