মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
১০- যাবতীয় দোয়া-যিক্র
হাদীস নং: ২২২৫
- যাবতীয় দোয়া-যিক্র
প্রথম অনুচ্ছেদ
২২২৫। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন: যখন তোমাদের কেহ দোআ করে, সে যেন না বলে যে, হে খোদা আমাকে মাফ কর যদি তুমি চাহ, আমার প্রতি দয়া কর যদি তুমি চাহ, আমাকে রিযিক দাও যদি তুমি চাহ বরং সে যেন দৃঢ়তার সহিত পেশ করে প্রার্থনা। তিনি যাহা ইচ্ছা তাহা করেন, তাহাকে বাধা দিবার কেহই নাই। -বুখারী
كتاب الدعوات
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا دَعَا أَحَدُكُمْ فَلَا يقُلْ: اللهُمَّ اغفِرْ لي إِنْ شِئتَ ارْحمْني إِنْ شِئْتَ ارْزُقْنِي إِنْ شِئْتَ وَلِيَعْزِمْ مَسْأَلَتَهُ إِنَّه يفعلُ مَا يَشَاء وَلَا مكره لَهُ . رَوَاهُ البُخَارِيّ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এর মর্ম হচ্ছে, দৈন্য ও অক্ষমতা, নিজের কাঙালপনা ও মুখাপেক্ষিতার দাবী হচ্ছে, বান্দা তার সদয় মেহেরবান প্রভুর দরবারে সম্পূর্ণ সংশয়মুক্ত ও দোদুল্যমানতামুক্ত হৃদয়মন ও বিশ্বাস নিয়ে তার হাজত পেশ করবে। এরূপ বলবে না যে, হে আল্লাহ, তুমি যদি চাও তা হলে দাও। এতে কিছুটা বেপরোয়া মনোভাবের অভিব্যক্তি ঘটে। এটা মাকামে আবদিয়াত ও প্রার্থনার পরিপন্থী। (ভাবখানা যেন এই, তুমি না দিলেও তেমন কিছু যায়-আসে না) এভাবে দু'আ মোটেও প্রাণবন্ত হয় না। তাই বান্দার উচিত এরূপ বলা যে, হে আমার প্রভু, হে আমার দয়াল মনিব! আমার এ অভাব তোমাকে মিটাতে হবে (তুমি ছাড়া কে আমার অভাব মিটাবে, প্রার্থনা কবুল করবে?) এতে কোন সন্দেহ নেই যে, তিনি যা চাইবেন তাই করবেন, এমন কোন সত্তা নেই যে তাঁর উপর চাপ প্রয়োগ করে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)