মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
৭- যাকাতের অধ্যায়
হাদীস নং: ১৯০২
- যাকাতের অধ্যায়
৬. প্রথম অনুচ্ছেদ - সদাক্বার মর্যাদা
১৯০২। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লা বলিয়াছেনঃ একটি বেশ্যা স্ত্রীলোককে মাফ করিয়া দেওয়া হয় যে একটি কূপের পাড়ে অবস্থিত একটি কুকুরের নিকট দিয়া যাইতে দেখিল, কুকুরটি ছাপাইতেছে এবং পিপাসায় মারা যাইবার উপক্রম হইয়াছে। ইহা দেখিয়া সে নিজের মোজা খুলিয়া মাথার উড়নীতে বাঁধিল, অতঃপর কুকুরটির জন্য পানি উঠাইল। ইহার ফলে তাহাকে মাফ করিয়া দেওয়া হইল। এসময় হুয়ূরকে জিজ্ঞাসা করা হইল, হুযুর! পশুর সেবায়ও কি আমাদের জন্য সওয়াব রহিয়াছে? তিনি বলিলেন, প্রত্যেক প্রাণীর সেবায়ই সওয়াব রহিয়াছে। মোত্তাঃ
كتاب الزكاة
بَابُ فَضْلِ الصَّدَقَةِ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «غُفِرَ لِامْرَأَةٍ مُومِسَةٍ مَرَّتْ بِكَلْبٍ عَلَى رَأْسِ رَكِيٍّ يَلْهَثُ كَادَ يَقْتُلُهُ الْعَطَشُ فَنَزَعَتْ خُفَّهَا فَأَوْثَقَتْهُ بِخِمَارِهَا فَنَزَعَتْ لَهُ مِنَ الْمَاءِ فَغُفِرَ لَهَا بِذَلِكَ» . قِيلَ: إِنَّ لَنَا فِي الْبَهَائِمِ أَجْرًا؟ قَالَ: «فِي كُلِّ ذَاتِ كبد رطبَة أجر»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১. ইহাতে বুঝা গেল যে, মানুষ বা কোন প্রাণীর সেবাও দানেরই অন্তর্গত।
২. ছোট বড় প্রত্যেক কাজে সওয়াব রয়েছে। ইতর প্রাণীর প্রতি দয়া প্রদর্শন করার মধ্যেও সওয়াব রয়েছে। কিন্তু সওয়াবের পরিমাণ প্রত্যেক কাজের গুরুত্বের উপর নির্ভর করে। স্বাভাবিক অবস্থায় সম্পাদিত কাজের জন্য যে সওয়াব রয়েছে, অস্বাভাবিক অবস্থায় সম্পাদিত একই কাজের তার চেয়ে বেশি সওয়াব রয়েছে। যে সৎকর্মের পেছনে আন্তরিকতা বেশি, তার জন্য আল্লাহর কাছে সওয়াবও বেশি। স্বাভাবিক অবস্থায় পশুপাখিকে পানি দান করলে সাধারণ সওয়াব পাওয়া যাবে: কিন্তু অস্বাভাবিক অবস্থায় কোন প্রাণীকে নিজের আরাম-আয়েশ ত্যাগ করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোন সাহায্য করলে তার মূল্য অনেক বেশি হবে। আল্লাহ এ ধরনের বান্দার কাজের পূর্ণ স্বীকৃতি দেন এবং তার গুনাহ মাফ করে তাকে বুলন্দ মরতবা দান করেন। অবশ্য সৎকর্মশীল ব্যক্তির ঈমান থাকতে হবে। অন্যথায় সে আখিরাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত থাকবে।
২. ছোট বড় প্রত্যেক কাজে সওয়াব রয়েছে। ইতর প্রাণীর প্রতি দয়া প্রদর্শন করার মধ্যেও সওয়াব রয়েছে। কিন্তু সওয়াবের পরিমাণ প্রত্যেক কাজের গুরুত্বের উপর নির্ভর করে। স্বাভাবিক অবস্থায় সম্পাদিত কাজের জন্য যে সওয়াব রয়েছে, অস্বাভাবিক অবস্থায় সম্পাদিত একই কাজের তার চেয়ে বেশি সওয়াব রয়েছে। যে সৎকর্মের পেছনে আন্তরিকতা বেশি, তার জন্য আল্লাহর কাছে সওয়াবও বেশি। স্বাভাবিক অবস্থায় পশুপাখিকে পানি দান করলে সাধারণ সওয়াব পাওয়া যাবে: কিন্তু অস্বাভাবিক অবস্থায় কোন প্রাণীকে নিজের আরাম-আয়েশ ত্যাগ করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোন সাহায্য করলে তার মূল্য অনেক বেশি হবে। আল্লাহ এ ধরনের বান্দার কাজের পূর্ণ স্বীকৃতি দেন এবং তার গুনাহ মাফ করে তাকে বুলন্দ মরতবা দান করেন। অবশ্য সৎকর্মশীল ব্যক্তির ঈমান থাকতে হবে। অন্যথায় সে আখিরাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত থাকবে।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)