মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

৪- পাক-পবিত্রতার অধ্যায়

হাদীস নং: ২৮৯
- পাক-পবিত্রতার অধ্যায়
প্রথম অনুচ্ছেদ
২৮৯। হযরত উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অজু করবে এবং উত্তমরূপে অথবা বলেছেন, পরিপূর্ণরূপে করবে। তারপর বলবে, “আশহাদু আললা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসূলুহু” অর্থাৎ আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন উপাস্য নাই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। বর্ণনাস্তরে রয়েছে, "আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসূলুহু” অর্থাৎ আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন উপাস্য নাই, তিনি একক, তাঁর কোন অংশীদার নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিতেছি যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল। তাঁর জন্য বেহেশতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হবে। সেগুলোর যে কোন একটি দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে। ইমাম মুসলিম (রহ) তার ছহীহ কিতাবে এরূপ বর্ণনা করেছেন। আর হুমাইদী আফরাদে মুসলিম গ্রন্থে এবং ইবনুল আসীর জামেউল উছূল গ্রন্থে ঐরূপ বর্ণনা করেছেন এবং শায়খ মুহীউদ্দীন নববী মুসলিম-এর হাদীসের শেষে আমার বর্ণনার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ইমাম তিরমিযী (রহ) বাড়িয়ে বলেছেন, আল্লাহুম্মাজ 'আলনী মিনাত্তাওওয়াবীনা ওয়াজ আলনী মিনাল মুতাত্বাহহিরীন” অর্থাৎ হে আল্লাহ্! আমাকে তাওবাহকারীদের অন্তর্ভুক্ত কর এবং আমাকে পবিত্রতা অবলম্বনকারীদের অন্তর্ভুক্ত কর। মুহীউস সুন্নায় সেই হাদীস বর্ণনা করেছেন- 'যে ব্যক্তি অজু করল এবং তা উত্তমরূপে করল' শুরু হতে শেষ পর্যন্ত ।
كتاب الطهارة
اَلْفَصْلُ الْلأَوَّلُ
وَعَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ يَتَوَضَّأُ فَيُبْلِغُ أَوْ فَيُسْبِغُ الْوُضُوءَ ثُمَّ يَقُولُ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَفِي رِوَايَةٍ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ إِلَّا فُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ الثَّمَانِيَةُ يَدْخُلُ مِنْ أَيِّهَا شَاءَ . هَكَذَا رَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي صَحِيحِهِ وَالْحُمَيْدِيُّ فِي أَفْرَاد مُسلم وَكَذَا ابْن الْأَثِير فِي جَامع الْأُصُول

وَذكر الشَّيْخ مُحي الدِّينِ النَّوَوِيُّ فِي آخِرِ حَدِيثِ مُسْلِمٍ عَلَى مَا روينَاهُ وَزَاد التِّرْمِذِيّ: «الله اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ وَاجْعَلْنِي مِنَ الْمُتَطَهِّرِينَ» وَالْحَدِيثُ الَّذِي رَوَاهُ مُحْيِي السُّنَّةِ فِي الصِّحَاحِ: «مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ» إِلَى آخِرِهِ رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ فِي جَامِعِهِ بِعَيْنِهِ إِلَّا كَلِمَةَ «أَشْهَدُ» قَبْلَ «أَن مُحَمَّدًا»

হাদীসের ব্যাখ্যা:

উযূ করায় সাধারণত বাহ্যিক অঙ্গ প্রত্যঙ্গ পরিচ্ছন্ন হয়। তাই মু'মিন ব্যক্তি যখন উযূ করে তখন সে মূলতঃ আল্লাহর নির্দেশ পালন করে এবং বাহ্যিক পবিত্রতা অর্জন করে। কিন্তু প্রকৃত আবর্জনা ও মালিন্য হচ্ছে ঈমানের দুর্বলতা, নিষ্ঠার ঘাটতি এবং মন্দ কাজের জঞ্জাল। এ অনুভূতিকে সামনে রেখে ঈমানকে নতুন করার লক্ষ্যে, আল্লাহর ইবাদতে নিষ্ঠার পরিচয় দিতে এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ এর পূর্ণ অনুসরণ করতে কালেমা শাহাদাত পাঠ করে যেন নতুন করে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়। এর ফলে আল্লাহর পক্ষ থেকে পাঠকের জন্য মাগফিরাতের পূর্ণ ফয়সালা হয়ে যায়। তাই হাদীসে বলা হয়েছে যে, তার জন্য জান্নাতের সকল দরজা উন্মুক্ত।

ইমাম মুসলিম (র) অন্যত্র কালেমা শাহাদাতের নিম্নোক্ত শব্দগুচ্ছও বর্ণনা করেছেন- أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই। তিনি একক তাঁর কোন অংশীদার নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।"
ইমাম তিরমিযী (র) এ হাদীস বর্ণনায় নিম্নোক্ত শব্দগুচ্ছও উল্লেখ করেছেন: اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ وَجَعَلْنِي مِنَ الْمُتَطَهِّرِينَ "হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে তাওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত কর এবং আমাকে পবিত্রতা অবলম্বনকারীদের মধ্যে শামিল কর।"
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)