আল-আদাবুল মুফরাদ- ইমাম বুখারী রহঃ

আল-আদাবুল মুফরাদের পরিচ্ছেদসমূহ

হাদীস নং: ৫৩৬
আল-আদাবুল মুফরাদের পরিচ্ছেদসমূহ
২৪৫. চক্ষু রোগীকে দেখিতে যাওয়া
৫৩৬। হযরত আবু উমামা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) বলিয়াছেনঃ আল্লাহ্ তাআলা বলিয়াছেনঃ হে বনী আদম! আমি যখন তোমার দুইটি চোখ ছিনাইয়া লইলাম আর তুমি বিপদের মুহূর্তে ধৈর্যধারণ করিয়াছ এবং সাওয়াবের আশা করিয়াছ তখন আমি তোমাকে জান্নাত দান না করিয়া অন্য কিছুতে খুশি নই।
أبواب الأدب المفرد للبخاري
حَدَّثَنَا حَدَّثَنَا خَطَّابٌ ، قَالَ : حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ عَجْلانَ ، وَإِسْحَاقَ بْنِ يَزِيدَ ، قَالا : حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، قَالَ : حَدَّثَنِي ثَابِتٌ ، عَنِ الْقَاسِمِ ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يَقُولُ اللَّهُ : " يَا ابْنَ آدَمَ ، إِذَا أَخَذْتُ كَرِيمَتَيْكَ ، فَصَبَرْتَ عِنْدَ الصَّدْمَةِ وَاحْتَسَبْتَ ، لَمْ أَرْضَ لَكَ ثَوَابًا دُونَ الْجَنَّةِ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

মানুষের জীবনে যখন কোন আঘাত ও ব্যথা আসে, তখন এর প্রতিক্রিয়া শুরুতেই বেশী হয়ে থাকে। অন্যথায় কিছু দিন পার হয়ে গেলে তো এর প্রভাব আপনা আপনিই দূর হয়ে যায়। এ জন্য প্রকৃত ধৈর্য সেটাই, যা আঘাতের চোট লাগার সময়ই আল্লাহ্ তা'আলার কথা স্মরণ করে এবং তাঁর পক্ষ থেকে প্রতিদান পাওয়ার আশায় করা হয়ে থাকে। এ ধৈর্যেরই মর্যাদা রয়েছে এবং এরই উপর সওয়াবের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। পরবর্তীতে স্বাভাবিকভাবে যে ধৈর্য ও সবর এসে যায়, আল্লাহ্ তা'আলার কাছে এর বিশেষ কোন মূল্য নেই।

আবু উমামা (রা)-এর বর্ণিত এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ আল্লাহর পক্ষ থেকে এ ঘোষণা শুনিয়ে দিয়েছেন যে, যে ঈমানদার বান্দা কোন আঘাত পাওয়ার সময়ই আল্লাহ্ তা'আলার সন্তুষ্টি ও প্রতিদান লাভের আশায় ধৈর্য ধারণ করবে, আল্লাহ্ তা'আলা অবশ্যই তাকে জান্নাত দান করবেন এবং জান্নাত ছাড়া অথবা এর চেয়ে কম মর্যাদার কোন জিনিস এ ধৈর্যের প্রতিদান হিসাবে দিয়ে স্বয়ং আল্লাহই সন্তুষ্ট হবেন না। আল্লাহু আকবার! কত বড় অনুগ্রহের কথা! আল্লাহ্ স্বয়ং বান্দাকে সম্বোধন করে বলছেন যে, হে আদম-সন্তান! যখন আমার তকদীরের ফায়সালায় তোমার জীবনে কোন দুঃখ ও আঘাত আসে, তখন যদি তুমি আমার সন্তুষ্টি ও প্রতিদানের আশায় ধৈর্যের সাথে এটা বরণ করে নাও, তাহলে আমি তোমাকে জান্নাত না দিয়ে খুশী হব না। এ ধৈর্যের কারণে বান্দার সাথে আল্লাহর এমন বিশেষ সম্পর্ক সৃষ্টি হয়ে যাবে যে, তাকে জান্নাত না দিয়ে তিনি নিজেই খুশী হবেন না।

ফায়দা: আল্লাহর কোন বান্দার উপর যখন কোন দুঃখ-যন্ত্রণা এসে যায়, তখন সে যদি এ হাদীসটি এবং আল্লাহ্ তা'আলার অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতির কথাটি স্মরণ করে ধৈর্য অবলম্বন করে, তাহলে এ ধৈর্যের মধ্যে সে ইন্‌শাআল্লাহ একটা বিশেষ স্বাদ ও মজা পেয়ে যাবে। আর আখেরাতে আল্লাহর পক্ষ থেকে জান্নাত তো তাকে দেওয়াই হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান