মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

৪- পাক-পবিত্রতার অধ্যায়

হাদীস নং: ২৮৭
- পাক-পবিত্রতার অধ্যায়
প্রথম অনুচ্ছেদ
২৮৭। হযরত উসমান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, একবার তিনি এইভাবে অজু করলেন, তিনবার তাঁর হাতের কব্জির উপর উত্তমরূপে পানি ঢাললেন, তারপর কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিলেন, অতঃপর মুখমণ্ডল তিনবার ধৌত করলেন। তারপর তিনবার ডানহাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করলেন। তারপর তিনবার বামহাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করলেন। তারপর মাথা মাসেহ করলেন। তারপর তিনবার ডান পা ধৌত করলেন। এইভাবে তিনবার বাম পা ধৌত করলেন। অতঃপর বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আমার এই অঞ্জুর ন্যায় অজু করতে দেখেছি। (এইরূপ অজু করে) তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যে ব্যক্তি আমার এই অজুর ন্যায় অজু করবে, তারপর আল্লাহর ধ্যানসহ দুই রাকাত নামায আদায় করবে। অপর কোন বিষয় মনে স্থান দিবে না। এতে তার পূর্বেকার গুনাহ মার্জনা করে দেয়া হবে। —বুখারী, মুসলিম
كتاب الطهارة
اَلْفَصْلُ الْلأَوَّلُ
وَعَنْهُ أَنَّهُ تَوَضَّأَ فَأَفْرَغَ عَلَى يَدَيْهِ ثَلَاثًا ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا ثُمَّ غَسَلَ يَدَهُ الْيُمْنَى إِلَى الْمِرْفَقِ ثَلَاثًا ثُمَّ غَسَلَ يَدَهُ الْيُسْرَى إِلَى الْمِرْفَقِ ثَلَاثًا ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَهُ الْيُمْنَى ثَلَاثًا ثُمَّ الْيُسْرَى ثَلَاثًا ثُمَّ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ قَالَ: «مَنْ تَوَضَّأَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ لَا يُحَدِّثُ نَفسه فيهمَا بِشَيْء إِلَّا غفر لَهُ مَا تقدم من ذَنبه» . وَلَفظه للْبُخَارِيّ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হযরত উসমান (রা) আলোচ্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উযূর যে নিয়ম কার্যত দেখালেন তাই মূলতঃ উযূর উত্তম সুন্নাত নিয়ম। নবী কারীম ﷺ কয়বার কুলি, মুখ এবং পানি দ্বারা নাক পরিষ্কার করেছিলেন, এ হাদীসে তার উল্লেখ নেই। কিন্তু অপরাপর বর্ণনা দ্বারা তিনবারের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

এ হাদীসে একাগ্রতা ও বিনয় নম্রতার সাথে যে দু'রাক'আত সালাত আদায়ের কথা বলা হয়েছে তা নফল সালাত নাও হতে পারে। কাজেই বলা যায়, কেউ যদি মাসনূন পদ্ধতিতে উযূ করে ফরয কিংবা সুন্নাত সালাত আদায় করে এবং তাতে পূর্ণ একাগ্রতা থাকে সেও আল্লাহ্ চাহেত প্রতিশ্রুত মাগফিরাত লাভে ধন্য হবে।

হাদীস ভাষ্যকার ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিবর্গের মতে, মনে যদি এদিক সেদিকের খেয়াল চেপে বসে তবে তাই হচ্ছে বিক্ষিপ্ত চিন্তা। কিন্তু যদি কোন খেয়াল অন্তরে বদ্ধমূল না হয় এবং তা দূরীকরণের চেষ্টা করা হয় তবে কোন ক্ষতি নেই। কারণ এসব বিষয় কামিল মু'মিনদের সামনেও ভেসে ওঠে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)