মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
৯- কুরআনের ফাযাঈল অধ্যায়
হাদীস নং: ২১৩৬
- কুরআনের ফাযাঈল অধ্যায়
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২১৩৬। হযরত আবু সায়ীদ খুদরী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ কোরআন যাহাকে আমার যিকর ও আমার নিকট যাচ্ঞা করা হইতে বিরত রাখিয়াছে, আমি তাহাকে দান করিব যাজ্ঞাকারীদের অপক্ষা শ্রেষ্ঠ দান। (হুযুর (ﷺ) বলেন,) কেননা, আল্লাহর কালামের শ্রেষ্ঠত্ব অপর সকল কালামের উপর, যেমন, আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব তাঁহার সৃষ্টির উপর। —তিরমিযী ও দারেমী। আর বায়হাকী শো'আবুল ঈমানে। তিরমিযী বলিয়াছেন, হাদীসটি হাসান ও গরীব।
كتاب فضائل القرآن
اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَقُولُ الرَّبُّ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: مَنْ شَغَلَهُ الْقُرْآنُ عَنْ ذِكْرِي وَمَسْأَلَتِي أَعْطَيْتُهُ أَفْضَلَ مَا أُعْطِي السَّائِلِينَ. وَفَضْلُ كَلَامِ اللَّهِ عَلَى سَائِرِ الْكَلَامِ كَفَضْلِ اللَّهِ عَلَى خَلْقِهِ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَالدَّارِمِيُّ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَانِ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
যখন কোন হাদীসে রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ তা'আলার বরাতে কোন কথা বলেন অথচ তা' কুরআন মজীদে না থাকে, হাদীসের পরিভাষায় এরূপ হাদীসকে হাদীসে কুদসী বলা হয়ে থাকে। হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) বর্ণিত এ হাদীসও এধরনের হাদীসে কুদসী।
এ হাদীসে দু'টি কথা বলা হয়েছে:
এক. আল্লাহর যে বান্দা কুরআন নিয়ে এতই ব্যস্ত থাকে যে, দিন-রাত তার ঐ একটিই ব্যস্ততা অর্থাৎ কুরআনের তিলাওয়াত কুরআন মুখস্থ করা তার চিন্তা-গবেষণা বা পঠন-পাঠনে ইখলাসের সাথে মশগুল-বিভোর থাকে যে, কুরআনের এ চর্চা বন্ধ করে সে আল্লাহর হামদ-তসবীহ করার বা তাঁর দরবারে দু'আ করার পর্যন্ত অবসর করে উঠতে পারে না, সে যেন মনে না করে যে, তার বিরাট ক্ষতি হয়ে গেল। কেননা, আল্লাহর তাআ'লা যিকরকারী ও যাচ্ঞাকারীকে যা দান করবেন তার চেয়ে অনেকগুণ উত্তম তাকে দান করবেন। অন্য কথায়, সে আল্লাহর দরবার থেকে যে মহাদান লাভ করবে, যিকরকারী ও যাচ্ঞাকারীরা তা কল্পনাও করতে পারবে না। রাসূলূল্লাহ ﷺ বলেন, এটা আল্লাহর তা'আলার অকাট্য ফয়সালা, আমি আমার এমন বান্দাকে তা থেকে অধিক ও উত্তম দান করবো, যা আমি কোন যিকিরকারী ও যাচ্ঞাকারীকে দান করে থাকি।
দ্বিতীয় যে কথাটি এ হাদীসে বিবৃত হয়েছে তা হলো, আল্লাহর কালাম অন্যদের কালাম থেকে ঠিক তেমনি মর্যাদাপূর্ণ, যেমন মর্যাদাপূর্ণ স্বয়ং তিনি তাঁর সমগ্র সৃষ্টিকুলের তুলনায়। আর তার কারণও এটাই যে, কুরআন আল্লাহ তা'আলার কালাম এবং তাঁর অবিচ্ছিন্ন গুণ বিশেষ, যা' তাঁরই সত্তার মত অবিনশ্বর।
এ হাদীসে দু'টি কথা বলা হয়েছে:
এক. আল্লাহর যে বান্দা কুরআন নিয়ে এতই ব্যস্ত থাকে যে, দিন-রাত তার ঐ একটিই ব্যস্ততা অর্থাৎ কুরআনের তিলাওয়াত কুরআন মুখস্থ করা তার চিন্তা-গবেষণা বা পঠন-পাঠনে ইখলাসের সাথে মশগুল-বিভোর থাকে যে, কুরআনের এ চর্চা বন্ধ করে সে আল্লাহর হামদ-তসবীহ করার বা তাঁর দরবারে দু'আ করার পর্যন্ত অবসর করে উঠতে পারে না, সে যেন মনে না করে যে, তার বিরাট ক্ষতি হয়ে গেল। কেননা, আল্লাহর তাআ'লা যিকরকারী ও যাচ্ঞাকারীকে যা দান করবেন তার চেয়ে অনেকগুণ উত্তম তাকে দান করবেন। অন্য কথায়, সে আল্লাহর দরবার থেকে যে মহাদান লাভ করবে, যিকরকারী ও যাচ্ঞাকারীরা তা কল্পনাও করতে পারবে না। রাসূলূল্লাহ ﷺ বলেন, এটা আল্লাহর তা'আলার অকাট্য ফয়সালা, আমি আমার এমন বান্দাকে তা থেকে অধিক ও উত্তম দান করবো, যা আমি কোন যিকিরকারী ও যাচ্ঞাকারীকে দান করে থাকি।
দ্বিতীয় যে কথাটি এ হাদীসে বিবৃত হয়েছে তা হলো, আল্লাহর কালাম অন্যদের কালাম থেকে ঠিক তেমনি মর্যাদাপূর্ণ, যেমন মর্যাদাপূর্ণ স্বয়ং তিনি তাঁর সমগ্র সৃষ্টিকুলের তুলনায়। আর তার কারণও এটাই যে, কুরআন আল্লাহ তা'আলার কালাম এবং তাঁর অবিচ্ছিন্ন গুণ বিশেষ, যা' তাঁরই সত্তার মত অবিনশ্বর।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)