মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

৭- যাকাতের অধ্যায়

হাদীস নং: ১৮১০
- যাকাতের অধ্যায়
১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যেসব জিনিসের যাকাত দিতে হয়
১৮১০। হযরত উম্মে সালামা্ (রাঃ) বলেন, আমি স্বর্ণের 'আওযাহ' (গহনা বিশেষ) পরিতাম। একদা আমি হুযূরকে জিজ্ঞাসা করিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ইহা কি সেই কানযের অন্তর্গত (যাহার বিষয় কুরআনে ভয় প্রদর্শন করা হইয়াছে)? হুযূর বলিলেনঃ যাহা যাকাত দানের পরিমাণে পৌঁছে এবং উহার যাকাত দেওয়া হয়, তাহা সেই কানয নহে। —মালেক ও আবু দাউদ। (ইহাতে গহনায় যাকাত আছে বলিয়া বুঝা যায়। )
كتاب الزكاة
وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ: كُنْتُ أَلْبَسُ أَوْضَاحًا مِنْ ذَهَبٍ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَكَنْزٌ هُوَ؟ فَقَالَ: «مَا بلغ أَن يُؤدى زَكَاتُهُ فَزُكِّيَ فَلَيْسَ بِكَنْزٍ» . رَوَاهُ مَالِكٌ وَأَبُو دَاوُد

হাদীসের ব্যাখ্যা:

১. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযি. থেকে বর্ণিত, এক মহিলা তার এক মেয়েকে নিয়ে নবী করীম (ﷺ) এর দরবারে আসল। তার মেয়েটির হাতে দু'টি মোটা ও ভারী চুড়ি ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি কি এর যাকাত আদায় কর? উত্তরে সে বলল, না। তিনি তখন বললেন: তোমার কি এটা ভাল লাগবে যে, এ দু'টির (যাকাত আদায় না করার) কারণে আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন তোমাকে আগুনের দু'টি চুড়ি পরিয়ে দেন? এ কথা শুনে সে চুড়ি দু'টি খুলে ফেলল এবং নবী করীম (ﷺ) এর সামনে রেখে দিয়ে বলল, এগুলো এখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য। -আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ্

২. হযরত উম্মে সালামা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সোনার আওযাহ (এক বিশেষ ধরনের বালা) পরতাম। তাই আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ। এটা কি কানযের অন্তর্ভুক্ত? (যার উপর জাহান্নামের আযাবের ধমকি এসেছে।) তিনি উত্তর দিলেন: যে মাল যাকাতের নেসাব পর্যন্ত পৌঁছে যায়, আর এর যাকাত আদায় করে দেওয়া হয়, এটা কানয (অন্যায় সঞ্চয় নয়।) -মুয়াত্তা মালেক, আবু দাউদ

এসব হাদীসের ভিত্তিতেই ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) বলেন যে, সোনা-রূপার অলংকার যদি নেসাব পরিমাণ হয়, তাহলে এগুলোর যাকাত দিতে হবে। তবে ইমাম মালেক, শাফেয়ী ও আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহঃ)-এর নিকট অলংকারাদিতে যাকাত কেবল তখনই ফরয- যখন এগুলো ব্যবসার জন্য রাখা হয় অথবা মালকে সংরক্ষণ করার জন্য তৈরী করা হয়ে থাকে। কিন্তু যেসব অলংকার কেবল ব্যবহার ও সাজ-সজ্জার জন্য থাকে, এ তিন ইমামের মতে এগুলোর উপর যাকাত নেই।

এ মাসআলাটিতে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যেও মতবিরোধ ছিল। তবে হাদীস দ্বারা ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ)-এর মতের সপক্ষেই বেশী সমর্থন পাওয়া যায়। এ জন্যই শাফেয়ী মাযহাবের বিজ্ঞ আলেমগণও এ মাসআলায় হানাফী মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। যেমন, তফসীরে কবীরে ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী (রহঃ) এ নীতিই অবলম্বন করেছেন এবং লিখেছেন যে, প্রকাশ্য দলীলসমূহ এ মতকেই অধিক শক্তি যোগায়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান