মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

৮- রোযার অধ্যায়

হাদীস নং: ২১০২
- রোযার অধ্যায়
৯. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ইতিকাফ
২১০২। হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ﷺ) প্রত্যেক রমযানের শেষ দশক এ'তেকাফ করিতেন; কিন্তু এক বৎসর তিনি তাহা করিতে পারিলেন না। অতঃপর যখন পরবর্তী বৎসর আসিল, তিনি বিশ দিন এ'তেকাফ করিলেন। —তিরমিযী।
كتاب الصوم
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْتَكِفُ فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ فَلَمْ يَعْتَكِفْ عَامًا. فَلَمَّا كَانَ الْعَامُ الْمقبل اعْتكف عشْرين. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

১. ইহাতে বাহ্যত বুঝা যায় যে, এ'তেকাফ করা ওয়াজিব। কিন্তু হুযূর কখনও যোহরের সুন্নতেরও কাযা করিতেন। অতএব, আমরা এ'তেকাফকে সুন্নত বলি।

২. হযরত আনাস রাযি.-এর এ হাদীসে এ কথার কোন উল্লেখ নেই যে, এক বছর ইতিকাফ না করতে পারার কারণ কি ছিল। তবে নাসায়ী ও আবু দাউদ শরীফে হযরত উবাই ইবনে কা'ব রাযি. থেকে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে, যেখানে এর স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, এক বছর রমযানের শেষ দশকে হুযুর (ﷺ)-কে কোন এক সফরে যেতে হয়েছিল। এ কারণে তিনি ইতিকাফ করতে পারেন নি। তাই পরের বছর তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করেছিলেন।

বুখারী শরীফে হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, যে বছর হুযুর (ﷺ) ইন্তিকাল করেন, সে বছরও তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করেছিলেন। এ বিশ দিনের ইতিকাফ সম্ভবত এ কারণে ছিল যে, তিনি ইঙ্গিতে জানতে পেরেছিলেন যে, অচিরেই তাঁকে এ দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নেওয়া হবে। এ জন্য ইতিকাফের মত আমলের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যাওয়া সম্পূর্ণ স্বভাবজাত ব্যাপার ছিল। কেননা, মিলনের প্রতিশ্রুতি যখন নিকটে এসে যায়, তখন হৃদয়ের উত্তাপও তীব্রতর হয়ে উঠে।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান