মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
৫- নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ৬৭৪
- নামাযের অধ্যায়
৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - আযানের ফযীলত ও মুয়াযযিনের উত্তর দান
৬৭৪। হযরত জাবের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি নবী পাক (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, শয়তান যখন নামাযের আযান শুনে তখন সে দৌড়ে পালাতে থাকে যে পর্যন্ত না সে রাওহায় পৌঁছে। রাবী বলেন, রাওহা মদীনা হতে ছত্রিশ মাইল দূরে অবস্থিত। -মুসলিম
كتاب الصلاة
عَنْ جَابِرٍ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ الشَّيْطَانَ إِذَا سَمِعَ النِّدَاءَ بِالصَّلَاةِ ذَهَبَ حَتَّى يَكُونَ مَكَانَ الرَّوْحَاءِ» . رَوَاهُ مُسلم
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আল্লাহর সৃষ্টিকুলে এমন অনেক সৃষ্টি রয়েছে যার একটি অপরটির জন্য অসহনীয় ও প্রতিপক্ষ। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে- অন্ধকারের কাজে সূর্য অসহ্য। কাজেই সূর্যের আলো ভেসে উঠে তখন সাথে সাথে অন্ধকার দূরীভূত হয়ে যায়। অনুরূপভাবে শীতের কাছে গরমের খরতাপ অসহনীয়। কারণ যেখানে আগুন জ্বালান হয় সেখান থেকে শীত বিদায় নেয়। ঠিক তদ্রূপ হয় আযান শুনার পর শয়তানের অবস্থা। রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বাণীর মর্ম এটাই। কারণ শয়তান যখনই আযানের শব্দ শুনতে পায় তখন আলায়ে মদীনা থেকে পালিয়ে রাওহা নামক স্থানে চলে যায়। হযরত জাবির (রা) থেকে এই হাদীস বর্ণনাকারী তালহা ইবনে নাফি বলেন, মদীনা থেকে রাওহার দূরত্ব হল ছত্রিশ মাইল। আযানে তাওহীদ ও ঈমানের সূর ধ্বনিত হয় এবং আযান শুনে আল্লাহর প্রিয় বান্দারা মসজিদে আসে- এই হচ্ছে আযানের মূল প্রাণশক্তি। পক্ষান্তরে অভিশপ্ত শয়তানের জন্য বোমার আঘাতস্বরূপ। মু'আযযিন যখন আযান শুরু করে তখন শয়তান ঐভাবে পালিয়ে যায় যেভাবে আলোর উপস্থিতিতে অন্ধকার পালায়। আল্লাহ্ তা'আলা সর্বজ্ঞ।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)