আল-আদাবুল মুফরাদ- ইমাম বুখারী রহঃ

আল-আদাবুল মুফরাদের পরিচ্ছেদসমূহ

হাদীস নং: ৩২১
আল-আদাবুল মুফরাদের পরিচ্ছেদসমূহ
১৪৯- কাফিরদিগকে অভিসম্পাত দেওয়া
৩২১। হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলা হইল—ইয়া রাসূলাল্লাহ্! মুশরিকদের উপর বদ্দুআ করুন! তিনি বলিলেনঃ আমি তো অভিসম্পাতকারী রূপে প্রেরিত হই নাই এবং আমি রহমত রূপেই প্রেরিত হইয়াছি।
أبواب الأدب المفرد للبخاري
بَابُ لَعْنِ الْكَافِرِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدٍ قَالَ‏:‏ عَبْدُ اللهِ بْنُ محمد قال حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ‏:‏ قِيلَ‏:‏ يَا رَسُولَ اللهِ، ادْعُ اللَّهَ عَلَى الْمُشْرِكِينَ، قَالَ‏:‏ إِنِّي لَمْ أُبْعَثْ لَعَّانًا، وَلَكِنْ بُعِثْتُ رَحْمَةً‏.‏

হাদীসের ব্যাখ্যা:

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে কাফের ও মুশরিকগণ তাঁর এবং তাঁর আনীত সত্য দ্বীনের চরম শত্রু ছিল। স্বয়ং তাঁকে এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনয়নকারীদেরকে তারা বিভিন্ন রকম কষ্ট দিত। এমনকি হুযুর (ﷺ)-কে আপন প্রিয় ও পবিত্র মাতৃভূমি ছাড়তে হয়েছিল। এরপরও তাদের ফিতনা-ফ্যাসাদ এবং অপতৎপরতা চলতেই থাকে। এক সময় সাহাবায়ে কেরামের পক্ষ থেকে আবেদন করা হল যে, এসব জালেম ও পাপিষ্ঠদের বিরুদ্ধে আপনি বদদু‘আ করুন, যেন আল্লাহ্ তাদের উপর নিজের ক্রোধ ও আযাব নাযিল করেন এবং তাদেরকে ধ্বংস করে দেন- যেমন পূর্ববর্তী অনেক উম্মতের এমন জালেম ও কাফেরদের উপর আযাব নাযিল হয়েছে এবং পৃথিবীকে তাদের অস্তিত্ব থেকে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। হুযুর (ﷺ) এ আব্দারের উত্তরে বললেন যে, আল্লাহ তা'আলা আমাকে এ জন্য প্রেরণ করেননি যে, আমি অভিশাপ ও বদদু‘আ দিব, আমাকে তো সারা জাহানের জন্য রহমত হিসাবে প্রেরণ করা হয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর পবিত্র কিতাবে এরশাদ করেছেন: وَمَاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ اِلَّا رَحۡمَۃً لِّلۡعٰلَمِیۡنَ
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)