মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

৫- নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ৯২১
- নামাযের অধ্যায়
১৬. প্রথম অনুচ্ছেদ - নাবী (ﷺ)-এর ওপর দরূদ পাঠ ও তার মর্যাদা
৯২১। হযরত আবু হুরায়রাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করবে, আল্লাহ্ পাক তারা উপর দশবার রহমত নাযিল করবেন। -মুসলিম
كتاب الصلاة
بَابُ الصَّلَوةِ عَلَى النَّبِىِّ ﷺ وَفَضْلِهَا
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ صَلَّى عَلَيَّ وَاحِدَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عشرا» . رَوَاهُ مُسلم

হাদীসের ব্যাখ্যা:

উপরে বলা হয়েছে যে, সালাত অত্যন্ত ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ। আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মর্যাদা বৃদ্ধি ও বিশেষ দানকে যেমন সালাত বলা হয়ে থাকে, তেমনি ঈমানদার বান্দাদের প্রতি সাধারণভাবে তাঁর যে রহমত ও করুণা বর্ষিত হয়ে থাকে, তার জন্যেও সালাত শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ জন্যে হাদীসে ঐ রহমত ও দানের ব্যাপারেও সালাত শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে-যা দরূদ ও সালামের বিনিময়ে মু'মিন বান্দাদের প্রতি বর্ষিত হয়ে থাকে। বলা হয়েছে : صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ عَشْرًا অর্থাৎ আল্লাহ তার প্রতি দশবার সালাত বর্ষণ করেন। বলাবাহুল্য, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি আল্লাহর যে সালাত, অন্য যে কারো প্রতি বর্ষিত সালাতের তুলনায় এ দুই সালাতের পার্থক্য ততটুকুই হবে, যতটুকু পার্থক্য রয়েছে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ ﷺ এবং ঐ মু'মিন বান্দার মর্যাদার মধ্যে।

পরবর্তী কোন কোন হাদীসের দ্বারা জানা যাবে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি আমাদের বান্দাদের সালাত প্রেরণের অর্থ হবে আল্লাহ তা'আলার নিকট সালাত প্রেরণের দু'আ করা।

এটাও বলার অপেক্ষা রাখে না যে, একটি হাকীকত বা ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করাই কেবল এ হাদীসের উদ্দেশ্য নয়; বরং ঐ মুবারক ও বরকতপূর্ণ আমল (অর্থাৎ নবীর প্রতি দরূদ)-এর প্রতি উৎসাহিত করাই এর উদ্দেশ্য- যা আল্লাহ তা'আলার সালাত, তখন তাঁর খাস রহমত হাসিল করা এবং স্বয়ং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর রূহানী নৈকট্য লাভে ধন্য হওয়ার ওসীলাস্বরূপ।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)