আল-আদাবুল মুফরাদ- ইমাম বুখারী রহঃ

আল-আদাবুল মুফরাদের পরিচ্ছেদসমূহ

হাদীস নং: ১২২০
আল-আদাবুল মুফরাদের পরিচ্ছেদসমূহ
৫৭৬- কেউ তার বিছানায় ঘুমাতে গিয়ে যে দুআ পড়বে।
১২২০. হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, নবী করীম (ﷺ) বিছানায় গমন কালে বলিতেনঃاللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ، وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ، فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى، مُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ وَالْقُرْآنِ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ كُلِّ ذِي شَرٍّ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ، أَنْتَ الأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ، اقْضِ عَنِّي الدَّيْنَ، وَأَغْنِنِي مِنَ الْفَقْرِ “প্রভো! হে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর পালনকর্তা এবং সবকিছুর পালক, শস্যবীজও আঁটি অংকুরকারী, তাওরাত-ইঞ্জীল ও কুরআন শরীফের অবতারণকারী, সকল অনিষ্টকারীর অনিষ্ট হইতে তোমারই শরণ লইতেছি, যাহার ললাটের চুল তোমারই মুঠায় রহিয়াছে। [অর্থাৎ কোন অনিষ্টকারীকেই তো তোমার ক্ষমতায় আওতার বাহিরে নহে। তুমিই আদি, তোমার পূর্বে কিছুই ছিল না, তুমিই অন্ত, তোমার পরে আর কিছুই নাই। তুমিই প্রকাশ্য, (সবার উপরে গরীয়ান) তোমার উপরে কেহই নাই, তুমিই গোপন, তোমার চাইতে গোপনীয় আর কিছুই নাই। আমার ঋণ তুমি পরিশোধ করিয়া দাও এবং আমার দৈন্য তুমিই দূর কর!
أبواب الأدب المفرد للبخاري
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ‏:‏ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ‏:‏ اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ، وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ، فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى، مُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ وَالْقُرْآنِ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ كُلِّ ذِي شَرٍّ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ، أَنْتَ الأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ، اقْضِ عَنِّي الدَّيْنَ، وَأَغْنِنِي مِنَ الْفَقْرِ‏.‏

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হাদীসেও শয়নকালে ডান পার্শ্বের উপর শয়নের কথা বলা হয়েছে। স্বয়ং হুযুর ﷺ ও এরূপই আমল করতেন। এভাবে শয়ন করলে কলব যা বাম পার্শ্বে অবস্থিত তা ঝুলন্ত অবস্থায় উপর দিকে থাকে। আল্লাহ ওয়ালা বুযুর্গগণের অভিজ্ঞতা হচ্ছে শয়নকালে এরূপ অবস্থায় দু'আ ও আল্লাহর ধ্যান অধিকতর কার্যকর হয়ে থাকে। এ দু'আটি আল্লাহর ঐসব বান্দাদের জন্যে বেশি উপযোগী, যারা ঋণগ্রস্ত এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে পেরেশানীর শিকার। বান্দা এভাবে দু'আ করে শয়ন করবে এবং মহান দাতা প্রতিপালকের দরবারে আশা পোষণ করবে যে, তিনি তার রিযিকে বরকত দান করে আর্থিক দূরবস্থা থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করেই দেবেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)