মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
৯- কুরআনের ফাযাঈল অধ্যায়
হাদীস নং: ২১৫৬
- কুরআনের ফাযাঈল অধ্যায়
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২১৫৬। হযরত ইবনে আব্বাস ও আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ 'সূরা ইযা যুলযিলাত' (সওয়াবে) কোরআনের অর্ধেকের সমান, 'কুল হুওয়াল্লাহু' এক-তৃতীয়াংশের সমান এবং 'কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরূন' এক-চতুর্থাংশের সমান। – তিরমিযী
كتاب فضائل القرآن
وَعَن ابْن عَبَّاس وَأنس بن مَالك رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: (إِذا زلزلت)
تعدل نصف الْقُرْآن (قل هُوَ الله أحد)
تعدل ثلث الْقُرْآن و (قل يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ)
تَعْدِلُ رُبْعَ الْقُرْآنِ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
تعدل نصف الْقُرْآن (قل هُوَ الله أحد)
تعدل ثلث الْقُرْآن و (قل يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ)
تَعْدِلُ رُبْعَ الْقُرْآنِ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
হাফেয তুরপেশতী বলিয়াছেন, হাদীসটি যয়ীফ। কেননা, ইহার রাবী আবু হুযায়ফা ইয়ামান ইবনে মুগীরা যঈফ আর ইমাম বুখারীর মতে মুনকার। ইহা অপর এক হাসান হাদীসের বিপরীত। উহাতে বলা হইয়াছে, সূরা ইযা ফুলযিলাত — সূরা কাফিরূনের ন্যায় কোরআনের এক-চতুর্থাংশের সমান। (তা'লীক)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
সূরা ইযা যুলযিলাতের মধ্যে কেয়ামতের আলোচনা ও এর চিত্রায়ণ খুবই মর্মস্পর্শী ভাষায় করা হয়েছে। এমনিভাবে এর শেষ আয়াত
فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ
এর মধ্যে পুরস্কার ও শাস্তির বর্ণনা সংক্ষিপ্তভাবে হলেও এমন মর্মস্পর্শী ভঙ্গিতে করা হয়েছে যে, যদি এ বিষয়ের উপর একটি পূর্ণাঙ্গ কিতাবও লিখা হয়, তবুও এর চেয়ে বেশী ফলপ্রসূ হবে না। সম্ভবত এ সূরার এই বৈশিষ্ট্যের কারণে এটাকে হাদীসে কুরআনের অর্ধাংশের সমান বলা হয়েছে। অনুরূপভাবে সূরা ইখলাসের মধ্যে অতি সংক্ষেপে আল্লাহর তওহীদ, তাঁর পবিত্রতা ও পরাকাষ্ঠা গুণ যে মুজেযাসুলভ ভঙ্গিমায় বর্ণনা করা হয়েছে, এটাও এ সূরার বৈশিষ্ট্য। আর সম্ভবত এ কারণেই এটাকে কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান বলা হয়েছে। সূরা কাফিরুনের মধ্যে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাবে শিরক ও মুশরিকদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়ে যেভাবে খাঁটি তওহীদের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, (যা হচ্ছে দ্বীন ইসলামের ভিত্তিমূল।) এটা হচ্ছে এ সূরার বৈশিষ্ট্য এবং সম্ভবত এ কারণেই এ হাদীসে এটাকে কুরআনের এক চতুর্থাংশের সমান বলা হয়েছে।
فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ
এর মধ্যে পুরস্কার ও শাস্তির বর্ণনা সংক্ষিপ্তভাবে হলেও এমন মর্মস্পর্শী ভঙ্গিতে করা হয়েছে যে, যদি এ বিষয়ের উপর একটি পূর্ণাঙ্গ কিতাবও লিখা হয়, তবুও এর চেয়ে বেশী ফলপ্রসূ হবে না। সম্ভবত এ সূরার এই বৈশিষ্ট্যের কারণে এটাকে হাদীসে কুরআনের অর্ধাংশের সমান বলা হয়েছে। অনুরূপভাবে সূরা ইখলাসের মধ্যে অতি সংক্ষেপে আল্লাহর তওহীদ, তাঁর পবিত্রতা ও পরাকাষ্ঠা গুণ যে মুজেযাসুলভ ভঙ্গিমায় বর্ণনা করা হয়েছে, এটাও এ সূরার বৈশিষ্ট্য। আর সম্ভবত এ কারণেই এটাকে কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান বলা হয়েছে। সূরা কাফিরুনের মধ্যে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাবে শিরক ও মুশরিকদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়ে যেভাবে খাঁটি তওহীদের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, (যা হচ্ছে দ্বীন ইসলামের ভিত্তিমূল।) এটা হচ্ছে এ সূরার বৈশিষ্ট্য এবং সম্ভবত এ কারণেই এ হাদীসে এটাকে কুরআনের এক চতুর্থাংশের সমান বলা হয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)