আল-আদাবুল মুফরাদ- ইমাম বুখারী রহঃ

আল-আদাবুল মুফরাদের পরিচ্ছেদসমূহ

হাদীস নং: ২৯৯
আল-আদাবুল মুফরাদের পরিচ্ছেদসমূহ
১৪০- উত্তম মাল উত্তম লোকের জন্য।
২৯৯। আমর ইবনুল আস (রাঃ) বলেন, নবী (ﷺ) লোক মারফত আমাকে নির্দেশ দেন যে, আমি যেন পোশাকে ও অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাঁর নিকট উপস্থিত হই। অতএব আমি তাই করলাম। আমি যখন তাঁর নিকট এসে উপস্থিত হলাম, তখন তিনি উযু করছিলেন। তিনি আমার দিকে চোখ তুলে তাকিয়ে গভীরভাবে দেখলেন, তারপর দৃষ্টি অবনত করে বলেনঃ হে আমর! আমি তোমাকে একটি বাহিনীর সেনাপতি নিয়োগ করে পাঠাতে চাচ্ছি, যাতে আল্লাহ তোমাকে গনীমতের অধিকারী করেন। আমি তোমার জন্য উৎকৃষ্ট মাল কামনা করি। আমি বললাম, আমি সম্পদের লোভে ইসলাম গ্রহণ করিনি। আমি ইসলামের আকর্ষণে মুসলিম হয়েছি, যাতে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে থাকতে পারি। তিনি বলেনঃ হে আমর! হা, উত্তম লোকের জন্যই উত্তম সম্পদ।
أبواب الأدب المفرد للبخاري
بَابُ الْمَالُ الصَّالِحُ لِلْمَرْءِ الصَّالِحِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عَلِيٍّ قَالَ‏:‏ سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ‏:‏ سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ قَالَ‏:‏ بَعَثَ إِلَيَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَنِي أَنْ آخُذَ عَلَيَّ ثِيَابِي وَسِلاَحِي، ثُمَّ آتِيهِ، فَفَعَلْتُ فَأَتَيْتُهُ وَهُوَ يَتَوَضَّأُ، فَصَعَّدَ إِلَيَّ الْبَصَرَ ثُمَّ طَأْطَأَ، ثُمَّ قَالَ‏:‏ يَا عَمْرُو، إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَبْعَثَكَ عَلَى جَيْشٍ فَيُغْنِمُكَ اللَّهُ، وَأَرْغَبُ لَكَ رَغْبَةً مِنَ الْمَالِ صَالِحَةً، قُلْتُ‏:‏ إِنِّي لَمْ أُسْلِمْ رَغْبَةً فِي الْمَالِ، إِنَّمَا أَسْلَمْتُ رَغْبَةً فِي الإِسْلاَمِ فَأَكُونُ مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ‏:‏ يَا عَمْرُو، نِعْمَ الْمَالُ الصَّالِحِ لِلْمَرْءِ الصَّالِحِ‏.‏

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

(মুসতাদরাক আল হাকিম, ইবনু হিব্বান)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হযরত আমর ইবনুল আস (রা)-এর এ হাদীস থেকে জানা গেল যে, ধন-সম্পদ যদি বৈধ পন্থায় উপার্জিত হয় তবে তা আল্লাহর নি'আমত ও তাঁর বিশেষ অনুগ্রহ। আর সাধনা ও সংযমের অধ্যায়ের অধীনস্থ অনেক হাদীস থেকে জানা যায় যে, ধন-সম্পদ থেকে রিক্ত হস্তে অর্থাৎ দারিদ্র্যকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে। আর উম্মতের দরিদ্রগণ ধনীদের থেকে শ্রেষ্ট। ঘটনা হচ্ছে, উভয় কথাই স্ব স্ব স্থানে সম্পূর্ণ সঠিক। দারিদ্র্য ও নিঃস্বতার সাথে যদি ধৈর্য, সমর্পণ, সন্তুষ্টি ও নম্রতা হাসিল হয় তবে নিঃসন্দেহে এ দারিদ্র্য ও নিঃস্বতা খুবই উঁচু স্তরের। এতে রয়েছে বিরাট কল্যাণ। রাসুলুল্লাহ ﷺ নিজের জন্য এটাই পসন্দ করেছেন এবং এটার জন্যই তিনি আল্লাহ তা'আলার নিকট দু'আ করতেন।

আর যদি আল্লাহ তা'আলা কোন বান্দাকে বৈধ ও পবিত্র পন্থায় ধন-সম্পদ দান করেন এজন্য সে শুকরিআ আদায় করে এবং সঠিক স্থানে ব্যয় করার তওফীক লাভ করে তবে তাও আল্লাহ তা'আলার বিশেষ অনুগ্রহ এবং মর্যাদা সম্পন্ন নি'আমত। নবীগণের মধ্যে হযরত দাউদ (আ), হযরত সুলায়মান (আ), হযরত আইয়ূব (আ) ও হযরত ইউসুফ (আ) আর তাঁরা ছাড়াও অনেক ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা এ অনুগ্রহে বৈশিষ্ট্য মন্ডিত করেছেন। আর মর্যাদাবান সাহাবীগণের মধ্যে হযরত উসমান (রা), হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রা), হযরত যুবাইর ইবনে আওয়াম (রা) প্রমুখও আল্লাহ তা'আলার এ অনুগ্রহে পূর্ণ অংশ প্রাপ্ত হয়েছিলেন। সর্বোপরি এটাও আল্লাহ আ'আলার বিরাট মর্যাদাযোগ্য ও শুকরিয়া যোগ্য নি'আমত। نعم المال الصالح للمرء الصالح.
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান