মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
৬- জানাযা-কাফন-দাফনের অধ্যায়
হাদীস নং: ১৬০৯
- জানাযা-কাফন-দাফনের অধ্যায়
২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত্যু কামনা ও মৃত্যুকে স্মরণ করা
১৬০৯। হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ মৃত্যু হইল মু'মিনের তোফা। – বায়হাকী শোআবুল ঈমানে
كتاب الجنائز
وَعَن عبد الله بن عَمْرو قَالَ ك قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تُحْفَةُ الْمُؤْمِنِ الْمَوْتُ» . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَان
হাদীসের ব্যাখ্যা:
উপরে একথা বর্ণিত হয়েছে যে, সহজাত কারণেই মানুষের কাছে মৃত্যু প্রিয় বস্তু নয়। কিন্তু আল্লাহর যে সকল বান্দা ঈমানরূপী দৌলত ধন্য হয়েছে। সে মৃত্যু পরবর্তী জীবনে বিশেষ পুরস্কার লাভের আশায় অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষা করতে থাকে এবং সংগত কারণেই মৃত্যুর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। ঠিক একইভাবে সহজাত কারণে মানুষ চোখে অস্ত্রোপচার করাতে আগ্রহী নয়। কিন্তু যখন তার হৃদয়ে এই বিশ্বাস জন্মে যে, তার চোখে আলো ফিরে আসবে তখন সে তা (অস্ত্রোপচার) করার জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠে এবং ডাক্তারকে দেখিয়ে চোখে অস্ত্রোপচার করতে যায়।
এখানে পার্থক্য শুধু এতটুকু যে, আস্ত্রোপচারের ফলে চোখের জ্যোতি ফিরে আসার ব্যাপারটি সুনিশ্চিত নয়। কারণ কখনো কখনো অস্ত্রোপচার ব্যর্থও হয়। কিন্তু মু'মিন ব্যক্তি মৃত্যুর পর আল্লাহর কাছ থেকে বিপুল পুরস্কারে ভূষিত হওয়া এবং তার দীদার লাভের বিষয়টি একান্তভাবেই সুনিশ্চিত। এ দৃষ্টিকোণ থেকে মু'মিন ব্যক্তির মৃত্যু উপহার স্বরূপ।
এবিষয়টি ভালভাবে বুঝে নেয়ার জন্য আরো একটি দৃষ্টান্ত পেশ করা যেতে পারে। প্রত্যেক মেয়ের জন্য বিবাহ পরবর্তী জীবনের পিতা-মাতার ঘর ছেড়ে স্বামীর ঘরে চলে যাওয়ার বিষয়টি একারণে অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক যে, সে পিতা-মাতার স্নেহে-মমতা থেকে বঞ্চিত হয়ে তাদের পরিবেশ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যত জীবন অপরিচিত পরিবেশ ও লোকজনের মধ্যে ঘর বাধতে যাচ্ছে। কিন্তু বিবাহের মাধ্যমে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সুখশান্তি অর্জনের লক্ষ্যে সন্দেহাতীতভাবে বিবাহের জন্য তার মনে প্রবল আগ্রহও থাকে। বিশুদ্ধ ঈমানের অধিকারী ব্যক্তির সাথে আল্লাহর সম্পর্কের বিষয়টিও ঠিক একই ধরনের। কারণ মৃত্যুর পর সে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ, নৈকট্য লাভ ইত্যাকার কারণে মৃত্যুর প্রতি তার প্রবল আগ্রহ ও ঝোঁক পরিলক্ষিত হয়।
এখানে পার্থক্য শুধু এতটুকু যে, আস্ত্রোপচারের ফলে চোখের জ্যোতি ফিরে আসার ব্যাপারটি সুনিশ্চিত নয়। কারণ কখনো কখনো অস্ত্রোপচার ব্যর্থও হয়। কিন্তু মু'মিন ব্যক্তি মৃত্যুর পর আল্লাহর কাছ থেকে বিপুল পুরস্কারে ভূষিত হওয়া এবং তার দীদার লাভের বিষয়টি একান্তভাবেই সুনিশ্চিত। এ দৃষ্টিকোণ থেকে মু'মিন ব্যক্তির মৃত্যু উপহার স্বরূপ।
এবিষয়টি ভালভাবে বুঝে নেয়ার জন্য আরো একটি দৃষ্টান্ত পেশ করা যেতে পারে। প্রত্যেক মেয়ের জন্য বিবাহ পরবর্তী জীবনের পিতা-মাতার ঘর ছেড়ে স্বামীর ঘরে চলে যাওয়ার বিষয়টি একারণে অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক যে, সে পিতা-মাতার স্নেহে-মমতা থেকে বঞ্চিত হয়ে তাদের পরিবেশ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যত জীবন অপরিচিত পরিবেশ ও লোকজনের মধ্যে ঘর বাধতে যাচ্ছে। কিন্তু বিবাহের মাধ্যমে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সুখশান্তি অর্জনের লক্ষ্যে সন্দেহাতীতভাবে বিবাহের জন্য তার মনে প্রবল আগ্রহও থাকে। বিশুদ্ধ ঈমানের অধিকারী ব্যক্তির সাথে আল্লাহর সম্পর্কের বিষয়টিও ঠিক একই ধরনের। কারণ মৃত্যুর পর সে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ, নৈকট্য লাভ ইত্যাকার কারণে মৃত্যুর প্রতি তার প্রবল আগ্রহ ও ঝোঁক পরিলক্ষিত হয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)