মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
৯- কুরআনের ফাযাঈল অধ্যায়
হাদীস নং: ২১২২
- কুরআনের ফাযাঈল অধ্যায়
প্রথম অনুচ্ছেদ
২১২২। হযরত উবাই ইবনে কা'ব (রাঃ) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলিলেন : আবুল মুনযের, বলিতে পার কি তোমার জানা আল্লাহর কিতাবের কোন্ আয়াতটি শ্রেষ্ঠতর ? আমি বলিলাম, আল্লাহ্ ও তাঁহার রাসূলই ভাল জানেন। তিনি আবার বলিলেন, হে আবুল মুনযের! তুমি বলিতে পার কি তোমার জানা আল্লাহর কিতাবের কোন্ আয়াতটি শ্রেষ্ঠতর? এবার আমি বলিলাম, “আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যূম।” উবাই বলেন, এ সময় হুযূর (ছাঃ) আমার সিনায় হাত মারিয়া বলিলেন, জ্ঞান তোমাকে মোবারক হউক হে আবুল মুনযের! – মুসলিম
كتاب فضائل القرآن
وَعَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا أَبَا الْمُنْذِرِ أَتَدْرِي أَيُّ آيَةٍ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ مَعَك أعظم؟» . قَالَ: قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ: «يَا أَبَا الْمُنْذِرِ أَتَدْرِي أَيُّ آيَةٍ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ مَعَك أعظم؟» . قَالَ: قُلْتُ (اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ القيوم)
قَالَ فَضرب فِي صَدْرِي وَقَالَ: «وَالله لِيَهنك الْعلم أَبَا الْمُنْذر» . رَوَاهُ مُسلم
قَالَ فَضرب فِي صَدْرِي وَقَالَ: «وَالله لِيَهنك الْعلم أَبَا الْمُنْذر» . رَوَاهُ مُسلم
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১. সূরাসমূহের মধ্যে সূরা ফাতেহাই হইল শ্রেষ্ঠতর সূরা। আয়াতসমূহের মধ্যে আয়াতুল কুরসীই হইল শ্রেষ্ঠতর আয়াত। আর উহা হইল, 'আল্লাহু লা ইলাহা' হইতে 'আলিয়্যুল আযীম' পর্যন্ত। তৃতীয় পারা (তিলকার রুসুলু) ২য় রুকূ।
২. হযরত উবাই ইব্ন কা'আব (রা) রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রশ্নের জবাবে প্রথম বার বলেছেন اللّٰهُ وَرَسُوْلهُ أَعْلَمُ (আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই সর্বাধিক জ্ঞাত যে, কোন্ আয়াতটি কিতাবুল্লাহর মধ্যে সর্বাধিক মাহাত্ম্যপূর্ণ)। এ জবাবটি ছিল আদবের চাহিদা সম্মত। কিন্তু যখন তিনি দ্বিতীয়বার ঐ একই প্রশ্ন করলেন তখন উবাই ইব্ন কা'আব (রা) নিজের বিদ্যা-বুদ্ধি অনুযায়ী জবাব দিলেন যে, আমার ধারণা মতে তো اللّٰهُ لا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ অর্থাৎ আয়াতুল কুরসীই হচ্ছে কুরআনুল করীমের সর্বাধিক মাহাত্ম্যপূর্ণ আয়াত। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর জবাব অনুমোদন করেন এবং এজন্যে তাঁকে সাবাস দেন এবং এই সাবাস দিতে গিয়ে তিনি সম্ভবত এজন্যেই তাঁর বুক চাপড়ালেন যে, কালব (যা ইলম ও মা'রিফতের ধারণ স্থল) বুকের মধ্যেই নিহিত থাকে।
মোট কথা, এ হাদীস দ্বারা জানা গেল যে, কুরআনী আয়াতসমূহের মধ্যে আয়াতুল কুরসীই সর্বাধিক মাহাত্ম্যপূর্ণ আয়াত আর তা এ জন্যে যে, তাতে আল্লাহ তা'আলার একত্ববাদ, পবিত্রতা, কামালিয়াত ও উচ্চ মর্যাদার যে বর্ণনা রয়েছে, তা এক কথায় অনন্য ও অতুলনীয়।
২. হযরত উবাই ইব্ন কা'আব (রা) রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রশ্নের জবাবে প্রথম বার বলেছেন اللّٰهُ وَرَسُوْلهُ أَعْلَمُ (আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই সর্বাধিক জ্ঞাত যে, কোন্ আয়াতটি কিতাবুল্লাহর মধ্যে সর্বাধিক মাহাত্ম্যপূর্ণ)। এ জবাবটি ছিল আদবের চাহিদা সম্মত। কিন্তু যখন তিনি দ্বিতীয়বার ঐ একই প্রশ্ন করলেন তখন উবাই ইব্ন কা'আব (রা) নিজের বিদ্যা-বুদ্ধি অনুযায়ী জবাব দিলেন যে, আমার ধারণা মতে তো اللّٰهُ لا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ অর্থাৎ আয়াতুল কুরসীই হচ্ছে কুরআনুল করীমের সর্বাধিক মাহাত্ম্যপূর্ণ আয়াত। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর জবাব অনুমোদন করেন এবং এজন্যে তাঁকে সাবাস দেন এবং এই সাবাস দিতে গিয়ে তিনি সম্ভবত এজন্যেই তাঁর বুক চাপড়ালেন যে, কালব (যা ইলম ও মা'রিফতের ধারণ স্থল) বুকের মধ্যেই নিহিত থাকে।
মোট কথা, এ হাদীস দ্বারা জানা গেল যে, কুরআনী আয়াতসমূহের মধ্যে আয়াতুল কুরসীই সর্বাধিক মাহাত্ম্যপূর্ণ আয়াত আর তা এ জন্যে যে, তাতে আল্লাহ তা'আলার একত্ববাদ, পবিত্রতা, কামালিয়াত ও উচ্চ মর্যাদার যে বর্ণনা রয়েছে, তা এক কথায় অনন্য ও অতুলনীয়।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)