মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

২- ঈমানের অধ্যায়

হাদীস নং: ১৯৪
- ঈমানের অধ্যায়
৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৯৪। হযরত জাবের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট তাওরাত কিতাবের একটি নোসখা নিয়ে এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এটা তাওরাত কিতাবের একটি কপি। রাসূলে পাক (ﷺ) নীরব রইলেন। হযরত উমর (রাযিঃ) তা পাঠ করতে শুরু করলেন। (সাথে সাথে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চেহারা পরিবর্তন হতে লাগল। তা লক্ষ্য করে হযরত আবু বকর (রাযিঃ) বললেন, ওমর তোমার সর্বনাশ হয়েছে, তুমি কি দেখছ না! রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চেহারা মুবারক কি রূপ ধারণ করেছে? তখন ওমর (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দিকে দৃষ্টিপাত করলেন এবং বললেন, আমি আল্লাহর নাখুশী এবং তাঁর রাসূলের নাখুশী হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি এবং আমরা আল্লাহ্ পাককে প্রভু, ইসলামকে দীন এবং হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে নবীরূপে লাভ করে সন্তুষ্ট হয়েছি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, সেই সত্তার কসম! যার হাতে আমার জীবন! এই সময় যদি তোমাদের নিকট হযরত মুসা (আ)-ও আত্মপ্রকাশ করতেন আর তোমরা আমাকে রেখে তার অনুসরণ করতে তা হলে নিশ্চিতরূপে তোমরা পথভ্রষ্ট হয়ে পড়তে। এমনকি মুসা (আ) যদি এখন জীবিত থাকতেন আর আমার নবুয়াতের যামানা পেতেন তবে তিনিও নিশ্চিতরূপে আমার অনুসরণ করতেন। -দারেমী
كتاب الإيمان
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثالث
عَن جَابِرٍ: (أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِنُسْخَةٍ مِنَ التَّوْرَاةِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذِهِ نُسْخَةٌ مِنَ التَّوْرَاةِ فَسَكَتَ فَجَعَلَ يقْرَأ وَوجه رَسُول الله يَتَغَيَّرُ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ ثَكِلَتْكَ الثَّوَاكِلُ مَا تَرَى مَا بِوَجْهِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَظَرَ عُمَرُ إِلَى وَجْهِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَعُوذُ بِاللَّه من غضب الله وَغَضب رَسُوله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم رَضِينَا بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَوْ بَدَا لَكُمْ مُوسَى فَاتَّبَعْتُمُوهُ وَتَرَكْتُمُونِي لَضَلَلْتُمْ عَنْ سَوَاءِ السَّبِيلِ وَلَوْ كَانَ حَيًّا وَأَدْرَكَ نُبُوَّتِي لَاتَّبَعَنِي)

رَوَاهُ الدَّارمِيّ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

نُسْخَةٌ مِّنَ التَّوْرَاةِ এর অর্থ তাওয়াতের আরবী তরজমার কোন অংশ ও কতক পৃষ্ঠা। হযরত আবু বকর (রা) হযরত উমর (রা) কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অসন্তুষ্টি ও চেহারা মুবারকের ওপর এর প্রভাবের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে যে এই বাক্য বলেছেন تكلتك التواكل এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে 'ক্রন্দন কারীনীগণ তোমার প্রতি ক্রন্দন করুক'। যখন অসন্তুষ্টি প্রকাশের স্থলে এ বাক্য বলা হয় তখন এর অর্থ কেবলই অসন্তষ্টি প্রকাশ বুঝায়। শাব্দিক অর্থ উদ্দেশ্য হয় না। প্রত্যেক ভাষায়ই এরূপ পরিভাষা রয়েছে। আমাদের উর্দু ভাষায় মায়েরা তাদের সন্তানদেরকে শাসিয়ে مؤا বলেন, (যার শাব্দিক অর্থ মরে যাওয়া) উদ্দেশ্য কেবল অসন্তুষ্টি ও রাগ প্রকাশ করা।

হযরত উমর (রা)-এর এ কাজে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অসন্তুষ্টি ও বিরক্তির বিশেষ কারণ এই ছিল যে, এতে সন্দেহ সৃষ্টি হতে পারে, خاتم الكتب কুরআন মজীদ এবং خاتم الانبياء হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নির্দেশাবলির পরও তাওরাত বা কোন প্রাচীন পুস্তিকা থেকে আলো ও পথ প্রদশর্ন অর্জনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। অথচ কুরআন ও রাসূলুল্লাহ (সা) এর শিক্ষা আল্লাহর পরিচয় ও হিদায়াতের ব্যাপারে অন্য সব জিনিস থেকে অমুখাপেক্ষী করে দিয়েছে। পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ ও পূর্ববর্তী নবীগণের সহীফাসমূহে যে এরূপ বিষয়-বস্তু ও আহকাম ছিল যা মানুষের সর্বদা প্রয়োজন পড়বে, তা সব কুরআন মজীদে সংরক্ষিত করে দেওয়া হয়েছে, مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ - যা কুরআন মজীদের বৈশিষ্ট্য ও উদ্দেশ্য।
বস্তুত তাওরাত ও অন্যান্য পূর্ববর্তী সহীফাসমূহের যুগ শেষ হয়েছিল। কুরআন নাযিল ও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রেরণের পর নাজাত ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন তাঁরই আনুগত্যের ওপর সীমাবদ্ধ। এ সত্যকে প্রকাশ করার জন্য তিনি শপথ করে বললেন, যদি ধরে নেওয়া হয়, তাওরাতের অধিকারী মূসা (আ) জীবিত হয়ে এ জগতে তোমাদের সামনে এসেছেন, আর আমাকে ও আমার আনীত হিদায়াত ও তালিম ছেড়ে তোমরা তাঁর অনুসরণ কর তবে তোমরা পথ প্রাপ্ত হবে না। বরং গোমরাহ্ ও সত্য পথ হতে দূর হয়ে যাবে। এ মূল তথ্যের ওপর আরো অধিক আলোকপাত করে তিনি বলেন, যদি আজ হযরত মুসা (আ) জীবিত থাকতেন, আর আমার নবুওত ও রিসালাতের এ যুগ পেতেন তবে স্বয়ং তিনিও এই এলাহী হিদায়াত এবং এই শরী'আতের আনুগত্য করতেন যা আমার মাধ্যমে আল্লাহ্ তা'আলার নিকট থেকে এসেছে। এভাবে আমার অনুকরণ ও অনুসরণ করতেন। হযরত উমর (রা) যেহেতু তাঁর বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত সাহাবীগণের মধ্যে ছিলেন এজন্য তাঁর এই সামান্য স্খলনও হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম-এর জন্য অসন্তুষ্টির কারণ হয়েছিল।
جن کے رتبے میں سوا ان کو سوا مشکل ھے
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান